E-Paper

অন্য আলোর উচ্চারণ

নারী-পুরুষের আবশ্যিক পারস্পরিক আকর্ষণের শর্ত যখন অস্বীকার করা হয়, তখন অযুত সম্ভাবনা তৈরি হয়— রামধনু সেই বহুত্বের দ্যোতক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সমপ্রেমকে রোগের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছিল, ১৯৯০ সালের ১৭ মে। সেদিন ছিল তৎকালীন বিজ্ঞানের উদার হওয়ার প্রথম দিন। তারিখটি আজও পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক সমপ্রেমভীতি, উভপ্রেমভীতি, রূপান্তরভীতি বিরোধী’ দিন হিসেবে।

শতাব্দী দাশ

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ০৮:৩৩
ছবি: কুনাল বর্মণ।

ছবি: কুনাল বর্মণ।

এক কাটাছেঁড়া শরীরের মানুষ আর এক মনোবিদ সমুদ্রসৈকতে এসে দাঁড়িয়েছে ‘চিত্রাঙ্গদা’ ছায়াছবির শেষ দিকে। মনোবিদ, নাকি ওই কাটাছেঁড়া মানুষের দ্বিতীয় সত্তা? তাদের মধ্যে এই কথোপথন হয়। তখন উষাকাল। রাতের শেষে সূর্য উঠছে, আবার ডুবে যাবে বলে, আবার উঠবে বলে। পরিবর্তন যে এক চলমান প্রক্রিয়া, তা সেখানে বলা হচ্ছে ওই শল্য-উপচার-পীড়িত শরীরের মানুষটির, মানে রুদ্র-র, লিঙ্গপরিচয় বিষয়ে। কিন্তু তা কি আরও অনেক কিছুর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়? এই যেমন, বিজ্ঞান। আজ যা বিজ্ঞান, কাল তা হয়ে উঠতেই পারে অপবিজ্ঞান। টলেমির জ্যোতির্বিজ্ঞানই এক সময় ব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্রে রেখেছিল পৃথিবীকে। অথচ সূর্য পৃথিবীর চার দিকে ঘোরে, আজ এ-কথা কেউ বললে পাগলের প্রলাপ ভিন্ন কিছু মনে হবে না। বিজ্ঞানের সঙ্গে ধর্মীয় সন্দর্ভের তফাত এটুকুই যে, বিজ্ঞান নিজের সিদ্ধান্তকেও আগামী কাল বাতিল করতে পারে নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের নিক্তিতে। ধর্মগ্রন্থের বাণী যেন প্রস্তরখোদিত, অন্তিম, পরিবর্তনহীন। আজ যাকে পশ্চাৎপদ মনে হচ্ছে, হয়তো সমকালে তেমন অনেক ধর্মগ্রন্থ ছিল বৈজ্ঞানিক মননের প্রতিফলন। আবার অভিযোজন স্তব্ধ হলে আজকের শ্রেণি-আন্দোলনের ‘বৈজ্ঞানিক’ খসড়াও কাল হয়ে যেতে পারে ধর্মগ্রন্থমাত্র।

তেমনই, সমপ্রেম, উভপ্রেম, রূপান্তরকামনা ঘিরে যে ভীতি ও অপরায়ণের রাজনীতি, তারও ‘বৈজ্ঞানিক’ ব্যাখ্যা ছিল এক কালে। রোগ হিসেবে চিহ্নিতকরণ থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থাপনা— সবই হয়েছিল। তা বলে কি আজ তাকে আর অসুখ ভাবা হয়? ইয়ে, বিলক্ষণ হয়। ভূরি ভূরি নজির চার দিকে।

আমাদের দেশে যখন ‘ফায়ার’ ছবি ঘিরে ভাঙচুর চলছিল (১৯৯৬), তখন সদ্য ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজ়েশন’ সমপ্রেমের গা থেকে ‘অসুখ’ তকমা সরিয়েছে (১৯৯০)। ইউরোপে উনিশ ও বিশ শতকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মনোরোগবিদ্যার যত বিকাশ ঘটেছিল, ততই পাল্লা দিয়ে বেড়েছিল সমপ্রেম, উভপ্রেম বা রূপান্তরকরণকে অসুখ হিসেবে ঘোষণা করার প্রবণতা। খ্রিস্টধর্ম যাকে ‘পাপ’ ভাবত, ‘বিজ্ঞান’ তাকে ভাবল রোগ— হরেদরে সামাজিক ফলাফল একই। ভয়। ভয় থেকে উদ্ভূত ঘৃণা। আর ঘৃণা থেকে উদ্ভূত অপরায়ণ। দূরত্ব তৈরি।

মনস্তত্ত্বের জনক ফ্রয়েড অবশ্য সমপ্রেমকে সরাসরি ‘রোগ’ বলেননি, খানিক ঘুরিয়ে বলেছেন ‘মানসিক বিকাশের অসম্পূর্ণ ধাপ’। বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আমেরিকায় সমপ্রেমী মানুষদের উপর ইলেক্ট্রো শক থেরাপি বা হরমোন থেরাপির প্রয়োগ হত, এমন উল্লেখ পাওয়া যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, অর্থাৎ ‘হু’, একটা গাবদা কেতাব বার করে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিফিকেশন অব ডিজ়িজ়েস’ (সংক্ষেপে আইসিডি) নামে। তাতে সব রকম রোগের নাম আর কোড নম্বর থাকে। লিপিবদ্ধ থাকে রোগ নির্ধারণ করার লক্ষণ।

১৯৪৮ সালে, তার ৬ নম্বর সংস্করণে, সমপ্রেমকে মানসিক রোগ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। পরবর্তী ৭, ৮ এবং ৯ নং সংস্করণেও তা ছিল অপরিবর্তিত। এই আইএসডি-র দশম সংস্করণ গৃহীত হয় ১৯৯০ সালের মে মাসে। সেখানই প্রথম মেনে নেওয়া হয় যে যৌন পছন্দ কোনও রোগ নয়। এই রকম গাবদা কেতাব প্রকাশের ধারাবাহিকতা ছিল আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ)-এরও।

১৯৫২ সালে তাদের ‘ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল ম্যানুয়াল অব মেন্টাল ডিসঅর্ডার্স’-এর প্রথম সংস্করণে (সংক্ষেপে ডিএসএম-১) সমপ্রেমকে ‘সোশিয়োপ্যাথিক পার্সোনালিটি ডিস্টার্বেন্স’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। শেষে ১৯৯৪ সালে ডিএসএম-এর চতুর্থ সংস্করণ বেরোল, যাতে সমপ্রেমকে আর রোগ হিসেবে দেখানো হল না। ‘হু’ এবং ‘এপিএ’ উভয়েই চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে কখনও ‘ডিজ়িজ়’, কখনও ‘ডিস-অর্ডার’, কখনও ‘ডেভিয়েশন’ বলে চিহ্নিত করেছে সমপ্রেম, উভপ্রেম, রূপান্তরকামনাকে।

এর মাঝখানে, ১৯৬৯ সালে ঘটে গিয়েছিল ঐতিহাসিক ‘স্টোনওয়াল রায়ট’। তারিখটা ২৮ জুন। ম্যানহাটনের উপকণ্ঠে গ্রিনউইচ গ্রামের স্টোনওয়াল পাব। অপরাধী বা যৌনকর্মীদের সঙ্গে সেই পাবে প্রান্তিক গে, লেসবিয়ানরা বা ট্রান্স-মানুষরাও আসতেন। শহুরে ঝকঝকে পাবে তাঁদের জায়গা হত না। পুলিশি অভিযান, প্রহার, অপমান, গ্রেফতারও চলত। সেদিনও পুলিশ চড়াও হয়েছিল, কিন্তু ওঁরা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। অপরিকল্পিত সেই ‘ডায়রেক্ট অ্যাকশন ডে’ পশ্চিমা সভ্যতায় অন্যতর যৌনতা ও লিঙ্গপরিচয়ের আন্দোলনকে এক ধাক্কায় অনেকটা এগিয়ে দিয়েছিল। ১৯৭০ সালে, মানে ঠিক পরের বছর, জুন মাসে এই দিনের স্মরণে হাজার মানুষের এক মিছিল হেঁটেছিল স্টোনওয়াল পাবের উদ্দেশে। বিশ্বের প্রথম ‘প্রাইড মার্চ’। ‘প্রাইড’, মানে ‘অহঙ্কার’— গর্ব শুধু নয়, তা ‘অহম্’-এর ধ্বনি। যে লিঙ্গ বা যৌন-পরিচিতিকে বার বার ‘লজ্জাজনক’ বলে দূরে ঠেলা হয়েছে, সে পরিচিতিকে আমিত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উচ্চৈঃস্বরে প্রকাশ করা, তাকে প্রকটভাবে দৃশ্যমান করাই সেই ‘প্রাইড’-এর লক্ষ্য। স্টোনওয়াল ও তার পরবর্তী দুই দশকের আন্দোলনের প্রভাবেই ধীরে ধীরে ‘এপিএ’ ও ‘হু’-এর ম্যানুয়ালে পরিবর্তন আসতে থাকে। ট্রান্সজেন্ডারদের অবশ্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল আরও অনেক বছর। মাত্র ২০১৩ সালে, ‘এপিএ’-র পঞ্চম সংস্করণে, ট্রান্সজেন্ডারদের প্রসঙ্গে ‘জেন্ডার আইডেন্টিটি ডিসঅর্ডার’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘জেন্ডার ডিসফোরিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। ‘ডিসফোরিয়া’ কোনও রোগ নয়, তা হল পরিচয় ও জন্মগত লিঙ্গের অমিল থেকে উদ্ভূত মানসিক কষ্ট। ২০১৯ সালে ‘হু’ তাদের নতুন ও একাদশ তালিকা থেকে বাদ দেয় ‘ট্রান্সসেক্সুয়ালিজ়ম’-কে। সংক্ষেপে এই হল লিঙ্গ-যৌন অনন্যতা বিষয়ক ‘বৈজ্ঞানিক’ দৃষ্টিভঙ্গি বদলের ইতিকথা, চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিজেকে পরিবর্তিত করার ইতিহাস। যে দিনটিতে ‘হু’ সমপ্রেমকে রোগের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছিল— ১৯৯০ সালের ১৭ মে— সেদিন ছিল তৎকালীন বিজ্ঞানের গ্রহণক্ষম হওয়ার প্রথম দিন। সেই তারিখটি আজও পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক সমপ্রেমভীতি, উভপ্রেমভীতি, রূপান্তরভীতি বিরোধী’ দিন হিসেবে।

এ-সবই পশ্চিমি আলোড়নের ধারাবিবরণী। অন্যতর লিঙ্গ-যৌন-পরিচিতিকেই ‘পাশ্চাত্য আমদানি’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার একটা প্রবণতা ডান মহলে আছে, বাম মহলেও তা দীর্ঘদিন ছিল। সত্যি কি তাই? ‘সুশ্রুতসংহিতা’-কে যদি ভারতের তৎকালীন বিজ্ঞান ধরি, তবে রূপান্তরকামনা ও সমপ্রেমকে সেখানে ‘অন্যতর যৌন আচরণ’ বা বড়জোর ‘ক্লীবত্ব’, ‘তৃতীয় প্রকৃতি’ ইত্যাদি বলা হয়েছে। সে তত্ত্বের আধুনিকীকরণ প্রয়োজন ছিল। তার বদলে ভিক্টোরীয় শালীনতার ধারণা ঔপনিবেশিক মস্তিষ্ককে পেয়ে বসল, আর আমরা পিছিয়ে গেলাম আরও কয়েক শতক। অথচ এত শুচিবাই আদৌ আমাদের ধাতে ছিল না। খোদ বাল্মীকির রামায়ণে, ‘সুন্দরকাণ্ড’-এ, হনুমান রাবণের প্রাসাদে বিস্রস্তবসনা মহিষীদের একে অন্যের বাহুলগ্না দেখছেন। পৌরাণিক সন্দর্ভ জুড়ে কোথাও রাজা ইলা শিব-পার্বতীর অভিশাপে এক মাস পুরুষ ও এক মাস নারী হয়ে থাকেন। কোথাও সমুদ্রমন্থনের পর মোহিনীরূপী বিষ্ণুর সঙ্গে শিবের সঙ্গমে আয়াপ্পা জন্ম নেন। তামিল মহাভারতে বিষ্ণু আরও এক বার মোহিনীরূপ ধারণ করেছিলেন। বলিপ্রদত্ত হওয়ার আগের রাতে অর্জুন আর উলুপীর পুত্র আরাবান (ইরাবান) নারীসঙ্গ লাভ করতে চেয়েছিলেন। সে ইচ্ছে পূরণ করেন মোহিনী। এক রাতের সে বিয়ে এখনও উদ্‌যাপন করেন তামিলনাড়ুর রূপান্তরকামী সমাজ, ‘কুভাগম’ উৎসবের মাধ্যমে। ‘কামসূত্র’-এ আছে সমপ্রেমের উল্লেখ। সমপ্রেমের চিত্রণ খাজুরাহো-তেও স্পষ্ট। বৈষ্ণব দর্শনে আছে পুরুষ ভক্তের নারীত্বে প্রত্যাবর্তনের কথা। আমাদের দেবতা অর্ধনারীশ্বর। আবার বাল্মীকির রামায়ণে নয়, কিন্তু বাংলার কৃত্তিবাসী রামায়ণে ভগীরথের জন্ম দেন দুই মা, পিতার অনুপস্থিতিতে। আর উপমহাদেশের ইসলামি ঐতিহ্যে? রাজিয়া, আলাউদ্দিন খিলজি বা বাবরের উভপ্রেম নিয়ে গুঞ্জন সুবিদিত। শাহজাদা দারাশুকোর সঙ্গে এক ইহুদি বন্ধুর প্রণয়ের কথাও শোনা যায়। অষ্টাদশ শতকের ‘শোলা-এ-ইশক’ নামের এক উর্দু কাব্য তো রীতিমতো বৈপ্লবিক! সেখানে এক মুসলমান পুরুষ ও এক হিন্দু পুরুষের প্রেমের উন্মাদনা ও বেদনা। অথচ আমরা বহু বছর ধরে সযত্নে লালন করেছি ঔপনিবেশিক, সমপ্রেম-বিরোধী ৩৭৭ ধারা, আর তাকেই ডেকেছি ‘ভারতীয় সংস্কৃতি’ নামে। নতুন করে সমপ্রেম ‘অপরাধের আওতামুক্ত’ হয়েছে ২০১৮ সালে। এখনও সমপ্রেমীরা এ দেশে পাননি বিয়ের আইনি অধিকার। ট্রান্স-মানুষেরা পাননি হাসপাতালে ওয়ার্ড বা বেড, বা আলাদা ধর্ষণ আইন। এ কি চরম বৈপরীত্য নয়?

এক অতিপরিচিত উপন্যাসের দৃশ্য উদ্ধৃত করার লোভ সংবরণ করা যাচ্ছে না। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘ইন্দিরা’ উপন্যাসের নায়িকা তখন উপেন্দ্র-পরিত্যক্তা, রমণবাবু আর সুভাষিণীর আশ্রিতা। এক জায়গায় সুভাষিণী ইন্দিরাকে শেখাচ্ছে পতিমনোলোভা হওয়ার ছলা-কলা— সুভাষিণী তখন হাসিয়া বলিল, “তবে আমার ব্রহ্মাস্ত্র শিখে নে৷” এই বলিয়া, মাগী আমার গলা বেড়িয়া হাত দিয়া আমার মুখখান তুলিয়া ধরিয়া, আমার মুখচুম্বন করিল।… সুভাষিণী বলিল, “...তুই কী জানিস্, একজামিন দে দেখি। এই আমি যেন উ-বাবু” এই বলিয়া সে সোফার উপর জমকাইয়া বসিয়া, হাসি রাখিতে না পারিয়া, মুখে কাপড় গুজিতে লাগিল।… তখন, যে বিদ্যার পরিচয় পাঠক পশ্চাৎ পাইবেন, সুভাষিণীকেও তাহার কিছু পরিচয় দিলাম। সুভাষিণী আমাকে সোফা হইতে ঠেলিয়া ফেলিয়া দিল—বলিল, “দূর হ পাপিষ্ঠ। তুই আস্ত কেউটে!”...

খানিক বাদে ইন্দিরা সুভাষিণীকে বলে—

“যা শিখাইয়াছিলে তার মধ্যে একটা বড় মিষ্ট লাগিয়াছিল—সেই মুখচুম্বনটি। এসো আর একবার শিখি।” তখন সুভাষিণী আমার গলা ধরিল, আমি তার গলা ধরিলাম। গাঢ় আলিঙ্গনপূর্বক পরস্পরের মুখচুম্বন করিয়া, গলা ধরাধরি করিয়া, দুই জনে অনেকক্ষণ কাঁদিলাম। এমন ভালবাসা কি আর হয়? সুভাষিণীর মত আর কি কেহ ভালবাসিতে জানে? মরিব, কিন্তু সুভাষিণীকে ভুলিব না।

বঙ্কিমচন্দ্র কোনও সমপ্রেমী ইরোটিকা রচনা করছিলেন না। দু’টি মেয়ের অন্তরঙ্গতা দেখাতে গিয়ে তাঁর বর্ণনা অজানতেই শরীরী হয়ে পড়ছিল, কারণ এ দেশের জলহাওয়ায় তা বিপদসঙ্কেত-সম ছিল না। আবার, ‘হাঁসুলীবাঁকের উপকথা’-র নসুবালার চরিত্রটি মনে পড়ে? তারাশঙ্কর বলেছিলেন, জৈবিক পুরুষের শরীর নিয়ে জন্ম নেওয়া, কিন্তু শাড়ি, চুড়িতে শোভিতা নসুরাম ওরফে নসুবালাকে তিনি বিলক্ষণ চিনতেন। তেমন ভাবেই তাকে এঁকেছিলেন উপন্যাসে। তপন সিংহের ছবিতে সেই নসুবালা জৈবিক নারী হয়ে গেল বেমালুম! উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে কাহার-দের সমাজে লোকসংস্কৃতি ও আধুনিকতার বিরোধ। নসুবালা সেখানে লৌকিক যাপনচিত্রের ধারক-বাহক, কারণ নসুবালারা আমাদের সংস্কৃতির আপনজন।

নসুবালার কোনও লিঙ্গপরিবর্তনমূলক অস্ত্রোপচার হয়েছিল বলে জানা যায় না, তার আত্মপরিচিতির স্বীকৃতির জন্য লাগেনি কোনও প্রশাসনিক শংসাপত্র, যেমন শংসাপত্র জোগাড় করতে বলেছে ২০২৬ সালের নতুন ট্রান্স-আইন। নসুবালা ‘হিজড়ে’ও নয়, ‘হিজড়ে’ কোনও লিঙ্গপরিচিতিই নয়, তা এক পেশামাত্র। ট্রান্স-মানুষদের মধ্যে সামান্য অংশই ট্রান্সসেক্সুয়াল, অর্থাৎ যাঁরা লিঙ্গ পরিবর্তন করেছেন ডাক্তারি প্রক্রিয়ায়। আছেন ‘ইন্টারসেক্স’ মানুষও, যাঁদের যৌন অঙ্গ বা ক্রোমোজ়োমের গঠন ঠিক নারী বা পুরুষের মতো নয়। এ ছাড়াও আছেন নসুবালার মতো মানুষ, যাঁরা জন্মগত ভাবে পুরুষ বা নারীর মতো লিঙ্গ নিয়ে জন্মালেও ওই লিঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট সামাজিক ভূমিকায় স্বচ্ছন্দ নন; যেন অন্য দেহে তাঁদের আত্মাটি বন্দি। রূপান্তরকামিতা এক অনুভব, সার্জারি যার পূর্বশর্ত নয়। কারও বদলানোর সামর্থ্য নেই, কারও ইচ্ছেও নেই। সচেতনরা এতে পুঁজিবাদের লাভ দেখেন। কেউ শরীর-মনের এই ‘ফ্লুয়িডিটি’, এই খোপে না আঁটার ব্যাপারটাই পছন্দ করেন দর্শনগত ভাবে। একবগ্গা এঁদের সকলকেই রাষ্ট্র ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলে ডাকে। তা হলে কি ধরেই নেওয়া হল যে পুরুষই প্রথম আর নারী দ্বিতীয়? মার্কশিটে যারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় যথাক্রমে— তারা কি কখনও ‘সমান’ হতে পারে?

লিঙ্গগত অনন্যতা ছাড়া, তাঁরাও আছেন, যাঁরা যৌন পছন্দে আলাদা— লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল (নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রতি আকৃষ্ট), প্যানসেক্সুয়াল (নারী, পুরুষ, ট্রান্স সকলের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন)। বাইসেক্সুয়াল বা প্যানসেক্সুয়াল মাত্রেই যে চারিত্রিক ভাবে আবশ্যিক বহুগামী, তা নয়। জীবনের এক-এক সময়ে এক-এক লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছে তাঁর, তা-ও হতে পারে। হয়তো জীবনের একটি পর্যায়ে কেউ একটি মেয়েকে ভালবাসল, বিচ্ছেদের পরে এক পুরুষকে, আবার বিচ্ছেদের পর এক ট্রান্সকে।

আসলে নারী/পুরুষ দ্বিত্ব এবং নারী-পুরুষের আবশ্যিক পারস্পরিক আকর্ষণের শর্ত যখন অস্বীকৃত হয়, তখন অযুত সম্ভাবনা তৈরি হয়— রামধনু সেই বহুত্বের দ্যোতক, আর তাদের এক ছাতায় আনার পরিভাষা ‘ক্যুয়ার’, মানে ‘অদ্ভুত’।

এক কালে তা ছিল গালাগাল, এখন তা গর্বের পরিচয়। যেমন করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘আমরা চঞ্চল, আমরা অদ্ভুত!’ বিষমপ্রেমকে একমাত্র স্বাভাবিক ভাবার সীমাবদ্ধতাকে আমরা ডাকি ‘হেটেরোনর্ম্যাটিভিটি’ নামে। গার্লস স্কুলে ছোট-চুল, ফুটবল-পেটানো মেয়েদের আমরা বিলক্ষণ চিনতাম। বিশেষ কোনও সমবয়সি বা জুনিয়র মেয়ের সঙ্গে তাদের অন্তরঙ্গতাও আমরা দেখেছি। দেখেছি বয়েজ় স্কুলে মেয়েলি, কোমল ছেলেদের নিষ্পেষণ। তাদের লিঙ্গ ও যৌন-পরিচয়কে আমরা হয় হ্যাটা করেছি, নয়তো বন্ধু হিসেবে কোনও মতে সয়ে নিয়েছি তাদের, কিন্তু তাদের অন্য যৌন বা লিঙ্গ-রুচি নিয়ে কথা বলিনি প্রকাশ্যে। এও এক রকম অপরায়ণ নয় কি? লিঙ্গ বা যৌনতা সম্পর্কিত পরিচয় চেপে রাখা— যাকে চলতি কথায় বলে ‘ক্লজ়েটেড’ থাকা, তা বাবা-মায়ের, পরিপার্শ্বের, সমাজের অন্ধত্বের কারণেই ঘটে। বাড়ির লোকের নজর এড়িয়ে যাবে এই অনন্যতা, এ অসম্ভব। অস্বীকারের মনোবৃত্তি না থাকলে ছেলে-মেয়ের বয়ঃসন্ধিতেই বাবা-মায়ের তা জেনে যাওয়ার কথা। কিন্তু তেমন হয় কোথায়? এক মফস্সলের মেয়েকে চিনি, যে নিজের সঙ্গিনীর সঙ্গে নিজের শহরে সরবে একত্রবাস করতে চায়। বাবা উদ্বিগ্ন। ‘পাড়ার লোকে নানা কথা বলবে!’ এক জন মেয়ে-হয়ে-জন্মানো মানসিক ভাবে ট্রান্সম্যান অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে চিনি, যিনি চাকরি পেয়েছেন মেয়ে পরিচয়েই— পেশার প্রয়োজনে পরিচয় তাঁকে চেপে যেতে হয়। এক লেসবিয়ান শিক্ষিকা স্টাফরুমে যৌন পছন্দ চেপে রাখতে বাধ্য হন। গে পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফিরলে বাধ্য হন বিষমপ্রেমী বৈবাহিক সম্পর্ক মেনে নিতে। আমাদের নির্লিপ্তির কারণেই তাঁদের থাকতে হয় সুপ্ত। অথচ তাঁরা সুপ্ত থাকলে আমরা নিশ্চিন্তে ‘ম্যাসকুলাইন’ আর ‘ফেমিনাইন’ নামক দুই বদ্ধ কলাম টেনে সন্তানকে গ্রামার মুখস্থ করাই। এ এক অন্তহীন অনভিপ্রেত চক্র।

কেন আমরা ভয় পাই এঁদের? হয়তো এঁদের লিঙ্গপরিচিতি, এঁদের যৌন আচরণ সামাজিক উপযোগিতার শর্তকে উপেক্ষা করছে বলে। ‘প্রজাতি’কে টিকিয়ে রাখে যা, তার উদ্বর্তনের কথা বিজ্ঞান বলে বটে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যা প্রজন্মের বিস্তারে সাহায্য করে না, তা অ-প্রাকৃতিক। বৈপরীত্য প্রকৃতিতে সহাবস্থান করে চিরকাল। তা ছাড়া মানুষ যদি প্রকৃতির মর্জিমাফিক নিজেকে বেঁধে রাখত, তা হলে নগরায়ণ বা প্রযুক্তির বিকাশ নিয়ে চুল ছিঁড়ত না। বংশবিস্তারের স্বার্থকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে যদি কারও শুধুই ভালবাসতে ইচ্ছে করে, যৌনতা করতে ইচ্ছে করে সন্তানের জন্য নয়, শুধুই আনন্দের জন্য, তা হলে কেন তার স্বীকৃতি থাকবে না? যদি ডাক্তারের দেওয়া লিঙ্গনামে কারও অস্বস্তি হয়, তবে কেন তা বদলে নেওয়া যাবে না? এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়াই দস্তুর। ‘প্রাইড’ বিচিত্রবর্ণ, যাতে রঙের আতিশয্য আমাদের চোখকে তা দেখতে বাধ্য করে, যা আমরা এড়াতে চাই। ‘প্রাইড’ চিৎকৃত, যাতে যা শুনতে চাই না, তা শুনতে বাধ্য হই। ‘প্রাইড’ মানে ঠিক-আমার-মতো-নয়-এমন সহমানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সহিষ্ণুতা। তা আমাদের সাধারণ সাংবিধানিক মূল্যবোধের চেয়ে আলাদা কিছু নয়।

দ্বিতীয় তরঙ্গের নারীবাদীরা আগেই বলেছিলেন, ‘সেক্স’ আর ‘জেন্ডার’ আলাদা। সেক্স হল শারীরিক লিঙ্গ। আর জেন্ডার হল শারীরিক লিঙ্গের উপর ভিত্তি করে এক সামাজিক নির্মাণ: যেমন, এই লিঙ্গকে অমুক অমুক কাজই করতে হবে, সেই লিঙ্গ তমুক তমুক ভূমিকাই পালন করবে… ইত্যাদি। এক জন ‘সিস’ (জন্মগত লিঙ্গে যাঁর অস্বস্তি হয় না) এবং হেটেরোসেক্সুয়াল (যিনি বিষমপ্রেমী) মানুষ নিজেকে সামান্য খুঁড়ে দেখলেই দেখতে পাবেন, ‘ম্যাসকুলাইন’ বা ‘ফেমিনাইন’, যা হয়ে ওঠা তাঁর অভীষ্ট ছিল, তার সব শর্ত হয়তো পূরণ হয়নি তাঁর জীবনেও। কঠোরভাবে সিস-হেটেরো পুরুষের মনেও সন্তানের মুখ দেখে স্নেহধারা বয়, যা সামাজিক সংজ্ঞায় ‘পুরুষালি’ নয়। জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতে আমরা প্রায়শ ঠুনকো ‘জেন্ডার স্টিরিয়োটাইপ’ ভেঙে ফেলি। তার পর সামাজিক চোখরাঙানির ভয়ে নিজেদের আবার খোপে এঁটে নেওয়ার চেষ্টা করি। ‘এলজিবিটিকিউএ+’ গোষ্ঠীর মানুষেরা তা ভাঙেন সরবে ও সগৌরবে— পোশাকে, আচরণে, সঙ্গী নির্বাচনে। দ্বিত্বের খোপে তাঁরা শুরু থেকেই আঁটছিলেন না যে!

লাকাঁ-র সাইকোঅ্যানালিসিস, বিনির্মাণবাদ, ভাষাতত্ত্ব ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে তৃতীয় তরঙ্গের নারীবাদী জুডিথ বাটলার কিছু নতুন কথা বললেন। বললেন, ‘জেন্ডার’ শুধু সমাজনির্মাণ নয়। জেন্ডার একটি ‘পারফরমেন্স’। ‘অভিনয়’। আমরা সকলেই বার বার সমাজনির্দিষ্ট কিন্তু লিঙ্গনির্ধারিত কিছু ভূমিকায় অভিনয় করে চলেছি। এই পৌনঃপুনিকতায় সমাজ তুষ্ট হচ্ছে। কিন্তু জেন্ডার আসলে স্থির নয়, তা পরিবর্তনশীল। তা ক্রমবিকশিত হতে পারে। কখনও কখনও সমপ্রেমী ছেলেকে, বা পুরুষশরীরে আবদ্ধ কোনও নারীকে, তাদের বাবা-মায়েরা বলেন, ‘বিয়ে করে একটা বাচ্চার জন্ম দাও, তার পর যা ইচ্ছে করো— তা হলে কেউ জানতে পারবে না।’ (অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁরা ‘গ্রামের গরিব মেয়ে’কে বিয়ে করতে বলেন এ ক্ষেত্রে।) তাঁরা সেই ট্রান্স বা গে মানুষটির থেকে যা চাইছেন, তা হল বাটলার-বর্ণিত ‘পারফরমেন্স।’ আর ‘জেন্ডার স্থির নয়’, এ কথার মানে কী? আজ যাকে সিস-হেটেরো মনে হচ্ছে, হয়তো সে নিজেকে চিনতে পারেনি। হয়তো কখনও সে ‘ক্যুয়ার’ রূপে আত্মপ্রকাশ করবে। আবার আজ যে পুরুষ নিজেকে ‘গে’ বলছে, হয়তো কখনও সে বুঝবে, সে পুরুষকে ভালবাসে ঠিকই, কিন্তু পুরুষ হিসেবে নয়, নারীর মতো করে— সে আসলে নারী হতে চায়। আবার, সে যে নারী হতে চায়, তা হয়তো এক আত্মিক ‘হয়ে ওঠা’, হয়তো তার সঙ্গে বাহ্যিক কাটাছেঁড়ার সম্পর্কই নেই। এই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতাকেই বলা হয় লিঙ্গ-তারল্য।

সেই সমুদ্রসৈকতের সংলাপে ফিরে যাই: পরিবর্তন এক অনন্ত প্রক্রিয়া। নিজেকে চেনা এক চিরন্তন যাত্রা। জুডিথ বাটলারের সঙ্গে ঋতুপর্ণ মিলেমিশে যান। বাটলার ‘ডিজ়ায়ার’ শব্দটি নিয়েও চর্চা করেছেন। তাঁর মতে, ‘জেন্ডার’ যদি ‘পারফরমেন্স’ হয়, তা হলে কামনাই বা প্রশ্নাতীত ভাবে মূলগত হয় কী করে? যাকে আমি আমার কামনা বলে ভাবি, তার উপরে কি সমাজনির্দিষ্ট ‘পারফর্মেটিভিটির’ চাপ নেই? ভাষা, সামাজিক আচার-বিচার, সংস্কৃতি আমার কামনাকে আকার দেয়নি তো? এ-সব অস্বস্তিকর প্রশ্নকে বেআব্রু করে দেয় অপর-ভীতি থেকে মুক্তিলাভের রূপক এই ১৭ মে। কিংবা জুন মাসের ‘প্রাইড’ যাপন।

১৯৯৯ সালে ভারতের প্রথম প্রাইড ওয়াকে হেঁটেছিলেন কলকাতার জনা কুড়ি সমপ্রেমী যুবক। প্রচারহীন, বিজ্ঞাপনহীন, স্পনসরহীন। বিকেলে প্রেস ক্লাবে তাঁরা জানিয়েছিলেন যে, সকালবেলায় ভারতের প্রথম প্রাইড ওয়াক-টি হয়ে গেছে ধর্মতলা-পার্ক স্ট্রিট অঞ্চলে ‘ফ্রেন্ডশিপ ওয়াক’ নামে। সাংবাদিকরা ছবি চেয়েছিলেন। হাতে হাতে মোবাইল ক্যামেরা না থাকায় তাঁরা তা দিতে পারেননি। তাঁদের আবার হাঁটতে হয়েছিল সাংবাদিকদের অনুরোধে। আর্কাইভে ভারতের প্রথম প্রাইড ওয়াক-এর যে ছবি পাওয়া যায়, তা সেই পুনর্বার হাঁটার ছবি। একবিংশ শতকে ছবিটা বদলে গেছে অনেক। ‘প্রাইড’-এ বেড়েছে চমক, জমক, বিনিয়োগ। এলাহি মিছিলে হাঁটার জুতসই পোশাক কেনার জন্য সারা বছর টাকা জমায় কোনও প্রান্তিক ট্রান্স মেয়ে। সে পুঁজিবাদের ফাঁদ বোঝে না। জানে না, ‘এইচ অ্যান্ড এম’ নামক আপাত-‘এলজবিটিকিউএ+’ বান্ধব পোশাক ব্র্যান্ডটির যাবতীয় কারখানা চিন দেশে, যেখানে সমপ্রেমী-রূপান্তরকামীরা অসম্মানিত হন নিত্যদিন, এবং ব্র্যান্ডটি সে ব্যাপারে কোনও অবস্থান নেয় না। যে লেসবিয়ান মেয়েটি কবিতা লেখে, তার মিছিলের শোরগোল ভাল লাগে না, তবু সে ‘প্রাইড’-এ যায়। পরিচিতির মুখোশটা পরে নেয় কবিমুখে, আর ভাবে, সিস-হেটেরো পুরুষ কবি হলেই একমাত্র যখন-তখন একা হতে পারা যেত। নানা চাপান-উতোর, নানা খুঁত সত্ত্বেও স্বপ্ন নিয়ে তারা ‘প্রাইড’ মিছিলে আসে। কেতাবে অসুখের নাম আর নেই, কিন্তু তেরছা দৃষ্টি, কোঁচকানো নাক, ভ্রু-র তির্যকতা আজও বহাল যে!

স্বপ্নগুলো ছোটখাটো। সুউচ্চ বিলবোর্ড থেকে ব্যাঙ্কিং কর্পোরেট মাটিতে নেমে এসে হাউস লোন দেবে সমপ্রেমী দম্পতিকে। বিমা সংস্থা বার বার বিষম-বৈবাহিক বা রক্তের সম্পর্কের খোঁজ করবে না ‘নমিনি’ বাছাই পর্বে। সহযাপন শুরু করার দিন মফস্সলি স্কুলের বন্ধুরা এসে জড়িয়ে ধরবে ‘ক্যুয়ার’ দম্পতিকে। ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের মেয়েরা ট্রান্স-মানুষের জন্যও ধর্ষণ প্রতিকার আইন দাবি করবে। দত্তক সংস্থা শিশুর নরম আঙুল ধরিয়ে দেবে তথাকথিত ‘অদ্ভুত’ দম্পতির হাতে। এই সব টুকটাক ইচ্ছেরা। ‘চিত্রাঙ্গদা’র কথা দিয়েই শেষ করি। সেই যে রুদ্রর মা তার বাবাকে বলেন:

কোনটা ‘স্বাভাবিক?’ যার যা ‘স্বভাব’, সেটাই তো তার ‘স্বাভাবিক।’ স্বভাবেরও তো একটা ইচ্ছে আছে!

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Homosexuality Transgender

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy