বলিউডের মায়েরা সন্তান মানুষ করার ব্যাপারে নানা রকম উদাহরণ তৈরি করেছেন।
করিনা কপূর খান যেমন দুই পুত্রকে ক্যামেরা থেকে আড়াল করার মতো তারকাবৎ কিছুই করেননি। বরং দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরেছেন যত্র-তত্র। প্রকাশ্যে তাদের দুষ্টুমিকেও আলাদা করে গুরুত্ব দেননি। অনুষ্কা শর্মা আবার সন্তানের মুখ প্রকাশ্যে আনতে চাননি কোনও মতেই। দীপিকা পাড়ুকোন সন্তানপালনের জন্য কর্মক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ‘ওয়ার্ক আওয়ার’-এর দাবি করেছেন। ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন কাজ সংক্রান্ত সমস্ত দায়বদ্ধতাকে পাশে সরিয়ে, নিজের চেহারার পরোয়া না করে গুরুত্ব দিয়েছেন মেয়ের ভাল থাকায়, ভাল লাগায়। তার জন্য নানা সমালোচনা এবং কটুকথা শুনতে হলেও পিছু হটেননি। বলিউডের আর এক মা আলিয়া ভট্টও সন্তান মানুষ করার ব্যাপারে এক অন্য রকমের পন্থা অনুসরণ করছেন। সেই ভাবনা আবার খাস চিন দেশ থেকে ‘আমদানি’ করা।
২০২২ সালের নভেম্বরে রণবীর কপূর ও তাঁর সন্তান রাহার জন্ম দিয়েছেন আলিয়া। নায়িকা জানিয়েছেন, মেয়ের জন্মের পর তাঁর জীবনটা একেবারেই বদলে গিয়েছে। এখন তাঁর শয়নে-স্বপনে-জাগরণে শুধুই রাহার ভালমন্দের ভাবনা। আর সেই ভাবনায় আলিয়াকে সাহায্য করেছে একটি বই। যা এক চিনা দর্শন— ‘তাও তে সিং’ থেকে অনুপ্রাণিত।
মা-বাবার সঙ্গে রাহা। ছবি: সংগৃহীত।
বইয়ের নাম ‘দ্য প্যারেন্টস তাও তে সিং’। বইটির লেখক উইলিয়াম মার্টিন। আলিয়া জানিয়েছেন, চিনের তাও দর্শন শেখায়, সন্তানের লালনপালন নিয়ে খুব বেশি ব্যস্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই বাবা-মায়েদের। বরং সন্তান কী চাইছে, কী বলছে, তা শোনার ও বোঝার চেষ্টা করা এবং তাদের কোনও কঠিন নিয়মে না বেঁধে শুধু ঠিক আর বেঠিক বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া।
এ যুগের সদ্য বাবা-মায়েরা, যাঁরা সন্তানকে মানুষ করার পাশাপাশি নিজেরাও বাবা-মা হিসাবে রোজ নতুন জিনিস শিখছেন, তাঁরা নানা জনের কাছ থেকে নানা ধরনের উপদেশ শুনতে থাকেন। সমাজমাধ্যমে চোখ রাখলেও, অ্যালগরিদমের জাদুবলে নানা রকমের পরামর্শ ভিড় করে আসে ফোনের পর্দায়। এর মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক জন নতুন মা কিংবা বাবা ধন্দে পড়তেই পারেন। আলিয়া সেই ধন্দে পড়েননি।
অভিনেত্রী সন্তান মানুষ করার জন্য বেছে নিয়েছেন এক বিশেষ দর্শন। যে দর্শন শেখায় সন্তান মানুষ করার ক্ষেত্রে ট্রেন্ড-এ গা ভাসানোটা কাজের কথা নয়। বরং সন্তানের সঙ্গে কতটা জুড়ে থাকা যায় সেটাই আসল। বকাবকি নয়, শোনাটাই আসল। ভুল করতে না জানা ‘পারফেক্ট’ কন্যা বা পুত্রের চেয়ে কোনটা ঠিক বা কোন ভুল বলে দেওয়ার জন্য বাবা-মায়ের পাশে থাকাটাই আসল।