বাবার তিন বিয়ে, মদ্যপান করে বাড়িতে অশান্তি, সব সয়ে আইএএস অটোচালকের পুত্র
দারিদ্র ছিল নিত্যসঙ্গী। পারিবারিক অশান্তির মধ্যে বড় হয়েছেন। তবে কোনও প্রতিবন্ধকতার কাছেই মাথা নোয়াননি তিনি। নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকেই সফল হয়েছেন দেশের সর্বকনিষ্ঠ আইএএস।
কথায় আছে, ‘কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে’। দেশের এই যুবকও একটা সময় কৃচ্ছ্রসাধন করেছিলেন। ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে। দারিদ্র ছিল নিত্যসঙ্গী। পারিবারিক অশান্তির কষ্ট সইতে হয়েছে। তবুও কোনও কিছুই তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বলা ভাল, কোনও বাধাই তিনি মানেননি। আর এখানেই সফল হয়েছেন আইএএস আনসার শেখ।
ইউপিএসসি পরীক্ষায় অনেকেই বসেন। কিন্তু কত জন আর সফল হন! আইএএস অফিসার হওয়া তো চাট্টিখানি কথা নয়। সেই অসাধ্যসাধনই করে দেখিয়েছেন আনসার।
প্রথম বার ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসে বাজিমাত করেন আনসার। সেটা ২০১৬ সাল। প্রথম চেষ্টাতেই সফল হন তিনি।
মাত্র ২১ বছর বয়সে দেশে ইতিহাস তৈরি করেন আনসার। হয়ে যান দেশের সর্বকনিষ্ঠ আইএএস অফিসার।
তবে তাঁর এই সাফল্যের নেপথ্যে ছিল অনেকটা পরিশ্রম। শুধু পরিশ্রম নয়, ছিল মনের জোরও। তাঁর আইএএস হওয়া রীতিমতো একটা সাধনার ফল।
আরও পড়ুন:
আনসারের ছোটবেলা আর চার-পাঁচ জনের মতো কাটেনি। পারিবারিক অশান্তি, দারিদ্রের মধ্যে বড় হয়েছেন আনসার। তাঁর বাবা ইউনুস শেখ আহমেদ পেশায় অটোচালক।
মহারাষ্ট্রের মরাঠাওয়াড় অঞ্চলে বাস আনসারের। তাঁর বাবা একটা সময় মাদকাসক্ত ছিলেন। আনসারের বাবার ৩টে বিয়ে।
আনসার তাঁর বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর পুত্র। চাষবাসের কাজ করতেন আনসারের মা। ছোট থেকেই গার্হস্থ্য হিংসা একেবারে কাছ থেকে দেখেছেন আনসার।
পরিবারে পড়াশোনার পরিবেশ ছিল না। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে গিয়েছিল আনসারের বোনের। তাঁর ভাই আনিস অষ্টম শ্রেণিতে ওঠার পরই স্কুল ছাড়েন। সেই সময় একটি গ্যারাজে কাজ করতেন আনিস।
আরও পড়ুন:
গরিবের সংসার। তাই অর্থাভাবে আনসারের পড়াশোনা যাতে থমকে না যায়, সেই কারণেই স্কুলজীবন ছেড়ে গ্যারাজের কাজে মন দিয়েছিলেন তাঁর ভাই।
পারিবারিক অশান্তি, দারিদ্র— এ সব কোনওদিনই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি আনসারের। সমস্ত প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে সফল হন তিনি। কখনওই নিজের লক্ষ্য থেকে সরেননি।
দেশের অনেক আইএএস-ই রয়েছেন, যাঁদের কাহিনি যে কারও কাছেই একটা প্রেরণা। আনসারও তার ব্যতিক্রম নন। তাঁর কথায়, ‘‘কঠোর পরিশ্রমের কোনও বিকল্প হয় না।’’ সেই পরিশ্রম করেছিলেন বলেই তার ফল পেয়েছেন আনসার।
তাঁর আইএএস হওয়ার লড়াইয়ে অনেক বন্ধুকেই পাশে পেয়েছেন আনসার। তাঁর কথায়, ‘‘আমার বন্ধুরা মানসিক এবং আর্থিক ভাবে পাশে থেকেছে। আমার কোচিং অ্যাকাডেমিও সাহায্য করেছে। অনেক সময় আমার বাড়ির আর্থিক পরিস্থিতির কথা ভেবে কোনও ফি নেয়নি।’’
অনেকেই আইএএস হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। আগামী প্রজন্মের জন্য আনসার বলেছিলেন, ‘‘যদি তুমি ভাবো তোমার প্রতিযোগিতা লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর সঙ্গে, তা হলে ভুল করবে। আসলে তোমার প্রতিযোগী তুমি নিজেই।’’
দারিদ্র যে কোনও বাধা নয়, সে বার্তাও দিয়েছেন আনসার। বলেছেন, ‘‘কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হবে। তাতেই সাফল্য আসবে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক অবস্থা কোনও বিষয় নয়।’’