যমজ মেয়ে হওয়ার পর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া লেগেই থাকত ওয়াসিমের। এমনটাই দাবি ছিল পড়শিদের। শনিবার রাত থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় ওই দুই সদ্যোজাত। পুলিশের কাছে তা নিয়ে ডায়েরিও করে ওয়াসিম। তবে রবিরার তদন্তে নেমে ওয়াসিমের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী নাজমাকেও গ্রেফতার করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। পুলিশের দাবি, ওয়াসিম ও নাজমাই তাদের দুই শিশুকন্যাকে পুকুরে ছুড়ে মেরে ফেলেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, মুজফ্‌ফরনগরের ভিক্কী গ্রামের বাসিন্দা ওয়াসিম দিনমজুরি করে সংসার চালায়। কুড়ি দিন আগে দুই যমজ মেয়ে প্রসব করে তার স্ত্রী নাজমা। শনিবার রাতে নাজমা ও ওয়াসিমের মধ্যে প্রবল ঝগড়াঝাঁটি হয়। পরের দিন সকালে থানায় কাছে এসে ওয়াসিম জানায়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে তার মেয়েদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মেয়েদের নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করে সে।

স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অজয় কুমার জানিয়েছেন, এ দিন সকালে ওয়াসিমের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেন তাঁরা। অজয় কুমারের দাবি, শনিবার রাতে ঝগড়ার পর দু’মেয়েকে বাড়ির কাছেই একটি পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেয় ওয়াসিম ও নাজমা।  সেখানে ডুবে মারা যায় সদ্যোজাত আফরিন ও আফরা। ওই পুকুর থেকেই দুই সদ্যোজাতর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: জলের পাম্প চুরির অভিযোগে দলিতকে পিটিয়ে খুন রাজস্থানে

পুলিশের আরও দাবি, জেরায় নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে ওয়াসিম। পুলিশের কাছে সে জানিয়েছে, মেয়েদের খরচ বহন করতে না পেরেই তাদের খুন করেছে তারা। পুলিশের কাছে ওয়াসিম বলেছে, ‘‘কোনও রকমে সংসার চলে। দুই মেয়ের খরচ চালাতে পারতাম না আমরা।’’

আরও পড়ুন: ‘রাহুল বাবা, ৩৭০ বিলোপের জন্য প্রাণ দিয়েছে বিজেপির তিন প্রজন্ম’, তীব্র কটাক্ষ অমিত শাহের

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওয়াসিমের একটি সাত বছরের ছেলে রয়েছে। তাঁদের দাবি, যমজ মেয়ে হওয়ায় রেগে গিয়েছিল ওয়াসিম। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়শই ঝগড়া করত সে।

অজয় কুমার জানিয়েছেন, ওই দম্পতিকে খুন, প্রমাণ লোপাট করা-সহ পুলিশের কাছে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।