আম-মরসুম বলে কথা, রোজ দু’বেলা প্রিয় ফলটি না খেলে হয়? আর তাই বাজার থেকে থলেভর্তি আম এসে জমছে বাড়িতে। পাকা আমের পাশাপাশি হেঁশেলে জমছে হালকা কাঁচাও। ভাবছেন হয়তো যে, পুরোপুরি পেকে গেলে তার পরে খাবেন। আর তাই ভ্যাপসা আবহাওয়া থেকে রক্ষা করতে ফ্রিজে ভরে রাখছেন ফলগুলি। ঠিক সেখানেই হয়ে যাচ্ছে ভুল।
কাঁচা বা আধপাকা আম খুব তাড়াতাড়ি ফ্রিজে রাখলে টাটকা থাকার বদলে তার স্বাদ, গন্ধ ও গঠন নষ্ট হয়ে যায়। তাই আম পুরো পেকে যাওয়ার আগে ফ্রিজে না রাখাই উচিত। ভাবছেন, এ আবার কেমন নিয়ম?
আম রাখুন সঠিক উপায়ে। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রিজে আম রাখলে পাক ধরায় অসুবিধা হয় কেন?
আম আসলে উষ্ণ আবহাওয়ার ফল। এটি স্বাভাবিক ভাবে ঘরের তাপমাত্রাতেই সবচেয়ে ভাল পাকে। খুব তাড়াতাড়ি ঠান্ডা জায়গায় রাখলে ফলে পাক ধরার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার গতি ধীর হয়ে যেতে পারে, এমনকি কখনও তা থমকেও যেতে পারে। ফলে বাইরে থেকে হলুদ দেখালেও ভিতরে শক্ত থেকে যেতে পারে আম। অনেক সময়েই এমন ভাবে প্রতারিত হয়েছেন নিশ্চয়ই! ফলের গাত্র হলদেটে দেখে কাটতে গিয়েই ভুল বুঝেছেন। হালকা কাঁচা, হালকা টক বা মিষ্টি ভাব প্রায় নেই বললেই চলে। তাই এর পর থেকে সতর্ক হয়ে চললে এমন বিপাকে পড়তে হবে না।
তা ছাড়া আমের প্রকৃত মিষ্টি স্বাদ ও গন্ধ তৈরি হয় পাকতে পাকতেই। কিন্তু বাজার থেকে এনেই ফ্রিজে ভরে রাখলে সেই প্রক্রিয়া বাধা পেতে পারে। ফলে আমের সঠিক স্বাদ, ঘ্রাণ কিছুই তৈরি হয় না। গঠন তৈরির ক্ষেত্রেও অসুবিধা হতে পারে। যে মোলায়েম, নরম আমের প্রত্যাশায় বাজারে গিয়েছিলেন, সেই আম আপনারই ভুলে দানাদার হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন:
তা হলে কখন ফ্রিজে রাখবেন?
আম যখন নরম হতে শুরু করবে এবং ডাঁটি থেকে মিষ্টি গন্ধ পাওয়া যাবে, তখন তা ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। তখন আবার বাইরে রেখে দিলে হিতে বিপরীত হবে। অতিরিক্ত পেকে গিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সাধারণত পুরোপুরি পেকে যাওয়া আম ফ্রিজে কয়েক দিন ভাল থাকে। তাই যখনই দেখবেন, হালকা চাপ দিলে ফলটি নরম মনে হচ্ছে, বা ডাঁটির কাছে মিষ্টি গন্ধ থাকবে, অথবা রং কিছুটা বদলে যাচ্ছে, তখনই বুঝবেন, আম পেকে গিয়েছে।