সমাজে বহু নারী বা পুরুষ রয়েছেন, যাঁরা শুধুমাত্র একা হয়ে যাওয়ার ভয়েই খারাপ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না। কারণ, তাঁরা মনে করেন একা থাকাটা হয়তো আরও বেশি যন্ত্রণাদায়ক হবে। বিশ্বাস করতে পারেন না, তাঁরাও আবার ভালবাসা খুঁজে পেতে পারেন। ফলে ঝুঁকি নিতে ভয় পান। অভিনেত্রী শেফালি শাহ জানাচ্ছেন ওই দুর্বিষহ ভাবনার শিকার হয়েছিলেন তিনিও। তবে তা থেকে বেরিয়েও আসতে পেরেছেন।
প্রথম বিয়ে টেকেনি শেফালির। তবে বিয়ে ভেঙে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ ছিল না। শেফালির প্রথম স্বামী ছিলেন বলিউডের পরিচিত মুখ, অভিনেতা হর্ষ ছায়া। ৬ বছর সম্পর্কে ছিলেন তাঁরা। সেই সম্পর্ক ভাঙার পরে অভিনেত্রী বিয়ে করেন বলিউডের পরিচালক বিপুল শাহকে। আপাতত দুই সন্তানকে নিয়ে সুখী সংসার তাঁর। শেফালি বলেছেন, ‘‘আমাকে কেউ বলেনি, 'বেঁচে থাকার জন্য তুমি একাই যথেষ্ট। কাউকে লাগবে না তোমার। স্বামী নয়, বন্ধু নয়, ভাই বা বোনও নয়। তুমিই স্বয়ংসম্পূর্ণ।' আমাকে এটা নিজেকে বুঝতে হয়েছে। এটা ঠিকই যে, সেটা বোঝার জন্য অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে।’’
প্রাক্তন স্বামী হর্ষ ছায়ার সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙা সহজ হয়নি শেফালি শাহের। ছবি: সংগৃহীত।
জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী জানিয়েছেন, প্রত্যেকেরই জীবনে এমন একটি পর্যায় আসে, যেখানে দাঁড়িয়ে তাঁকে জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এমন একটি সিদ্ধান্ত, যেটি হয় তাঁকে আরও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে, নয়তো এগিয়ে দেবে আলোর পথে। শেফালির জীবনেও সেই মুহূর্ত এসেছিল। আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়েই সাহস করে ঝুঁকি নিয়েছিলেন তিনি। শেফালি বলেছেন, ‘‘আমাকে এক বন্ধু জিজ্ঞাসা করেছিলেন, 'যদি আর কোনও দিন মনের মানুষ খুঁজে না পাও, তা হলে কী হবে?' আমি বলেছিলাম, 'তবু আমাকে ঝুঁকিটা নিতেই হবে'।’’
বর্তমান স্বামী বিপুল শাহের সঙ্গে সুখে দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন শেফালি। ছবি: সংগৃহীত।
সম্পর্কের সুতো ছেঁড়া সহজ নয় একেবারেই। তবে শেফালি বলেছেন, ‘‘আমি বুঝতে পারছিলাম, এর পরে যাদি সম্পর্কটাকে আমি চালিয়ে নিয়ে যাই, তবে সেটা আমাকেই ভিতর ভিতরে শেষ করে দেবে।’’ অভিনেত্রী নিজেকে বুঝিয়েছিলেন, যে সম্পর্ক আনন্দ দিচ্ছে না, যে সম্পর্কে সম্মান নেই, যেখানে শুধু একরাশ খারাপ লাগাই রয়েছে, সেখানে জোর করে থেকে যাওয়া অর্থহীন। তীব্র মানসিক যন্ত্রণা থেকেই ওই সিদ্ধান্ত নেন শেফালি। সে কথা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেছেন, ‘‘বয়স যত বাড়ে, ততই মানুষকে সন্তুষ্ট করার ইচ্ছেটাও চলে যেতে থাকে। আমারও তা-ই হয়েছিল। আমি বুঝতে শিখেছি, আমি পিৎজ়া নই যে, সবাইকে আনন্দ দিতে হবে। সন্তুষ্ট রাখতে হবে। আমার প্রথম বিয়েই ওই দামি শিক্ষা দিয়েছে আমাকে।’’