তেলে-জলেই ভাল থাকে চুল। এমনই বলেন বাড়ির বড়রা। ছোটবেলায় মায়েরা রীতিমতো জোর করে চুলে তেল মালিশ করে দিতেন। সে সময়ে বিরক্তি লাগলেও, এখন বেশ বোঝা গিয়েছে তেলেই চুল তাজা থাকে। বাজারে হরেক রকম তেল বেরিয়ে গিয়েছে। কোনওটা রুক্ষ চুলের জন্য, কোনওটা কোঁকড়ানো চুলের জন্য। তাদের নানা ধরন, বিভিন্ন দাম। দরকার শুধু সঠিক তেলটি বেছে নেওয়ার। এর জন্য এত খাটনির প্রয়োজন নেই। কেনা তেল সকলের জন্য উপযোগী না-ও হতে পারে। তাই মাথায় মাখার তেল বানিয়ে নিন বাড়িতেই।
ভেষজ তেল বাড়িতেই তৈরি করা যায়। শুধু সঠিক উপকরণ নির্দিষ্ট মাপে মেশাতে হবে। রইল তেমনই কিছু রেসিপি।
অ্যালো ভেরা ও নারকেল তেল
খুব রুক্ষ ও শুষ্ক চুলের জন্য এই তেল ভাল। খুশকির সমস্যা নাজেহাল করে দিলে, এই তেল মাখতে পারেন। ১ কাপ নারকেল তেল ও আধ কাপ অ্যালো ভেরা জেল মিশিয়ে নিয়ে অল্প আঁচে ১০-১৫ মিনিট গরম করতে হবে। ঠান্ডা করে ছেঁকে কাঁচের শিশিতে ভরে রাখুন।
আরও পড়ুন:
জবা ফুল ও কারিপাতার তেল
জবা ফুল প্রাকৃতিক কন্ডিশনার এবং কারিপাতা চুলের অকালপক্বতা রোধ করে। এই তেল বানাতে ৫-৬টি লাল জবা ফুল, এক মুঠো কারিপাতা নিতে হবে। সঙ্গে লাগবে এক কাপের মতো নারকেল বা তিল তেল। ফুল ও পাতা বেটে নিয়ে তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। রং বদলালে নামিয়ে নিন। সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করলে চুল ভাল থাকবে।
আমলকি ও মেথির তেল
চুলের জেল্লা ফেরাতে এই তেল তৈরি করতে পারেন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ আমলকি চুলের গোড়া মজবুত করে ও মেথি খুশকি কমায়। ২ চামচ মেথি দানা ও ৩-৪টি শুকনো আমলকি পিষে নিন। এর সঙ্গে এক কাপের মতো নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। তার পর এই মিশ্রণে একমুঠো কারিপাতা মিশিয়ে ভাল করে মিনিট দশেক ফোটান। ফুটে ঘন হয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে নিন। তার পর কাচের শিশিতে ভরে রাখুন।
ল্যাভেন্ডার ও ক্যাস্টর অয়েল
ক্যাস্টর অয়েল খুব ঘন হয়, তাই এটি নারকেল তেলের সঙ্গে মেশানো জরুরি। ২ চামচ ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে ৫ চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে হালকা গরম করে নিন। তার পর এতে ৫ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে চুলে মালিশ করুন। এই তেল সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করলে চুল নরম ও মসৃণ হবে।