দুষ্টু ছবি দেখতে হলে দিতে হবে পরিচয়পত্র, থাকছে কিউআর কোডও! ‘পর্ন পাসপোর্ট’ চালু করল স্পেন
ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম দ্য লোকালের মতে, এখন থেকে স্পেনের যে নাগরিকেরা অনলাইনে নীল ছবি দেখতে চাইবেন, তাঁদের প্রাপ্তবয়স্কদের ওয়েবসাইটের জন্য মাসিক পাস রাখতে হবে।
‘পর্ন পাসপোর্ট’ চালু করল স্পেন। যা আদতে শিশুদের পর্ন দেখা থেকে বিরত রাখতে তৈরি করেছে ইউরোপের সেই দেশ।
‘পর্ন পাসপোর্ট’ নাম হলেও আসলে এটি কোনও পাসপোর্ট না। এটি একটি অ্যাপ। যার আনুষ্ঠানিক নাম ‘বিটা ডিজিটাল ওয়ালেট (কারটেরা ডিজিটাল বিটা)’।
ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম দ্য লোকালের মতে, এখন থেকে স্পেনের যে নাগরিকেরা অনলাইনে নীল ছবি দেখতে চাইবেন, তাঁদের প্রাপ্তবয়স্কদের ওয়েবসাইটের জন্য মাসিক পাস রাখতে হবে। সরকারি পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সেই পাস পাওয়া যাবে।
প্রথমে ব্যবহারকারীদের তাঁদের মোবাইলে বিটা ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। অ্যাপের কাজ হবে সরকারি পরিচয়পত্র যাচাই করা।
ব্যবহারকারীকে ইলেকট্রনিক ডিএনআই বা ডিজিটাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে নিজেদের শনাক্ত করাতে হবে। বয়স ১৮ বছরের বেশি হলে তবেই তাঁকে মান্যতা দেবে এই অ্যাপ। মিলবে পর্ন পাসপোর্ট।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যম ‘আইনিউজ়’ অনুযায়ী, এক জন ব্যক্তি নিজের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য পরিচয়পত্র হিসাবে, স্বাস্থ্য বা আবাসিক কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন।
পরিচয় যাচাইয়ের পরে ব্যবহারকারীদের অ্যাপে ৩০টি ক্রেডিট পয়েন্ট দেওয়া হবে, যা পাসের মতো কাজ করবে।
ক্রেডিট পয়েন্ট ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্কেরা এক মাস দিনে একটি করে নীল ছবি দেখতে পারবেন। যাঁদের আরও পর্ন দেখার ইচ্ছা হবে, তাঁরা অতিরিক্ত ক্রেডিট পয়েন্টের অনুরোধ করতে পারেন অ্যাপের মাধ্যমেই।
মোবাইল অ্যাপটি ফোনের ই-ওয়ালেটের মতো কাজ করবে। যে কোনও পর্ন ওয়েবসাইট খুললেই একটি কিউআর কোড দেখতে পাবেন গ্রাহকেরা।
আরও পড়ুন:
‘পর্ন পাসপোর্ট’ অ্যাপের মাধ্যমে সেই কিউআর কোড স্ক্যান করে ভিডিয়ো দেখা যাবে। তবে সঙ্গে একটি ক্রেডিট পয়েন্ট খরচ হয়ে যাবে। প্রত্যেক মাসে সেই পাস পুনর্নবীকরণ করতে হবে।
উল্লেখযোগ্য, শুধুমাত্র স্পেনীয় পর্ন ওয়েবসাইটগুলিতেই এই কিউআর কোড এবং ‘পর্ন পাসপোর্ট’ অ্যাপের মাধ্যমে যাচাইয়ের প্রক্রিয়া থাকবে।
স্পেনের ‘ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট’-এর তরফে স্পেনীয় নয় এমন পর্ন ওয়েবসাইটগুলির দিকেও নজর রাখা হবে।
উল্লেখ্য, বেশ কয়েকটি সমীক্ষা এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী, আট-ন’বছর বয়সেই স্পেনের অনেক শিশু জীবনের প্রথম পর্ন দেখে ফেলে।
স্পেনের অর্ধেকেরও বেশি শিশুর নীল ছবির দুনিয়ার সঙ্গে পরিচয় ঘটে ১১ থেকে ১৩ বছর বয়সের মধ্যেই। অনেকে আসক্তও হয়ে পড়ে।
সমীক্ষায় এ-ও উঠে এসেছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে পর্ন দেখে বিভিন্ন অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত পাঁচ বছরে শিশুদের দ্বারা সংগঠিত যৌন নিপীড়নের ঘটনা ১১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আর সেই কারণেই নাবালকদের মধ্যে পর্ন দেখার অভ্যাস কমাতে এবং যাঁরা পর্ন দেখতে চাইছে, তাঁদের বয়স যাচাই করতে এই পন্থা বেছে নিয়েছে স্পেনের সরকার।
যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপটিতে এখনও কিছু মৌলিক ত্রুটি রয়েছে। যার ফলে নিজেদের উদ্দেশ্যে সরকার কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।