• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পাক বার্তার পরেই হানা পুলওয়ামায়, সংঘর্ষে নিহত মেজর

mortal remains of arshad khan
বিদায়: গত সপ্তাহে অনন্তনাগে জঙ্গি হামলায় নিহত আরশাদ খানের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে তাঁর শিশুপুত্র। সোমবার শ্রীনগরে। ছবি: পিটিআই

পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার সম্ভাবনা নিয়ে গত কাল সতর্ক করেছিল পাকিস্তান। আজ সেই পুলওয়ামাতেই আইইডি বিস্ফোরণে আহত হলেন ৯ জন সেনা। অন্য দিকে অনন্তনাগে জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন সেনার এক মেজর। আহত হয়েছেন তিন জন সেনা। নিহত হয়েছে দুই জঙ্গিও। ফেব্রুয়ারি মাসে পুলওয়ামাতেই জঙ্গি
হামলার জেরে ভারত-পাক সম্পর্কে উত্তেজনা বেড়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, আজ অনন্তনাগের বিদরু আকিনগাম এলাকায় জঙ্গিদের উপস্থিতির খবর পেয়ে তল্লাশি শুরু করে যৌথ বাহিনী। তখনই জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে জঙ্গিরা। সংঘর্ষে সেনার এক মেজর গুরুতর আহত হন। পরে সেনা হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন আরও এক মেজর-সহ তিন সেনা। নিহত হয়েছে দুই জঙ্গিও। ঘটনার জেরে ওই এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে পাঠানো হয়েছে অতিরিক্ত বাহিনী।

এর কয়েক ঘণ্টা পরে সন্ধে ছ’টা নাগাদ পুলওয়ামার আরিহাল গ্রামে সেনার সাঁজোয়া গাড়ি লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। তাতে ন’জন সেনা আহত হন। সেনা জানিয়েছে, তাঁদের আঘাত গুরুতর নয়। সেনার সতর্কতার জন্যই জঙ্গিরা বড় ক্ষতি করতে পারেনি।

পাকিস্তানের সতর্কবার্তার পরেই এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন। ৩০ জুন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জম্মু-কাশ্মীর সফরে যাচ্ছেন। তার আগে গোটা রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ফের খতিয়ে দেখতে চাইছেন বাহিনী ও প্রশাসনের কর্তারা।

আরও পড়ুন: ফের কাজে ডাক্তারেরা, সঙ্কট কাটিয়ে সকাল থেকেই আউটডোর হবে স্বাভাবিক

অন্য দিকে দক্ষ ও সাহসী পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচিত আরশাদ আহমেদ খানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া  কাশ্মীরের নানা প্রান্তে। গত বুধবার অনন্তনাগে জঙ্গি হামলায় গুরুতর আহত হন আরশাদ। তাঁকে শ্রীনগরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত কাল সকালে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে আনা হয় দিল্লির এমসে। তার কিছু ক্ষণ পরেই মারা যান আরশাদ।

হাসপাতালে থাকার সময়ে আরশাদের জন্য প্রার্থনায় বসেছিলেন মধ্য কাশ্মীরের চাদুরার বাসিন্দাদের একাংশ। এক সময়ে সেখানে কাজ করেছেন তিনি। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরে তাঁর শ্রীনগরের বলগার্ডেনের বাড়িতে মানুষের ঢল নামে। গত কাল দুপুর পর্যন্ত আরশাদের আট বছরের ছেলে ও ছ’বছরের মেয়েকে বাবার মৃত্যুর কথা জানানো হয়নি। আরশাদের ভাই হুসেনের কথায়, ‘‘বাড়িতে লোকজন আসার পরে তো আর খবরটা লুকিয়ে রাখা যায় না। তবে ভাইপো-ভাইঝি এখনও বুঝতেই পারেনি ওরা কী হারাল। আমার ভাই কর্তব্য করতে গিয়ে মারা গিয়েছে। প্রয়োজনে আরও এক ভাইকে বাহিনীতে পাঠাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু যারা সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে তাদের উপযুক্ত জবাব দিতে হবে।’’

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সিনিয়র এক অফিসারের কথায়, ‘‘অনন্তনাগে সিআরপিএফের উপরে হামলার খবর পেয়েই অতিরিক্ত বাহিনী নিয়ে ছুটে গিয়েছিল আরশাদ। ওর মতো দক্ষ আর সাহসী অফিসারের অভাব আমরা সব সময়েই অনুভব করব।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন