যত দিন যাচ্ছে, অনেক কিছুর মতোই বাঙালি বিয়েতেও ঢুকে পড়ছে অন্য জায়গার রীতিরেওয়াজ। বর-কনের মনের ইচ্ছা অনুযাযী যুক্ত হয়েছে অন্যান্য সংস্কৃতির নিয়ম। যেমন, ‘গায়েহলুদ’ নাম বদলে হয়েছে ‘হলদি’। তার মধ্যে জুড়েছে পর্দায় দেখা নানা রকম নিয়ম। দুপুরের ‘আইবুড়োভাত’-এর সঙ্গে সন্ধ্যায় দোসর ‘সঙ্গীত’ বা ‘মেহন্দি’র মতো অনুষ্ঠান। সেই ‘ট্রেন্ড’-কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নতুন করে বাঙালিদের আদি সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চলও দেখা যাচ্ছে মাঝেমধ্যে। বিয়ের আগের দিন মেহন্দি অনুষ্ঠান না করে যেমন হল ‘আলতা অনুষ্ঠান’। সেই আলতা পরা ঘিরেও হল হইহই।
বছরকয়েক ধরে চিরাচরিত সাবেকি ‘আইবুড়োভাত’, তার পর বিয়ে-বৌভাতের অনুষ্ঠানের স্বাদবদল করতে ‘মেহন্দি’ বা ‘সঙ্গীত’-এর আগমন ঘটেছে বাঙালি বাড়িতে। তবে আবার ‘ট্রেন্ড’-এ ফিরছে আলতা। আর বিয়ের আগে এমনিতেই হাত-পায়ে আলতা পরতে আজকাল আবার দেখা যায় মেয়েদের।
বিয়ের ‘আলতা অনুষ্ঠান’-এ অনন্যা গুহ। ছবি: সংগৃহীত।
ঘটা করে সেই আলতা পরার অনুষ্ঠানের আলাদা নামকরণও হয়েছে। এমন দেখা গেল ছোটপর্দার অভিনেত্রী অনন্যা গুহের বিয়েতে। ৯ মার্চ বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। বিয়ের আগের দিন আয়োজন করেন ‘আলতা অনুষ্ঠান’-এর।
অনন্যার ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়াতেই অনেকের মনে কৌতূহল, এই ‘আলতা অনুষ্ঠান’ কী? মা-কাকিমাদের মুখে শোনা যায়, তাঁদের বিয়ের সময় আলতা পরানোর জন্য আলাদা এক জন আসতেন। তাঁদের পেশাই ছিল এটা। উৎসব-পার্বণের আগে বাড়ির সকল মেয়েকে আলতা পরানোর জন্যে লোক ডাকা হত। ঠিক যেমনটা মেহন্দির ক্ষেত্রে হয়। সকলে মিলে একসঙ্গে বসে আলতা পরার চল ছিল বহু যৌথ পরিবারেও।
বোন অনন্যাকে আলতা পরিয়ে দিচ্ছেন দিদি অলকানন্দা। ছবি: সংগৃহীত।
অনন্যাদের বাড়িতে সই রীতি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাঁর দিদি অলকানন্দার বিয়ে হয়েছে ২০২২ সালে। তখনও আয়োজন হয়েছিল এমনই একটি আলতা অনুষ্ঠানের।অলকানন্দাও পেশায় অভিনেত্রী। তিনি বললেন, “মেহন্দির অনুষ্ঠান তো বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গ নয়। আগে তো আলতা পরারই রেওয়াজ ছিল। চারবছর আগে আমার বিয়ে হয়। তখনই এই অনুষ্ঠান করার কথা ভাবি আমরা। সেই সময় বোনু (অনন্যা) আমাকে আলতা পরিয়ে দিয়েছিল।” অনন্যার বিয়েতেও বাইরে থেকে কাউকে ডাকা হয়নি। অভিনেত্রীকে আলতা পরিয়ে দিয়েছেন তাঁর দিদি। অনুষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অনন্যা-অলকানন্দার কল্যাণীর বাড়িও সাজানো হয়েছে সেই ভাবে। লালপাড় সাদা শাড়ি তার উপরে সাবেকি কাজ। সঙ্গে গাঁদাফুল দিয়ে সাজানো গোটা বাড়ি। মাসি, জেঠি, ঠাকুমা থেকে পাড়ার কাকিমারা ভিড় করেছিলেন শুধু অনন্যার আলতা সাজ দেখার জন্য। সেই সঙ্গে হাজির হয়েছিলেন হবু বর সুকান্ত কুণ্ডু। মালদহ থেকে বিয়ের কিছুটা আগেই চলে এসেছেন তিনি। যাতে বিয়ের কোনও অনুষ্ঠানই বাদ না যায়,সেই কারণে। হইহুল্লোড়ে ‘আলতা অনুষ্ঠান’ আরও যেন অন্যরকম হয়ে উঠেছিল।
যদিও এই বিশেষ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেও দর্শক নানা ধরনের আলোচনা করছে। ‘আলতা অনুষ্ঠান’-এর রাতেই পরিবার-পরিজন নিয়ে হুল্লোড়, নাচ-গানের আয়োজন করেন অনন্যা। ফলে সমাজমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের ছড়াছড়ি। তবে ‘মেহন্দি’র পরিবর্তে ‘আলতা অনুষ্ঠান’ বলে যে আলাদা আয়োজন করা হয়েছে, সেই উদ্যোগের প্রশংসাও করেছে একাংশ। অনেকে মনে করেন, এর পর বিয়েতে আলতা পরার চল বাড়বে।