• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ঢিলেমি কেন, ধমক মুখ্যমন্ত্রীর, পরোক্ষে নিশানা বিজেপিকেই

Mamata Banerjee
সরব: প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার গঙ্গারামপুর স্টেডিয়ামে। ছবি: অমিত মোহান্ত

Advertisement

এক জেলায় তাঁর নিশানায় পুলিশ, অন্য জেলায় প্রশাসন। মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপের মুখে পড়লেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক নিখিল নির্মল থেকে মালদহের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া। নিখিলকে তো তিনি ধমকে উঠে বলেন, ‘‘কাজ না করলে মানুষ আমাকে ধরবে, তোমাকে নয়। আর কাজ না হলে আমি কাউকে রেয়াত করব না।’’ আর পুলিশের উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘কাজ করতে না পারলে নাটক করুন, গানের দল করুন। একদম সেফ!’’

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদ বিজেপির দখলে। কারণ, লোকসভা ভোটের পরে জেলা সভাধিপতি লিপিকা রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আরও চার জন জেলা পরিষদ সদস্য রয়েছেন। উল্টো দিকে, তৃণমূলের পক্ষে আছেন ১৩ জন। জেলা পরিষদ গঠনের আড়াই বছরের মধ্যে অনাস্থা আনা যায় না বলে লিপিকার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা যায়নি, দাবি জেলা তৃণমূলের। কিন্তু তাতে দু’পক্ষের মধ্যে টানাপড়েন তো বন্ধ হয় না। জেলা প্রশাসন সূত্রে বলা হচ্ছে, তার ফলে যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজে আটকে রয়েছে বা ঢিমে তালে হচ্ছে। 

এ দিন যখন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই জেলার পারফরম্যান্স খুবই খারাপ,’’ তখন জেলা পরিষদের এই জটিলতার যুক্তিই দেখান জেলাশাসক। শুনে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বলেন, ‘‘তুমি কেন ওদের কাছে আত্মসমর্পণ (সারেন্ডার) করছ? সবাইকে ডাকার দরকার নেই। ৫ জন বেশি নাকি ১৩ জন বেশি? তুমি কাজ করবে।’’ 

আরও পড়ুন: ঘোষণায় কি দু’টুকরো জেলা!

এই সময়ে দফতর ধরে ধরে জেলার সমস্ত বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, জেলা পরিষদের সদস্যদের কাছে উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের উত্তর ও জেলার উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ডের মধ্যে সাযুজ্য না পেয়ে ক্ষোভ জানান তিনি। তার পরে নির্দেশ দেন, কোথাও সহকারী সভাধিপতি, কোথাও পঞ্চায়েত সমিতিকে সঙ্গে নিয়ে যেন কাজ শুরু করা হয়। এ দিন লিপিকার ফোন সুইচড অফ ছিল। তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। বিপ্লব মিত্র টানাপড়েনের যাবতীয় অভিযোগ মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। 

মালদহে প্রশাসনিক বৈঠকে পথ দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এসপি সচেতনতা নিয়ে আরও প্রচারের কথা বলায় তাঁকে থামিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ-কে আপনারা গুরুত্ব দেননি।’’ তার পরেই ঝাড়খণ্ড দিশম পার্টির ঘনঘন পথ অবরোধের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘ঝাড়খণ্ডের পার্টি মালদহে এসে রাস্তা অবরোধ করে কী ভাবে? পুলিশ কেন অনুমতি দেয়?’’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘হবিবপুরের কাছাকাছি দু’টি লোক আছে। ঝাড়খণ্ড থেকে টাকা নিয়ে এসে এই কাজ করায়। তাদের জমিদারি কে দিয়েছে? পুলিশ কিচ্ছু করে না। তিন বছর ধরে এই কারবার শুনছি। আগের পুলিশ সুপারের আমলে হয়েছে, এই পুলিশ সুপারের আমলেও চলছে। কেউ কেউ ‘ব্যালেন্স’ করতে চাইছে। কিন্তু আমি ছেড়ে কথা বলব না।’’

এই দলটির পিছনে কারা রয়েছে, জানতে তিনি এসটিএফ, সিআইডি ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চকে কাজেও লাগাতে বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘‘দু’টি লোকের জন্য মানুষের সমস্যা হচ্ছে। কত বড় নেতা তারা? কোনও একটা রাজনৈতিক দলের মদতে রাস্তা অবরোধ হবে, আর পুলিশ কেন ভয় পাবে? এত ভয় তো পুলিশের চাকরি করতে হবে না। পুলিশের চাকরি ছেড়ে নাটক করুন। বা গানের দল করুন, একদম সেফ।’’

উত্তর মালদহের সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী এখন সব কিছুতেই বিজেপি জুজু দেখছেন। তিনি বুঝে গিয়েছেন যে, আদিবাসীরা তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাই বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা বলে বাজার গরম করতে চাইছেন তিনি। কিন্তু তাতে কিছু লাভ হবে না।’’

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
বাছাই খবর

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন