পোষ্য সারমেয়র সারা দিনের খাওয়াদাওয়ায় অনেক কিছুই থাকে। কিন্তু একটু বেশি আদর যত্ন করে কখনও সখনও ব্রকোলি খেতে দেন কি? ব্রকোলি যে একটি উপকারী সব্জি সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। তবে পোষ্যকে খাওয়ানোর আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
ব্রকোলির উপকারিতা
ব্রকোলিতে ক্যালোরির পরিমাণ কম। প্রচুর ফাইবারও রয়েছে। তা ছাড়া রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, কে এবং এ। পোষ্য কুকুরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে এবং একই সঙ্গে হাড় এবং পেশির স্বাস্থ্য ভাল রাখতে চাইলে ব্রকোলি খাওয়ানো যেতেই পারে। তবে এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে।
কী কী সমস্যা হতে পারে ব্রকোলি খাওয়ালে?
১. ব্রকোলিতে ‘আইসোথিওসায়ানেট’ নামের এক ধরনের উপাদান থাকে, যা বেশি পরিমাণে পোষ্যের শরীরে গেলে গ্যাসের সমস্যা বা পেটখারাপ হতে পারে। যদি একান্তই খাওয়াতে চান, তবে পোষ্য সারা দিনে যা খাচ্ছে তার মোট পরিমাণের ১০ ভাগের এক ভাগ ব্রকোলি খাওয়ানো যেতে পারে।
২. ব্রকোলির ডাঁটি একটু শক্ত হয়। রান্না করার পরেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নরম হয় না। তাই খাওয়ার সময় পোষ্যের গলায় আটকে যেতে পারে। তাই দিতে হলে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে দিন।
৩. পোষ্যকে ব্রকোলি দেওয়ার সময় তাতে নুন, তেল, পেঁয়াজ, রসুন বা কোনও মশলা মেশাবেন না। কাঁচা বা হালকা ভাপে সেদ্ধ করে ব্রকোলি দিতে পারেন। ভাল ভাবে সেদ্ধ করা ব্রকোলি হজম করা কুকুরের পক্ষে সহজ। মশলা দিলে তা হজম করতে সমস্যা তো হবেই, অন্ত্রের সমস্যাও হতে পারে।
ব্রকোলির বদলে একই গুণসম্পন্ন আর কী দেওয়া যেতে পারে?
ব্রকোলি লো ক্যালোরি এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া ওই একই ধরনের উপকার পেতে পারেন কিছু চেনা সব্জিতেই।
বিন
বিন কুকুরের জন্য নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর সব্জি। এতে ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং ভিটামিন কে থাকে, যা হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এটি লো ক্যালোরি খাবার এবং এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় তা পোষ্যের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে।
কী ভাবে দেবেন: কাঁচা বা হালকা সেদ্ধ করে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে দিতে পারেন।
পালংশাক
পালংশাকও কুকুরের হাড় মজবুত করতে ভাল কাজ করে। পালংশাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম এবং ভিটামিন কে থাকে। যা হাড়ের প্রোটিন ধরে রাখতে সাহায্য করে, হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতেও সাহায্য করে। এ ছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন এ এবং ফাইবার থাকে, যা পোষ্যের রক্তাল্পতাও দূর করে।
কী ভাবে দেবেন: পালংশাক কাঁচা না দিয়ে হালকা ভাপে সেদ্ধ করে দেওয়া সবচেয়ে ভাল। সেদ্ধ করার পর এটি ভাল করে কুচিয়ে বা থেঁতো করে নিয়মিত কুকুরের খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দিন।
শসা
যদি পোষ্য কুকুরের ওজন কমাতে চান, তবে খাবারে নিয়মিত শসা দিতে পারেন। শসায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন কে থাকে, যা হাড় ভাল রাখতে সাহায্য করে। তা ছাড়া এতে প্রায় ৯৬ শতাংশ জল থাকে, যা পোষ্যের শরীরকে ভিতর থেকে আর্দ্র রাখে।
কী ভাবে দেবেন: খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরো করে কেটে দিন।
ফুলকপি
ব্রকোলির ভাল বিকল্প হতে পারে ফুলকপি। এতে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে, দুই-ই আছে। ব্রকোলির তুলনায় এতে আইসোথিওসায়ানেটও অনেক কম থাকে। এটি খাবার থেকে ক্যালশিয়াম শোষণে সাহায্য করে। ফলে হাড়ের জন্য উপকারী।
কী ভাবে দেবেন: সেদ্ধ করে বা ভাপিয়ে নিয়ে তার পরে চটকে করে বা ছোট টুকরো করে দিতে পারেন।
গাজর
গাজর কুকুরের পছন্দের খাবার। উপকারীও। এতে থাকা সিলিকন হাড় এবং তার সংলগ্ন পেশিতন্তুগুলিকে ভাল রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া পটাশিয়াম এবং ভিটামিন এ-তে ভরপুর এই সব্জি পোষ্যের হার্ট এবং ত্বকের জন্যও ভাল।
কী ভাবে দেবেন: গাজর টুকরো করে কাঁচাই খেতে দিন। কাঁচা গাজর চিবোলে তা দাঁতে জমে কঠিন হয়ে যাওয়া ময়লার আস্তরণ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।