Advertisement
E-Paper
WBState_Assembly_Elections_Lead0_02-05-26

Retina: রেটিনায় যখন

ম্যাকুলার হোল রেটিনার একটি গুরুতর সমস্যা। দেরি করলে ক্ষতির সম্ভাবনা সমূহ।

মধুমন্তী পৈত চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:০১

টিউবলাইটের দিকে তাকালে মনে হচ্ছে, লাইটের মাঝখানে যেন গর্ত রয়েছে! কোনও মানুষের মুখের দিকে তাকালে মনে হচ্ছে, মুখটা কালো ও ঝাপসা। এমন সমস্যা কি আপনার প্রায়শই হচ্ছে? তখন বুঝতে হবে, সমস্যাটি রেটিনার। রেটিনার ম্যাকুলায় ছিদ্র হলে দৃষ্টিজনিত এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব, চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন। দেরি হলে দৃষ্টিশক্তি ফেরার সম্ভাবনা কমতে থাকে।

ম্যাকুলার হোল কী?

চোখের রেটিনার সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ ম্যাকুলা। এটি থাকে রেটিনার একেবারে কেন্দ্রস্থলে। ম্যাকুলা-র কেন্দ্রে থাকে ফোভিয়া সেন্ট্রালিস। এই অংশে ছিদ্র তৈরি হলে, সেটিকে বলা হয় ম্যাকুলার হোল। এই রোগ হলে দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ ক্ষীণ হতে থাকে। দূরের বস্তু বাঁকা, কালো, মাঝখানে গর্ত রয়েছে... এমন ভাবে দেখতে পান রোগী। অর্থাৎ ব্যক্তির ‘বাইনোকুলার সিঙ্গল ভিশন’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কোন বয়সে এই রোগ হয়?

রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডা. শুভেন্দু বড়ালের মতে, ‘‘সাধারণত মধ্যবয়সি মহিলাদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। পঞ্চাশোর্ধ্ব থেকে শুরু করে সত্তর বছর বয়সি মহিলাদের এই রোগ হতে পারে। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৩:১ বেশি। তবে এই বয়সের মহিলারা রোগ নিয়ে সচেতন নন। অবহেলার কারণে চিকিৎসা শুরু হয় দেরিতে।’’

রোগের কারণ

ম্যাকুলার হোলের দু’টি কারণ রয়েছে— প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি।

প্রাইমারি কারণ অর্থাৎ যে ক্ষেত্রে রোগের কারণ ঠিক ভাবে জানা যায় না। বার্ধক্যজনিত কারণে হতে পারে।

সেকেন্ডারি কারণ অর্থাৎ শরীরের অন্য কোনও রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে রেটিনার ক্ষতি হচ্ছে। যেমন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিসের কারণে রেটিনোপ্যাথি হতে পারে। বা চোখের রেটিনায় স্ট্রোক হলে শিরাগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে গিয়ে ম্যাকুলায় ফ্লুয়িড জমা হতে পারে। এটিকে বলা হয় ম্যাকুলার ইডিমা। সেটির থেকেও গর্ত তৈরি হতে পারে।

রোগনির্ণয়

সাধারণত চিকিৎসকেরা রোগীর চোখ দেখেই বুঝতে পারেন, সমস্যাটি ম্যাকুলার হোল কি না। অথবা ওসিটি (অপটিক্যাল কোহেরেন্স টোমোগ্রাফি) স্ক্যান করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হয়।

চিকিৎসা

ম্যাকুলার হোলের চিকিৎসা ওষুধ দিয়ে সম্ভব নয়। এর একটিই ওষুধ, সার্জারি। রোগনির্ণয়ের ছ’মাসের মধ্যে সার্জারি হলে, দৃষ্টিশক্তি অনেকটাই ফেরানো সম্ভব। যত দেরি হবে, তত দৃষ্টিশক্তি ফেরার সম্ভাবনাও কমবে।

ডা. বড়ালের মতে, ‘‘সার্জারির সাফল্য ৯২-৯৯ শতাংশ।’’ ২০০২ সাল থেকে রেটিনার এই সার্জারি উন্নত হয়েছে। চিকিৎসা শাস্ত্রে এটি এখন প্রামাণ্য পদ্ধতি বলে স্বীকৃত। বিভিন্ন পর্যায়ে রেটিনার ফ্লুয়িড বার করে ওই ছিদ্র বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। তবে এই সার্জারির পরেও রোগীকে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন, রোগী চেয়ার-টেবলে বসে হাতের উপরে ভর দিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে রাখবে নীচের দিকে। সার্জারির পরে তিন-চার দিন এরকম থাকলে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গর্তটি বন্ধ হয়ে যায়। সাত-দশদিন পরে ওসিটি স্ক্যান করে দেখা হয়, ছিদ্রটি আদৌ বন্ধ হয়েছে কি না।

এ ছাড়া অ্যামনিয়োটিক মেমব্রেন গ্রাফ্ট, অটোলোগাস রেটিনাল গ্রাফ্টের মাধ্যমেও এই চিকিৎসা হয়। প্রাইমারি সার্জারি করার পরে যদি আশানুরূপ ফল না পাওয়া যায়, তখন উপরোক্ত দু’টি পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হয়।

কয়েকটি বিরল ক্ষেত্রে রোগী হয়তো বললেন, তিনি একেবারেই দেখতে পাচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে হয়তো ম্যাকুলার হোলের কারণে রেটিনা ডিট্যাচমেন্ট হতে পারে। জটিল পরিস্থিতিতে একদিনের ব্যবধানেই অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে।

ম্যাকুলার হোলের কারণে দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমতে থাকে। তাই রোগটিকে অবহেলা করার কোনও কারণ নেই। সময়মতো সাবধানতা অবলম্বন করলে রোগমুক্তি সম্ভব।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy