Advertisement
E-Paper

তারকা হয়েও কিসের অনিশ্চয়তায় ভোগেন নেহা? আপনিও কি ভুগছেন তাতে? কী ভাবে সম্ভব বেরিয়ে আসা

হাতে ছবি না থাকলে ভয়াবহ উদ্বেগে ভোগেন অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়া। কাজের অভাব না হলেও, অভিনয় করতে না পারার কষ্ট কুরে খায় তাঁকে। কাজ না থাকা বা কাজ হারানোর এই উদ্বেগ কেন হয়, কী ভাবে তার মোকাবিলা সম্ভব?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৭
তারকা হয়েও কাঁদতে হয় তাঁকে। কী নিয়ে উদ্বেগে ভোগেন অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়া?

তারকা হয়েও কাঁদতে হয় তাঁকে। কী নিয়ে উদ্বেগে ভোগেন অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়া? ছবি: ইনস্টাগ্রাম।

বলিউডে পরিচিত মুখ। অভিনয় করেছেন বহু ছবিতেই। ২০ বছর টানা অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরেও, এমন সময় এসেছে যখন তিনি কাজ পাননি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাখঢাক না করেই কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা, উদ্বেগের কথা প্রকাশ করলেন বলিডউ অভিনেত্রী নেহা ধুপিয়া।

হাতে ছবি না থাকায় তিনি যে আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েছেন, তা নয়। তবু ‘লাইমলাইট’ থেকে সরে যাওয়ার ভয় তাঁকে গ্রাস করেছে। তিনি খোলাখুলি জানিয়েছেন, কাজ না থাকলে চরম উৎকণ্ঠায় ভোগেন। সে উদ্বেগ এতটাই যে, ২০ বছর কাজ করার পরেও তা থেকে বেরোতে পারেননি। এখনও কাজ না থাকলে বালিশে মুখ লুকিয়ে কাঁদেন তিনি।

কাজ, ব্যস্ততা, অনুরাগীদের ভালবাসা, সকলের মনঃসংযোগ পাওয়ার মধ্যে এক উন্মাদনা আছে। তা কিন্তু শুধু অর্থের জন্য‌ই নয়। বিশেষত গ্ল্যামারজগতের একটা বাড়তি আকর্ষণও আছে। মধুর ভান্ডারকর তাঁর ‘ফ্যাশন’ ছবিতে তুলে ধরেছিলেন লাইমলাইট থেকে সরে যাওয়ার ভয়, মানসিক টানাপড়েনের বিষয়টি। তা যে কতটা বাস্তব, নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন বলিউড অভিনেত্রী নেহা। তিনি বলছেন, ‘‘৩-৪ বছর অভিনয় জগৎ থেকে দূরে থাকলেও আমার কাজের অভাব হয়নি।’’ কিন্তু কোথাও এর পরেও যেন অতৃপ্তি ঘিরে ধরেছে।

কেন হয় এমনটা? শুধু অভিনয়জগৎ নয়, যে কোনও পেশাতেই এমন টালমাটাল পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন যে কেউ। সে ক্ষেত্রে এই মানসিক লড়াই, আর্থিক সঙ্কটের মোকাবিলার উপায় কী?

গুরুগ্রাম নিবাসী মনোবিদ গুরলীন বড়ুয়া এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, কর্মক্ষেত্রে সফল, কাজপাগল বহু মানুষের কাছেই বিষয়টি শুধু অর্থ উপার্জন বা পেশায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং কর্মক্ষেত্রে তাঁর যে ভূমিকা, তা কোথাও গিয়ে আত্মপরিচয় হয়ে দাঁড়ায়। যদি কখনও কাজ বন্ধ হয়ে যায়, এমনকি কাজের মাত্রা কমে যায়, তাঁদের মনে হয় কিছু একটা হারিয়ে যাচ্ছে। আত্মবিশ্বাস টলে যায়। সাফল্য, মনোযোগ হারিয়ে ফেলার উদ্বেগ তাড়া করে বেড়ায়। সাফল্য অর্জন করেও সামান্য বিচ্যুতিতে তাঁরা নিজেদের ব্যর্থ বলে ভাবতে শুরু করেন। সাফল্যের চূড়া থেকে পড়ে যাওয়ার ভয় মনকে সন্ত্রস্ত করে তোলে।

এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলাবেন কী করে, পরামর্শ দিলেন মনো-সমাজকর্মী মোহিত রণদীপ। তিনি জানাচ্ছেন, অভিনয়জগৎ হোক বা বেসরকারি চাকরি, এমনকি সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের মধ্যেও কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাজ করে। কাজ হারালেই কারও ক্ষেত্রে যেমন আর্থিক অনিশ্চয়তা গ্রাস করে, কেউ আবার প্রতি দিনের ব্যস্ত ও অভ্যস্ত জীবনের হঠাৎ বদলকে মেনে নিতে পারেন না। কারও আবার নিজের উপর বিশ্বাস টলে যায়, প্রশ্ন জাগে, আর কি পুরোদমে কাজে ফেরা সম্ভব হবে? কেউ আবার সমাজমাধ্যমে সহকর্মী এবং বাকিদের সাফল্য দেখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন।

মোহিতের পরামর্শ—

· এই পরিস্থিতি থেকে বেরোনোর প্রথম ধাপই হল, একটু সময় দেওয়া। নিজের উপর আস্থা না-হারানো।

· চাকরি খোঁজার চেষ্টার পাশাপাশি নিজস্ব প্রতিভা কাজে লাগিয়ে অন্য কিছু করা সম্ভব কি না, ভেবে দেখা যেতে পারে। যদি আর্থিক সঙ্কটের মুখোমুখি হতে হয়, সে ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের বা স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের কাজের ব্যাপারে ভাবা যায়।

· জীবনে যখন সাফল্য রয়েছে, তখনই মিতব্যয়ী হওয়া জরুরি। কাজের পরিসর সারাজীবন একই রকম না-ও থাকতে পারে। তা মনে করেই অর্থ সঞ্চয় করলে, বিপদের সময় কিছু দিন অন্তত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

· দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ হলে মনের কথা বিশ্বাসযোগ্য মানুষের কাছে বলা যেতে পারে। কষ্টের কথা, সমস্যা বলতে পারলে মন হালকা হবে।

· নিয়ম করে একটু প্রাণায়াম করা গেলেও, মন খানিক শান্ত হবে।

Neha Dhupia Work-Related Anxiety
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy