কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এনসেফ্যালাইটিসে আক্রান্ত হয়ে শনিবার রাত থেকে রবিবার বিকেল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরও ৮ জন মারা গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬ জন মহিলাও রয়েছেন।
অ্যাকিউট এনসেফ্যালাইটিসের উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালে ৭ জুলাই থেকে এই নিয়ে মোট ৫৯ জনের মৃত্যু ঘটল। জুলাইয়ের গোড়া থেকে এই উপসর্গ নিয়ে অন্তত দু’শো রোগীর চিকিৎসা হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বেশ কয়েকজন রোগীর রক্ত এবং সেরিব্রো স্পাইনাল ফ্লুইড (সিএসএফ) পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এসেছে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তাতে রোগীদের অনেকের শরীরেই জাপানি এনসেফ্যালাইটিসের জীবাণু মিলেছে। সেই রোগীদের অনেকে মারাও গিয়েছেন।
সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গের ৭টি জেলাতেই এনসেফ্যালাইটিস নিয়ে সতর্কতা জারি করা হচ্ছে। ওই দিন সকালেই উত্তরকন্যায় ৭টি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে এই বিষয়ে জরুরি বৈঠকও ডাকা হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথীর সেই বৈঠকে থাকার কথা।
কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও রবিবার ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল, মেডিসিন বিভাগে কোনও কোনও ওয়ার্ডে চিকিৎসক নেই। হাসপাতাল সুপারের দফতরও সারা দিন বন্ধ ছিল। বিকেলে সুপার এসে ওয়ার্ডগুলি পরিদর্শন করে চলে যান। রোগীদের দাবি, বারবার খোঁজ করেও চিকিৎসকদের দেখা মেলেনি।
হাসপাতালের সুপার অমরেন্দ্র সরকার অবশ্য দাবি করেন, “চিকিৎসকরা রয়েছেন। নজরদারি সব সময়ই চলছে।” তিনি জানান, এনসেফ্যালাইটিসের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি বয়স্ক রোগীদের অন্য রোগের উপসর্গও পরীক্ষায় ধরা পড়েছে। তাঁদের সেই চিকিৎসাও চলছে।
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে মারা গিয়েছেন সাইমা বিবি (২৬)। বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরে। গভীর রাতে মিনু দেব সিংহ (৩৫) নামে আরও এক মহিলার মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি হলদিবাড়ি এলাকায়। রবিবার ভোরে মারা যান কুলসুমবিবি (৪৪)। তিনি ধুবুরির বাসিন্দা। কোচবিহারের সাত মাইলের বাসিন্দা সুচিত্র বর্মন (৫৫), কিসানগঞ্জের বাসিন্দা খাজিমাও (৪০) এ দিন মারা গিয়েছেন। দুপুরে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়। তাঁরা হলেন শিলিগুড়ির মাটিগাড়ার বাসিন্দা শোভা শর্মা (২৮), ধূপগুড়ির মহম্মদ আলি (৭০) এবং ফরাক্কার বাসিন্দা জহর আলি (৫৫)। সকলেই অ্যাকিউট এনসেফ্যালাইটিসের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন।
শুক্রবার গভীর রাতে তুস্তা মণ্ডল (৫৫) নামে ভক্তিনগর এলাকার এক বাসিন্দা মারা যান। তিনিও এনসেফ্যালাইটিসের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। ধূপগুড়ির দৌলত হুসেন, মাথাভাঙার সুনির্মল মণ্ডল, কালচিনির জীবন পাহান, মাথাভাঙার লক্ষ্মীকান্ত শীলের শরীরেও জাপানি এনসেফ্যালাইটিসের জীবাণু মিলেছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁরা সকলেই বৃহস্পতিবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।