নরম স্পঞ্জের মতো ধোকলা বানাতে চান? কিন্তু যতই চেষ্টা করুন, বাড়িতে বানাতে গেলে ধোকলা শক্ত, চ্যাপ্টা বা একেবারে ভিজে ভিজে হয়ে যায়। আদপে ছোট ছোট কিছু ভুলই জনপ্রিয় গুজরাতি খাবারটির স্বাদ ও টেক্সচার নষ্ট করে দেয়। তাই নিখুঁত ধোকলা বানাতে হলে আগে সাধারণ ভুলগুলি জানা জরুরি।
রান্নার কোন কোন ভুলে ধোকলা শক্ত বা ভিজে হয়ে যেতে পারে?
১. সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় উপকরণের অনুপাত ঠিক না রাখলে। বেসন, জল বা দইয়ের পরিমাণ ঠিক না হলে ব্যাটার সঠিক ভাবে তৈরি হয় না। এতে ধোকলার টেক্সচার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বেশি বেসন দিয়ে ফেললে ধোকলা শক্ত হয়ে যাবে, বেশি দই বা জল দিয়ে দিলে ভিজে ভাব বেড়ে যাবে। ব্যাটারের ঘনত্ব ঠিক না হলে হলে ধোকলা ফুলে উঠতে পারে না। বেশি পাতলা হয়ে গেলে সেটি বসে যায় এবং ভিজে ভিজে হয়ে যায়। তাই মসৃণ, অথচ ঘন ব্যাটার বানানো দরকার।
রান্নার কোন কোন ভুলে ধোকলা শক্ত বা ভিজে হয়ে যেতে পারে? ছবি: সংগৃহীত
২. ফারমেন্টেশন বা মজানোর ধাপ এড়িয়ে গেলে বা ঠিক ভাবে না করলে পছন্দ মতো ধোকলা বানাতে পারবেন না। ধোকলার ক্ষেত্রে ব্যাটার ফারমেন্ট হওয়া খুব জরুরি। কম হলে ধোকলা শক্ত হয়ে যায়, আর বেশি মজে গেলে অতিরিক্ত টক স্বাদ চলে আসে।
৩. বেশি পরিমাণে বেকিং সোডা বা ফ্রুট সল্ট ব্যবহার করে ধোকলা নষ্ট করে ফেলেন অনেকে। বেকিং সোডা ধোকলাকে ফোলাতে সাহায্য করে ঠিকই, কিন্তু বেশি দিলে তেতো হয়ে যায়। আবার খুব আগে থেকে মিশিয়ে রাখলেও এর কার্যকারিতা কমে যায়। তাই সব সময় স্টিম করার ঠিক আগে এবং পরিমিত পরিমাণে দিতে হয়।
৪. স্টিম বা ভাপানোর সময় কম-বেশি হয়ে গেলেই ধোকলা কাঁচা থাকে বা শক্ত হয়ে যায়। তাই মাঝারি আঁচে সঠিক সময় ধরে ভাপাতে হবে এবং টুথপিক দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে, ধোকলা প্রস্তুত কি না।
৫. ধোকলা বানানোর গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল ফোড়ন। অনেকেই ভাবে্ এই ধাপ এড়িয়ে গেলেও চলে, কিন্তু আসলে ফোড়ন ধোকলার স্বাদকে সম্পূর্ণ করে। সর্ষে, কারিপাতা, কাঁচালঙ্কা, জল ও সামান্য চিনি দিয়ে তৈরি এই ফোড়ন ধোকলাকে আরও নরম ও সুস্বাদু করে তোলে।