সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াইয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কাশ্মীর। আজ একদিকে ত্রালে সেনার গুলিতে মৃত্যু হয়েছে তিন জঙ্গির। তারা জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য বলে অনুমান সেনার। অন্য দিকে নৌসেরা সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখার খুব কাছে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ের সময় মৃত্যু হয়েছে এক সেনা অফিসারের। জঙ্গিরা যাতে পালাতে না পারে, সে জন্য গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেছে সেনা। রাত পর্যন্ত দু’পক্ষে গুলির লড়াই চলছে। একই ভাবে আজ দুপুর থেকে পুলওয়ামাতেও দুই জঙ্গিকে ঘিরে রেখেছে সেনাবাহিনী।

শীতের আগেই আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে পড়তে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তানের মদতেপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি। আর তাদের সুবিধা করে দিতে পাক বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে নিয়ন্ত্রণরেখায় গুলি চালাচ্ছে। আজ হঠাৎই নিয়ম ভেঙে ভারতীয় বাহিনীর কাছে সংঘর্ষবিরতির অনুরোধ করে পাকিস্তান। পরে অবশ্য তারা নিজেরাই সে সব উড়িয়ে পুঞ্চের বালাকোট এবং মেন্ধর সেক্টরে গুলি চালায়।

দিন কয়েক আগে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের বেশ কিছু লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করে ভারতীয় সেনা। নিহত হয় বহু জঙ্গি। আজ পাক বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফয়সল জানান, নীলম উপত্যকার যে এলাকায় ভারতীয় বাহিনী গত রবিবার গোলা বর্ষণ করেছিল, আজ সেখানে বিদেশি কূটনীতিকদের একটি দলকে তারা নিয়ে যায়। সেই দলে ছিলেন বেশ কিছু সাংবাদিকও।

ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার গৌরব অহলুওয়ালিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। এই সফর উপলক্ষে আজ প্রথমে পাক বাহিনী অনুরোধ করে, নিয়ন্ত্রণরেখায় কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের একটি দল পরিদর্শনে আসছে। তাই ভারতীয় বাহিনী যেন সে সময় সংঘর্ষবিরতি বজায় রাখে।

ভারতীয় সেনা সেই অনুরোধ রাখলেও দুপুর নাগাদ নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে বালাকোট ও মেন্ধার সেক্টরে গুলিগোলা চালাতে শুরু করে পাক বাহিনী। গোলাগুলির মাঝে আটকে পড়ে স্থানীয় একটি স্কুলের শিশুরা। পাক বাহিনীর গুলিতে আহত হন দু’জন স্থানীয় বাসিন্দা।

পাক অধিকৃত এলাকায় জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারতীয় সেনার অভিযান নিয়ে আজ ফের নয়াদিল্লিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সে দেশের রেলমন্ত্রী শেখ রশিদ। তাঁর হুমকি, এ বার ভারতের উপরে পরমাণু হামলা চালাবে পাকিস্তান। তিনি বলেছেন, ‘‘এ বার যা হবে, সরাসরি পরমাণু যুদ্ধ হবে।’’ পাক মন্ত্রীর বক্তব্যের অবশ্য এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি নয়াদিল্লি।