E-Paper

উপভোগ্য নৃত্যানুষ্ঠান

তার পর শিক্ষায়তনের ছাত্রছাত্রীরা মন্ত্র পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন। গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদিত হয় নৃত্যের মাধ্যমে।

শর্মিষ্ঠা দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২২
নৃত্য পরিবেশনায় শিল্পীবৃন্দ।

নৃত্য পরিবেশনায় শিল্পীবৃন্দ।

সম্প্রতি নৃত্যম ওড়িশি ডান্স সেন্টারের উদ্যোগে সংস্কৃতি ২০২৫ উদ্‌যাপিত হল উত্তম মঞ্চে। ২০১৩ সালে নৃত্যম ওড়িশি ডান্স সেন্টারের যাত্রা শুরু হয় নীলাদ্যুতি চৌধুরীর নেতৃত্বে ও লিপি চৌধুরীর উৎসাহে। তার পর দীর্ঘ ১২ বছর ধরে নৃত্যগুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের ঘরানার নৃত্যধারাকে বহন করে নিয়ে চলেছেন নীলাদ্যুতি— প্রথাগত নৃত্যচর্চা এবং নৃত্য শিবিরের মাধ্যমে। যোগাসন ও মেডিটেশন টেকনিকের সাহায্যে সৌন্দর্যবোধ, অধ্যাত্মবোধ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের জাগরণ ঘটুক, এই লক্ষ্যে নীলাদ্যুতি শিক্ষা দিয়ে চলেছেন তাঁর ছাত্রছাত্রীদের। অনুষ্ঠানে গুণিজন সংবর্ধনায় নৃত্যম ওড়িশি ডান্স সেন্টার সম্মান জ্ঞাপন করেন নৃত্যশিল্পী রাজীব ভট্টাচার্য, অরুন্ধতী রায়, সঙ্গীতশিল্পী প্রমিতা মল্লিক ও বাচিকশিল্পী কেয়া চৈতালিকে। শিক্ষায়তনের বার্ষিক মানপত্র প্রদান করা হয়।

তার পর শিক্ষায়তনের ছাত্রছাত্রীরা মন্ত্র পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন। গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদিত হয় নৃত্যের মাধ্যমে। জগন্নাথ পুষ্পাঞ্জলি নিবেদিত হয় কালিন্দী স্তোত্রমের সঙ্গে। শিবস্তুতি উপস্থাপনা করেন নৃত্যমের শিল্পীরা। সবশেষে অঙ্গরাগ। নীলাদ্যুতির পরিকল্পনা ও পরিচালনায় এই পর্বের প্রতিটি নৃত্যের উপস্থাপনাই মনোজ্ঞ হয়েছিল। প্রথাগত নৃত্যভাবনার সঙ্গে নীলাদ্যুতির আধুনিক ভাবনার মিশ্রণ দর্শকদের মানসিক ভাবে প্রস্তুত করে দেয় পরবর্তী নৃত্যভাবনা ‘সর্পদেবী মনসার আখ্যান’ প্রত্যক্ষ করার। ইতিপূর্বে মনসার কাহিনি নিয়ে নৃত্যানুষ্ঠান, নাটক, পালাগান, যাত্রা ইত্যাদি মঞ্চস্থ হতে দেখেছি। সে দিক থেকে সেই দিনের অনুষ্ঠান ব্যতিক্রমী কিছু নয়, তবে উপস্থাপনায় পেশাদারিত্ব চোখে পড়ে। টিমওয়ার্ক প্রশংসনীয়। সমবেত নৃত্য বেশ ভাল। সমগ্র নৃত্য ও নাট্য (পরিকল্পনায় নীলাদ্যুতি চৌধুরী) সুন্দর। মুখ্য ভূমিকায় তাঁর উপস্থাপনা দর্শক উপভোগ করেন। সে দিনের অনুষ্ঠানে নীলাদ্যুতির একশো জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করে। কৌশিক দাসের পোশাক পরিকল্পনা যথাযথ। উত্তীয় জানার আলোর পরিকল্পনাও ভাল। শব্দ প্রক্ষেপণে ছিলেন হাসি পাঞ্চাল। সঙ্গীতে জয়দীপ, রিদমে প্রতীক মুখোপাধ্যায়, বাঁশিতে ঋক মুখোপাধ্যায় ও কি-বোর্ডে ছিলেন ভবেশ মোদক।

অনুষ্ঠান

মিউজ়িক লঞ্চে শিল্পীরা

মিউজ়িক লঞ্চে শিল্পীরা

  • জ্ঞান মঞ্চে আয়োজিত হল নৃত্য ধ্রুপদী মিউজ়িক অ্যান্ড ডান্স রিসার্চ সেন্টারের ধ্রুপদী নৃত্যোৎসব। পদ্মবিভূষণ পণ্ডিত বিরজু মহারাজ এবং কলামণ্ডলম গুরু ভিআর ভেঙ্কিটের স্মৃতিতে এ বছরের ধ্রুপদী নৃত্যোৎসব আয়োজিত হয়। এই নৃত্যোৎসবে সহযোগিতা করে ভারতীয় বিদ্যা ভবন কলকাতা, ইনফোসিস বেঙ্গালুরু। নৃত্য ও সঙ্গীতের এই ঐতিহ্যকে বজায় রাখতে সাহায্য করেছে প্রাচীন কলা কেন্দ্র। অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় ভরতনাট্যম আঙ্গিকে ‘গজাননম’ শ্লোকের মাধ্যমে। নৃত্য পরিবেশনায় ছিল নৃত্য ধ্রুপদী মিউজিক অ্যান্ড ডান্স রিসার্চ সেন্টারের কর্ণধার সুচরিতা দত্ত ঘাটা ও তাঁর খুদে শিক্ষার্থীরা। কত্থক বিভাগের খুদে ছাত্রীরা এর পর উপস্থাপনা করে ‘সূর্য মন্ত্র’। এর পর ভরতনাট্যম আঙ্গিকে উপস্থাপিত হয় শিবস্তুতি ‘আঙ্গিকাম’ এবং ‘নাগেন্দ্রহারায়’। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে পরিবেশিত হয় সুচরিতার একক কত্থক পরিবেশনা— ‘দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ’।
  • এক সময়ে কিংবদন্তি সুরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। সেই রাহুল দেব বর্মণকে কী ভাবে দেখেছেন, তা নিয়ে সুরকারের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য সাজালেন শিল্পী ঊষা উত্থুপ। সম্প্রতি আশা অডিয়োর তরফে লঞ্চ করা হল একটি মিউজ়িক্যাল ট্রিবিউট— ‘কোথায় তুমি পঞ্চমদা’। আরডি বর্মনের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত হল এই গানের শ্রদ্ধার্ঘ্য, যা গেয়েছেন ঊষা। এআই-এর সাহায্যে এই মিউজ়িক ভিডিয়োটির এডিট করা হয়েছে, যেখানে ঊষার পাশাপাশি দেখা গিয়েছে রাহুল দেব বর্মণকেও। গানটির সুরনির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন শিলাদিত্য-রাজ-সোম, কথা লিখেছেন উৎপল। এআই-এর সাহায্যে ভিডিয়ো সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন অভিজিৎ চক্রবর্তী।


(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Review Uttam Manch

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy