E-Paper

কেয়ার গন্ধ

“কোজাগরী পূর্ণিমার দিন করলে রিহার্সাল পুজোর মধ্যে সারতে হবে। খুব অল্প দিন সময় পাওয়া গেল। রিহার্সাল শুরু করে দিতে বলো।”

অভিজিৎ চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৭
ছবি: সৌমেন দাস।

ছবি: সৌমেন দাস।

পূর্বানুবৃত্তি: নিয়মমাফিক ফেয়ারওয়েল হয়ে গেল ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের। যাওয়ার আগে জনমেজয়ের সঙ্গে কথা হল তাঁর। পুরুলিয়ার হরিমণ্ডপে জনমেজয়দের ‘ম্যাকবেথ’ অভিনীত হবে শুনে দেখতে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন। দীপঙ্করকে জিজ্ঞেস করলেন নবকার্তিকের প্রসঙ্গে। পরে জ্যোৎস্নাদেবীর সঙ্গেও ফোনে কথা হল অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের। এক দিন নাতির হাত ধরে ফরাসডাঙা, গোন্দলপাড়া বেড়াতে গেলেন জ্যোৎস্নাদেবী। দেখলেন সে সব জায়গায় যাত্রার কোনও চিহ্নই আর অবশিষ্ট নেই। নাতির হাত ধরে যখন জ্যোৎস্নাদেবী গেলেন ঝিলের ধারের কেয়াবনে, সর্পদম্পতি যেন তাঁকে দেখে ফণা তুলে অভিবাদন জানাল। দেখে অবাক হল দীপ।

এই ফাঁকে কচুরি-তরকারি খেয়ে দীপ পড়তে বসে গেছে।

জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “তবে তোমার ছেলে, আমার নাতি, বড্ড ভাল ছেলে।”

হাসলেন দীপঙ্কর। বললেন, “আমি চা বসাব।”

“মা থাকতে সন্তান চা বসাবে, তাও হয় কখনও! চা কিন্তু চিনি ছাড়া খেতে হবে।”

“আচ্ছা, তা-ই হবে।”

“চা করে আমি স্নান সারব। কী এনেছ?”

“ধোঁকার পাউডার নিলাম। আর মাছ।”

“মাছ তোমরা দু’জনে খেয়ো। আমি ভাত, ডাল আর একটু ধোঁকার ডালনা দিয়ে খেয়ে নেব।”

দীপঙ্কর বললেন, “আচ্ছা মা। তবে পুজোয় আমাদের পুরুলিয়া যেতে হবে।”

“মনে আছে, ‘ম্যাকবেথ’।”

“তুমি নির্দেশনা করবে।”

মুখটা হাসিতে ভরে উঠল ওঁর। বললেন, “সে-ই ভাল। উদ্বোধন মন্ত্রীরা করুন। আমি আড়ালের মানুষ। ‘ম্যাকবেথ’ পরিচালনা করার চেষ্টা করব। গিরিশবাবু করেছিলেন বাংলা থিয়েটারে।”

“মা, ওঁদের অভিনয়ের ধারা যাত্রার।”

“জানি। শেক্সপিয়র সাহেবের নাটকগুলি ছিল কলকারখানার শ্রমিকদের জন্য। মঞ্চ থাকত আমাদের যাত্রার মতো চার দিক খোলা। ডাইনি, ভাঁড়, গান, সব থাকত ওঁর নাটকে। তিনি নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। জীবনের পাঠশালা থেকে রাজা-রানির আড়ালে জীবনের সার্বিক সত্যের কথা লিখেছেন। তোমার বাবা বলতেন, শেক্সপিয়রের নাটক না জেনেও অনেকে শুধু ওঁর অমর কথাগুলি জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে উদ্ধৃত করেন। যেমন রবিঠাকুরের গান আমাদের সুখ-দুঃখের সঙ্গী।”

“খুব সুন্দর বললে। আমার ষষ্ঠীর দিন ছুটি পড়ছে। সেদিন আমরা বিষ্ণুপুর থেকে পুরুলিয়া চলে যাব।”

“কোজাগরী পূর্ণিমার দিন করলে রিহার্সাল পুজোর মধ্যে সারতে হবে। খুব অল্প দিন সময় পাওয়া গেল। রিহার্সাল শুরু করে দিতে বলো।”

“আমি কী করব মা! লেডি ম্যাকবেথ?”

“না। তুমি করবে রাজা ডানকানের রোল।”

“লেডি ম্যাকবেথ আমি পারব না?”

“তা নয়, তুমি আমাকে বলেছ তোমার মধ্যে মাতৃত্বের বিকাশ হয়, আসলে সেটা তোমার মন তেমন ভাবে কল্পনা করে। আর লেডি ম্যাকবেথ নারী হয়েও নারী নন। তিনি একেবারে অন্য রকম। ম্যাকবেথের যাবতীয় সর্বনাশের দ্যোতক।”

দীপঙ্কর হেসে বললেন, “তুমি যা বলবে।”

দীপ সব শুনেছে, সে বলল, “আমরা পুজোয় পুরুলিয়া যাব!”

জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “হ্যাঁ দাদুভাই, আজ তোমাকে দুপুরে ম্যাকবেথের পুরো গল্পটা বলব।”

দুপুরে গল্প বলা হল না। কেমন একটা আবছায়া তন্দ্রার মধ্যে মনে হল, এ বার বেরোতে হবে। কত দিন পর, সেই যে গরুর গাড়ি কিংবা হ্যাজাক বা পেট্রোম্যাক্সের আলোয় অভিনয়। রস্ট্রাম নেই, মাইকও অচল প্রায়ই। গোঁ-গোঁ একটা শব্দ হয়। তাই খালি গলা ভরসা, কখনও আবার মাইকের সাউন্ড আসছে। চটের সাজঘর, সেখানেই মেক-আপ উৎসাহী কিশোরের চোখ দুটো চটের ফাঁক দিয়ে দেখা যায়।

তার পর যেন খুব দ্রুত চলে এল পুরুলিয়া যাওয়ার দিন। বিষ্ণুপুর হয়ে ওঁরা যাবেন, এমন ব্যবস্থা হল। জনমেজয় বিষ্ণুপুরে অপেক্ষা করছিলেন। ট্যুরিস্ট লজে সকলে মিলে খেয়ে নিলেন। স্থানীয় প্রশাসন থেকে ওঁদের একটি ঘর খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, সেখানে বাথরুমে গিয়ে স্নান সারলেন সকলে।

জ্যোৎস্নাদেবী বললেন, “বিদেশে নিয়মো নাস্তি, বলো দাদুভাই?”

দীপ হেসে বলল, “হ্যাঁ ঠাম্মা। আগে খাওয়া, পরে স্নান হল। এটা ঠাম্মু তুমি আমার জন্য করলে।”

হেসে উঠলেন জনমেজয়। জ্যোৎস্নাদেবী মা সারদা, বিবেকানন্দ ও ঠাকুরের ছবি বার করে প্রণাম করলেন। দীপ ও তার বাবাও প্রণাম করল।

উদয়ন লজের অসিতবাবু এসেছেন। সব সময় হাসিমুখ। বললেন, “মা এক বার যেতে হবে আমাদের রামকৃষ্ণ আশ্রমে।”

“তুমি কে, বাবা?”

“আমি অসিত, এই উদয়ন লজের মালিক ও সেবক। আর ঠাকুরের, মায়ের মহামন্ত্রে দীক্ষিত।”

“বাহ্‌, চলো যাব। তিনি বাংলা থিয়েটারকে তাঁর পুণ্যস্পর্শে তীর্থক্ষেত্র করেছিলেন, আমি তো নিশ্চয়ই যাব।”

জ্যোৎস্নাদেবী এলেন সবাইকে নিয়ে রামকৃষ্ণ আশ্রমে। ধনপতিবাবু এলেন। জ্যোৎস্নাদেবীকে প্রণাম করলেন, বললেন, “আজ আমাদের বিশেষ দিন, দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠী। স্বামীজী বেলুড় মঠে দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন।”

অসিতবাবু বললেন, “মা, সকলে মিলে একটু প্রসাদ নিতে হবে।”

“আমরা এইমাত্র খেলাম। আগে ঠাকুর ও মাকে প্রণাম করি।”

প্রণাম করে সকলে মিলে একটা জামগাছের বেদির তলায় বসলেন। অসিতবাবু প্রসাদ এনে দিলেন। খুব সুন্দর পরিবেশ। মা মৃন্ময়ীর মন্দিরে আরতি হচ্ছে।

“আজ দেবীর বোধন।” বললেন জ্যোৎস্নাদেবী। অনুরোধ এল, “মা, একটু বলতে হবে আপনাকে।”

জ্যোৎস্নাদেবী স্টেজে উঠলেন। বললেন, “আমি এক জন পেশাদার অভিনেত্রী। এক সময় আমাদের কোনও সম্মান ছিল না। ঠাকুর বাংলা থিয়েটারকে আশীর্বাদ করলেন। আমি এখান থেকে পুরুলিয়া যাব। এসেছি মহাকবি ও নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষের অনূদিত ‘ম্যাকবেথ’-এর অভিনয় পরিচালনা করতে। সঙ্গে আমার দুই ছেলে আছে, দীপঙ্কর ও জনমেজয়। আর আছে আমার প্রিয়তম নাতি দীপ। মাকে বলেছিলেন ঠাকুর, ‘সারদা, তুমি লক্ষ অযুত সন্তানের মা। গর্ভদায়িনী না হয়েও মর্ম-মা।’ আমিও আপনারা যাঁরা বয়সে নবীন, নবীনা তাঁদের মা হওয়ার অভিলাষী। আপনারা এই দীন অভিনেত্রীকে জননী বলে গ্রহণ করবেন তো?”

উলুধ্বনি দিতে লাগলেন মেয়েরা, যুবকেরা বলে উঠল, “মা, মা!”

চোখদুটো জলে ভরে উঠল জ্যোৎস্নাদেবীর।

মঞ্চে তাঁকে শাল, উত্তরীয়, আর ঠাকুর মা স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দিয়ে সম্মাননা জানানো হল।

স্বপ্নটা ভেঙে গেল। ভাবলেন, এ সব কী দেখলেন! আজ তৃতীয়া। পরশু পঞ্চমী। দেবীর বোধন তো তার পর।

৩১

দেখতে দেখতে পঞ্চমী চলে এল। সাধনের গাড়ি চলে এসেছে। সে বায়না ধরেছে, সে-ই নিয়ে যাবে ম্যাডামকে। ঝকঝকে নীল আকাশ। রোদ্দুর উঠেছে। অদূরে কোথাও ঢাক বাজছে। বিষ্ণুপুরে জনমেজয় অপেক্ষা করবেন। পৌঁছে দুপুরে রামকৃষ্ণ আশ্রমে প্রসাদ নেবেন। তার পর সাধনের গাড়িতেই চলে যাবেন পুরুলিয়া।

তা-ই হল। তিনি বিষ্ণুপুরে রামকৃষ্ণ আশ্রমে ঠাকুর, মা ও স্বামীজিকে প্রণাম করলেন। নিস্তব্ধ আশ্রম প্রাঙ্গণ।

অসিতবাবু এসেছেন। বললেন, “মা, কোনও ত্রুটি হয়নি তো?”

“কিছু ত্রুটি হয়নি।”

“ওই গাছটার তলায় মা বসেছিলেন।”

প্রণাম করলেন জ্যোৎস্নাদেবী।

অসিতবাবু দেখালেন মা মৃন্ময়ীর মন্দির। আগামীকাল বোধন।

কিছু ক্ষণ চুপ করে বসে রইলেন জ্যোৎস্নাদেবী। জীবনে কোনটা সত্যি, স্বপ্ন না চলমান জীবন! হয়তো দুটোই সত্যি, একটা সাকার আর একটা নিরাকার।

দিন কয়েক আগে থেকেই বীণাপাণি অপেরার ঘরটায় পানস চৌধুরী দাপাদাপি শুরু করে দিয়েছেন।

ফটিক ফোড়ন কেটেই চলেছে, পানস চৌধুরী আরও তেলেবেগুনে জ্বলে উঠছেন।

ফটিক বলল, “পানসদা, জ্যোৎস্নাদেবী কাস্টিং করার সময় আপনাকে বাদ দিয়ে দিল, বা একেবারে সৈনিকের রোলে দিল হয়তো। কী হবে তখন?”

পানস বললেন, “অভিনেতার কোনও চয়েস থাকতে নেই। যা করতে দেবেন, তা-ই করব।”

ফটিক বলল, “আমাকে যদি ম্যাকবেথের রোল করতে বলেন!”

পানস চৌধুরী বললেন, “ফটকে, যাত্রায় চেহারা একটা বিষয়। তোকে বলবে ম্যাকবেথ করতে! উচ্চিংড়ে কোথাকার!”

ফটিক বলল, “ভুলো না, আমি টিভি সিরিয়ালে চান্স পেয়েছিলাম।”

পানসদা বললেন, “ওখানেই পাবি। ক্যামেরার কাজে জ়িরোকে হিরো করে। আর এখানে হাজার হাজার দর্শক তোকে দেখতে পাবে সরাসরি। অত সোজা! যাত্রা ইজ় যাত্রা।”

তনুশ্রী এসেছে, বেশ উদ্বিগ্ন মুখ।

সে বলল, “পানসদা, আপনি তো একটা সাজেশন দেবেন।”

“সার্টেনলি, আমি প্রোডাকশন ম্যানেজার। প্রোডিউসার। আমার কথায় তো চলতে হবেই।”

ফটিক বলল, “পানসদা, পুরনো নামে ফিরে যাও তুমি। কামাখ্যাপ্রসাদ সিংহ মহাপাত্র। বেশ জাঁদরেল ম্যানেজার-ম্যানেজার শোনাবে। প্রোপাইটার অব বীণাপাণি অপেরা।”

তনুশ্রী বলল, “এই ফটিক, মেলা ফ্যাচফ্যাচ করিসনি।” তনুশ্রীর বাপের বাড়ি কলকাতার শ্যামবাজার। খুব একটা যায় না। তবে কখনও কখনও কথায় উত্তর কলকাতার টান থাকে।

পানস চৌধুরী বললেন, “ফটিক, আমার পূর্বপুরুষেরা গুমঘরে ঢুকিয়ে গুমখুন করে দিতেন। আর সেই কাল নেই বলে বেঁচে গেলি।”

“সে তো বিষ্ণুপুরে রয়েছে, মল্লরাজাদের। এখন গণতন্ত্র। এখানে তোমাদের গুমঘর কোথায় ছিল!”

পানস বললেন, “সম্বোধন বদলে গেছে। আগে আপনি বলতিস, এখন তুমি বলছিস। লায়েক হয়ে গেছিস। অতি বাড় বেড়ো না... কী যেন!”

“এই তো আপনি ডায়লগ ডোবাবেন। ভুলে যাবেন। প্রম্পটার গোবিন্দ আবার তোতলা। ইংরেজি নাটকের দফারফা।”

“ফটকে, আমি বলতে চেয়েছিলাম, অতি দর্পে হত লঙ্কা।”

এই সময় সুপার্থ এল, বলল, “রিহার্সাল কবে থেকে শুরু হবে?”

“আজ রাতে ঢুকছেন জ্যোৎস্নাদেবী। তিনিই ‘ম্যাকবেথ’-এর নির্বাচিত অংশের পরিচালনা করবেন,” পানসদা বললেন।

সুপার্থ বলল, “সত্যি পানসদা, তুমি ম্যাজিক জানো। আমরা কখনও কল্পনা করতে পারিনি, ওঁর মতো এক জন অভিনেত্রী পুরুলিয়ায় এসে বীণাপাণি অপেরার পরিচালক হবেন।”

পানসদা বললেন, “শুধু ‘ম্যাকবেথ’-এর জন্য। আসলে জনা বলেছিল, ওঁকে দিয়ে আমাদের হরিতলার বা হরিসভার নতুন রঙ্গমঞ্চ উদ্বোধিত হোক। উনি বলেছেন, উদ্বোধন মন্ত্রী-আমলারা করুন। উনি যাত্রার জন্য কিছু করবেন। তখন আমি জনাকে প্রস্তাবটা দিতে বলি। উনি বোধহয় রাজি। আজ রাতে আসছেন।”

“বাহ, তা হলে আগামী কাল থেকে রিহার্সাল। ‘ম্যাকবেথ’। শ্রীযুক্ত বাবু গিরিশচন্দ্র ঘোষ অনূদিত।”

পানসদা বললেন, “স্ক্রিপ্টে লেখা, অনুবাদিত। মিনার্ভা আর ক্লাসিক থিয়েটারে অভিনীত।”

তনুশ্রী বলল, “আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে, যিনি নিজে মিনার্ভায় কত অভিনয় করেছেন, তিনি আসছেন! এখনও ভাবতে পারছি না। স্বপ্ন, স্বপ্ন!”

পানসদা এ বার কড়া চোখে ফটিকের দিকে তাকিয়ে বললেন, “এই অর্বাচীন মুখ্যুটাকে কী রোলে দেওয়া যায় বল তো!”

সুপার্থ বলল, “দাদা, এটা আপনি ঠিক করুন।”

“তিন ডাইনির একটি। ভুসোকালি মাখিয়ে দেব। গলাটা তো মিনমিনে।”

হো হো করে সবাই হেসে উঠল, এমনকি খাবার দিতে এসে ভজাও।

ফটিক বলল, “আমায় অন্তত একটা রাজপুত্রের রোল দেবেন। আমার বৌ দেখতে আসবে।”

সুপার্থ বলল, “তা হলে পানসদাকে লেগ পুলিং করছিলি কেন?”

পানসদা বললেন, “ওর বাপের বয়সি আমি!”

সুপার্থ বলল, “বীণাপাণি অপেরার প্রাণভোমরা পানসদা। তাঁর সঙ্গে তুই ফচকেমি করিস!”

ফটিক তখন বলল, “ঠিক তো করবেন জ্যোৎস্নাদেবী। আমি তো দেখতে ভাল।”

পানসদা বললেন, “তোর ভয়েস! ভয়েসের একটা মূল্য আছে তো! আর উচ্চারণ! আছে তোর?”

“তুমি যে... না, না পানসদা, আপনি যে পার্ট ভুলে যান। এখানে ভুল করলে চলবে!”

“প্রম্পটার বদলাতে হবে। ওর দ্বারা হবে না।”

পানসদা স্ক্রিপ্ট হাতে নিয়ে বলতে লাগলেন, “ভাবুক সুধীর জনে, আসি এই রণাঙ্গনে/ কাব্যের বিকাশমাত্র করে আকিঞ্চন।...”

তখনই ঢুকে পড়লেন জ্যোৎস্নাদেবী, একেবারে স্মৃতি থেকে বললেন, “‘কটাক্ষের ভঙ্গি যার, ক্ষুদ্র প্রাণে অধিকার,/ হেরে মাত্র কামিনীর কটাক্ষ-ঈক্ষণ॥/ চিত-হারা চিত্রকর, ধ্যানমুগ্ধ কবিবর,/ রঙ্গালয় তাহার জীবনে প্রয়োজন।/ কেবল কলঙ্ক ভার, জীবনের সার তার/ অলীক সম্পদ আশা বাসা কল্পনায়।’... চলে এলাম, কী যে ভাল লাগছে! কত দিন পর রিহার্সাল রুম।”

জনমেজয় বললেন, “কিছু খানওনি রাস্তায়। অধীর হয়ে উঠেছিলেন এখানে আসার জন্য।”

“দুপুরে তো আশ্রমে খেলাম। বয়স হচ্ছে, এখন কি আর অত খাই-খাই করলে চলে! তবে আমার দাদুভাইয়ের খিদে পেতে পারে! তাই না দাদুভাই?”

দীপ বলল, “ঠাম্মা, আমার খিদে পায়নি।”

“ঠিক, ওর খিদে পায়নি। বড় হয়েছে না!”

তনুশ্রী এসে প্রণাম করল।

তিনি বললেন, “বাহ, তুমিই লেডি ম্যাকবেথ।”

পানস চৌধুরীও এলেন, হাতজোড় করলেন। বললেন, “ম্যাডাম, আমি পানস চৌধুরী।”

“আপনি করবেন ‘ম্যাকবেথ’।”

পানস চৌধুরী ফটিকের দিকে তাকিয়ে হাসলেন।

এ বার ফটিক এসে পা ছুঁয়ে প্রণাম করল।

“বাহ, ভারী মিষ্টি মুখ। শুধু একটু মোটা হতে হবে। যাত্রায় আবার সরাসরি তো, ক্যামেরা মোটা করে সিনেমায় কিন্তু এখানে তো তা হবে না। তুমি হবে ম্যাকডাফ।”

ক্রমশ

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bengali Novel Novel

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy