• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনে ধোঁয়াশার মধ্যেই বৈঠকে মোদী-পওয়ার, আলোচ্য বিষয় নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

Maharashtra Crisis
আজ মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ পওয়ারের। —ফাইল চিত্র।

মহারাষ্ট্রে সেনা-এনসিপি-কংগ্রেস জোটের সমীকরণ এখনও স্পষ্ট নয়। সরকার গঠন নিয়ে অব্যাহত ধোঁয়াশা। এই অবস্থায় বুধবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পওয়ার। মহারাষ্ট্রের কৃষকদের দুরবস্থা নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হবে বলে দাবি করা হচ্ছে এনসিপির তরফে। তবে মহারাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দু’জনের মধ্যে আলোচনা সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচনী ফলাফলের পর এক মাস কাটতে চললেও, এখনও মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের জট কাটেনি। মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবি নিয়ে শিবসেনা বিজেপির সঙ্গে তিন দশকের সম্পর্কে ইতি টানলেও, এখনও পর্যন্ত তাদের পুরোপুরি ভরসা করে উঠতে পারেনি এনসিপি এবং কংগ্রেস। তাই তিন দলের প্রতিনিধিদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা হলেও, সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে এনসিপি-র অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সেনার অন্দরেও। সরকার গঠনে শিবসেনা ও কংগ্রেসের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, গত কয়েক দিনে শিবসেনার সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া নিয়ে খানিকটা ইতস্তত করতেই দেখা গিয়েছে শরদ পওয়ারকে। এক দিকে সেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত যখন ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই জোট সরকার গঠনের কথা বলে যাচ্ছেন, তখন এখনও কিছু ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পওয়ার। সোমবার সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকে কিছু একটা সুরাহা বেরিয়ে আসবে বলে যখন ধরে নিয়েছিলেন সকলেই, তখনও নিরাশ করেন পওয়ার। জানিয়ে দেন, আরও আলোচনা দরকার।

আরও পড়ুন: ঢিলেমি কেন, ধমক মুখ্যমন্ত্রীর, পরোক্ষে নিশানা বিজেপিকেই​

এ সবের মধ্যেই মোদীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ করতে যাওয়া নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। মুখে সে রাজ্যের কৃষক সমস্যা নিয়ে দুই নেতার আলোচনার কথাই অবশ্য বলছে এনসিপি। কারণ নির্বাচনের আগেই মহারাষ্ট্রের সমবায় ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারি মামলায় শরদ পওয়ারের নাম ওঠে। সেই সময় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি করার অভিযোগ এনেছিল এনসিপি। সেই নিয়ে দুই দলের মধ্যে তরজা চরমে ওঠে। কিন্তু সোমবার শীতকালীন অধিবেশনের শুরুতেই এনসিপি-র ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাতেই দু’পক্ষের মধ্যে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ২৮৮ বিধানসভার মহারাষ্ট্রে ম্যাজিক সংখ্যা ১৪৫। সে ক্ষেত্রে শিবসেনাকে বাদ দিয়ে ৫৪ আসনে জয়ী এনসিপি-র সঙ্গে হাত মেলাতে পারলেও সরকার গড়তে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় ১০৫ আসনে জয়ী বিজেপির। মোদী-শাহের তরফে কি তা হলে সেই চেষ্টাই শুরু হয়েছে? এই প্রশ্নই উড়ছে রাজনীতির অলিন্দে।

আরও পড়ুন: শীতের সকালে ২৫ ছাত্রীর লেগিংস খোলাল বোলপুরের স্কুল​

যদিও এই প্রশ্নে আমল দিতে রাজি নন শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত। তাঁর দাবি, কৃষকদের সমস্যার কথা মোদীকে জানাতে তিনিই পওয়ারকে অনুরোধ করেছিলেন। বিজেপি-এনসিপির মধ্যে কোনওরকম বোঝাপড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেন সঞ্জয় রাউত। তাঁর কথায়, ‘‘কাল যদি উদ্ধব ঠাকরে দিল্লিতে আসেন এবং আমরা সকলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাই, তখন কী সমীকরণ খুঁজে বার করবেন আপানারা?’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন