আর অন্য কোনও কারণে নয়, বিয়ের আগে কিংবা বিবাহবহির্ভুত যৌন সম্পর্ক থাকলেই ছড়াতে পারে এইচআইভি এইডস! না, সাম্প্রতিক কালের কোনও নেতা-মন্ত্রীর কান্ডজ্ঞানহীন মন্তব্য নয়, এমন কথা বলছে খোদ সরকারি বিজ্ঞান বই! যে বই পড়ুয়াদের শেখাচ্ছে এমনই অদ্ভুত তথ্য। আর এই শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে শিক্ষার হারে দেশের মধ্যে অন্যতম অগ্রগন্য রাজ্য কেরলে। রাজ্য সরকারের ছাপানো দশম শ্রেণির জীবন বিজ্ঞান বইয়ে এইচআইভি নিয়ে এমনই ভুল শিক্ষা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পড়ুয়াদের প্রাথমিক স্তরে যৌনজীবন নিয়ে এমন ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে সিলেবাস রচয়িতাদের। স্বাভাবিক ভাবেই কথা উঠেছে, এইচআইভি ভাইরাস শরীরে ঢোকার সঙ্গে বিয়ে নাম সামাজিক ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই, তা কি সিলেবাস রচয়িতাদের জানা নেই। নাকি সব জেনেও সামাজিক ‘ট্যাবু’র ঊর্ধ্বে উঠতে পারছেন না তাঁরা? অনেকেই বলছেন, এর বদলে যদি এইচআইভি নিয়ে সঠিক তথ্য বইয়ে থাকত, তবে লাভবান হত বহু ছাত্র-ছাত্রী। বহু ক্ষেত্র থেকেই অভিযোগ এসেছে যে সঠিক শিক্ষা দেওয়ার বদলে যৌন সম্পর্ক কখন করা উচিত কিংবা কোন সম্পর্ক বৈধ বা অবৈধ, এমন বিভ্রান্তিকর নীতিপুলিশি জ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে থাকা কখনই বাঞ্ছনীয় নয়।

তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে কেরলের চিকিৎসক মহল থেকেও। ঠাট্টা করে কেউ কেউ জীববিদ্যার বইয়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখেছেন, এইচআইভি ভাইরাস কি খবর রাখছে যে যৌন সম্পর্কে যুগল বিবাহিত কি না? কেউ কেউ আবার এমনও বলেছেন, এইচআইভি ভাইরাসও আজকাল লোক বুঝে আঘাত হানছে; দেখে নিচ্ছে যুগলের সম্পর্ক বৈধ না বিবাহবহির্ভুত। বিষয়টি নজরে আসার পর শিক্ষা দফতর জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব এই ভুল সংশোধন করা হবে।

আরও পড়ুন: বোমাবর্ষণের পরও অক্ষত জইশের মাদ্রাসা! উপগ্রহের পাঠানো ছবি ঘিরে ধন্দ

আরও পড়ুন: বাবর যা করেছেন পাল্টানো যাবে না, বিবাদ মেটানোই লক্ষ্য, অযোধ্যা মামলায় বলল সুপ্রিম কোর্ট