একটা সময় ছিল যখন গরম পড়লেই ঘরে ঘরে মাটির কলসি কিংবা মাটির তৈরি কুঁজোর ঠান্ডা জল খাওয়া হত। যে দিন থেকে রেফ্রিজারেটর বাঙালির সাধ্যের মধ্যে এল, সে দিন থেকেই মাটির হাঁড়ি-কলসীর চাহিদা কমে গেল। তবে এখনও অনেক বাড়িতে পুরনো এই অভ্যাস রয়ে গিয়েছে। বাড়িতে ফ্রিজ থাকলেও শখ করে অনেকে মাটির কলসিতে জল ভরে রেখে খান। বিশেষ করে, মাটির কলসিভর্তি জলের স্বাদে যে এক ধরনের স্বস্তি আর স্বাভাবিক শীতলতা মেলে, সেটা অনেকেরই ভাল লাগে।
গরমের দিনে রোদ থেকে বাড়ি ফিরে ফ্রিজের ঠান্ডা জলে চুমুক দিলেই গলাব্যথা, সর্দি-কাশি হওয়া নিশ্চিত। এই ঝুঁকি দূর করতে চাইলে মাটির হাঁড়িতেই ভরসা রাখতে পারেন। মাটির কলসীতে রাখলে এমনিতেই জল ঠান্ডা থাকে। তবে আরও বেশি ঠান্ডা জল চাইলে মানতে পারেন কিছু ঘরোয়া উপায়।
১) মাটির কলসীর চারপাশে একটি ভিজে সুতির কাপড় জড়িয়ে রাখুন। এমনটা করলে বাষ্পীভবন এবং শীতলীকরণ প্রক্রিয়া আরও ভাল ভাবে হয়। কাপড় থেকে জল বাষ্পীভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পাত্র থেকে তাপ শোষণ করে নেয়, ফলে সঞ্চিত জলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায় এবং সারা দিন ধরে জল ঠান্ডা থাকে। কাপড়টি শুকিয়ে এলে আবারও ভিজিয়ে নিতে হবে।
২) একটি ভিজে পাটের বস্তা দিয়ে মাটির কলসীটি ঢেকে রাখলে তার উপরিভাগে আর্দ্রতা বজায় থাকে। পাটের ভিতরের জল বাষ্পীভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি পাত্র থেকে তাপ শোষণ করে নেয়, ফলে পাত্রের জল ঠান্ডা থাকে।
৩) মাটির কলসীর ঢাকা সব সময় যেন ভাল ভাবে বন্ধ থাকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। যেন চারপাশের গরম হাওয়া কলসীর ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে। সপ্তাহে দু’ থেকে তিন দিন মাটির পাত্র পরিষ্কার করুন।