প্রচুর টাকা, দামি গাড়ি, বিধানসভায় নীল ছবি... ওড়িশার খুন হওয়া মন্ত্রী বরাবর বর্ণময়
ওড়িশার বিত্তশালী মন্ত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নবকিশোর। তাঁর ধনসম্পত্তির পরিমাণ বিপুল। কিছু দিন আগে মহারাষ্ট্রের এক মন্দিরে গিয়ে তিনি কোটি টাকার কলসি দান করে এসেছিলেন।
পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন ওড়িশার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নবকিশোর দাস। রবিবার তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই তোলপাড় রাজ্যের রাজনীতি। ওড়িশার রাজনীতিতে আগেও বার বার চর্চায় উঠে এসেছিলেন নবকিশোর।
২০১৯ সালে ওড়িশার বিধানসভা নির্বাচনে শাসকদল বিজু জনতা দলের টিকিটে ভোটে জিতেছিলেন নবকিশোর। মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক তাঁকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছিলেন।
ওড়িশার বিত্তশালী মন্ত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নবকিশোর। তাঁর ধনসম্পত্তির পরিমাণ বিপুল। কিছু দিন আগেই তার প্রমাণ মিলেছিল।
মহারাষ্ট্রের শানি শিঙ্গণাপুর মন্দিরে গিয়ে দেবতার উদ্দেশে কোটি টাকা মূল্যের একটি কলসি দান করে এসেছিলেন নবকিশোর। জাতীয় রাজনীতিতে সে সময় তাঁকে নিয়ে বিস্তর চর্চা হয়েছিল।
শানি শিঙ্গণাপুর মন্দিরের দেবস্থানে যে কলসি নবকিশোর দান করেছিলেন, তা সোনা এবং রুপো দিয়ে তৈরি। কলসিতে মোট ১ কেজি ১৭ গ্রাম সোনা এবং ৫ কেজির বেশি রুপো ছিল। কলসিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন:
সম্বলপুর, ভুবনেশ্বর, ঝাড়সুগুড়ার মতো ওড়িশার বিভিন্ন অংশের ব্যাঙ্কে নবকিশোরের নামে অর্থ সঞ্চিত রয়েছে। মন্ত্রীর জমানো এই নগদ টাকার পরিমাণ প্রায় ৪৫ লক্ষ।
এ ছাড়া, নবকিশোর গাড়ি খুব ভালবাসতেন। নানাবিধ দামি গাড়ি তাঁর সঞ্চয়ে রয়েছে। ১ কোটি ১৪ লক্ষ টাকার একটি বিলাসবহুল মার্সিডিজ় গাড়ি কিনেছিলেন তিনি। তাঁর কাছে থাকা মোট গাড়ির মূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা।
সম্পত্তির কারণে নানা সময়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন নবকিশোর। তবে তাঁকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছিল ২০১৫ সালের একটি ঘটনার পর।
২০১৫ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নবকিশোর। বিধানসভার সদস্যও ছিলেন। সে সময় এক বার বিধানসভায় নীলছবি দেখতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
অভিযোগ, বিধানসভার সভা চলাকালীন মোবাইল ফোনে পর্নোগ্রাফি চালিয়েছিলেন নবকিশোর। নীলছবি দেখছেন, এমন অবস্থায় তাঁকে দেখে ফেলেন সভায় উপস্থিত অন্যান্যরা।
নীলছবি দেখতে গিয়ে ধরা পড়ে যাওয়া কংগ্রেস নেতাকে নিয়ে সে সময় শোরগোল হয়েছিল। যদিও নবকিশোর নিজে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।
আত্মপক্ষ সমর্থন করে নবকিশোর জানিয়েছিলেন, তিনি জীবনে কখনও নীলছবি দেখেননি। মোবাইল ঘাঁটতে ঘাঁটতে ভুল করে ওই ছবি খুলে গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন নবকিশোর।
কিন্তু এই সাফাইয়ে বিতর্ক থামেনি। নবকিশোরকে নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছিল কংগ্রেস। তাঁকে বিধানসভা থেকে এক সপ্তাহের জন্য সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়।
রাজনীতিতে পা রাখার পর ২০০৪ সালে প্রথম ভোটে লড়েন নবকিশোর। ঝাড়সুগুড়ার আসন থেকে কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম বার পরাজিত হন।
পরে ২০০৯ সালে কংগ্রেসের টিকিটে ওই আসন থেকেই ভোটে জেতেন নবকিশোর। ২০১৪ সালে পুনর্নিবাচিত হন। কিন্তু পরে কংগ্রেস ছেড়ে যোগ দেন বিজেডিতে।
২০১৯ সালে বিজেডির টিকিটে ভোটে লড়েও জিতেছিলেন নবকিশোর। নবীন পট্টনায়েকের মন্ত্রিসভায় তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। প্রভাবশালী এই মন্ত্রীকে রবিবার গুলি করে খুন করেছেন এক পুলিশকর্মী।
নবকিশোরকে খুনে অভিযুক্ত গোপাল দাস ওড়িশা পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। রবিবার ঝাড়সুগুড়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে নবকিশোরকে লক্ষ্য করে গুলি চালান গোপাল। মন্ত্রীর বুকে দু’টি গুলি লাগে।
গুরুতর জখম অবস্থায় ওড়িশার হাসপাতালে নবকিশোরের চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যার খানিক সাদৃশ্য রয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। ঘাতক পুলিশকর্মী মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।