Advertisement
E-Paper

মডার্ন যোগ সাজেশন

হাত-পা সোজা করে, চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। এমন টান হয়ে থাকুন, গাঁটগুলো যেন কড়কড় করে ওঠে। সারা রাত এতটুকু নড়বেন না। নড়লে অবশ্য কটাং খোঁচা খেয়ে ফের চিৎ হয়ে যাবেন, কারণ ডান পাশ ফিরলেই ফুটে যাবে দিদির কঙ্কাল, বাঁ পাশ ফিরলেই ল্যাব্রাডরের কঙ্কাল। ঘুমিয়ে পড়লে, স্বপ্ন দেখুন, পাভলভে গেছেন, দুর্দান্ত ব্রেকফাস্টে দেওয়া হচ্ছে পুরুষ্টু ডিম ও কলা।

অনেকে মিলে

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০১৫ ০০:০৩
ছবি: সুমন চৌধুরী

ছবি: সুমন চৌধুরী

* কঙ্কালাসন
হাত-পা সোজা করে, চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। এমন টান হয়ে থাকুন, গাঁটগুলো যেন কড়কড় করে ওঠে। সারা রাত এতটুকু নড়বেন না। নড়লে অবশ্য কটাং খোঁচা খেয়ে ফের চিৎ হয়ে যাবেন, কারণ ডান পাশ ফিরলেই ফুটে যাবে দিদির কঙ্কাল, বাঁ পাশ ফিরলেই ল্যাব্রাডরের কঙ্কাল। ঘুমিয়ে পড়লে, স্বপ্ন দেখুন, পাভলভে গেছেন, দুর্দান্ত ব্রেকফাস্টে দেওয়া হচ্ছে পুরুষ্টু ডিম ও কলা।
উপকার: গাঁট আড়ষ্ট রাখার ফলে স্পন্ডিলাইটিস হবেই। ঘাড়ে দায়িত্ব নিতে হবে না, চাকরিও ছেড়ে দিন।
খেয়াল রাখার: লাফঝাঁপ না থাকলেও, এই আসনে খুব পরিশ্রম, তাই দামি ও রগরগে হোম ডেলিভারি আনান। পুষ্টি ও তুষ্টি ভাল হবে। টায়ার্ড লাগলে, স্নানটা বাদ দিন।
কারা করবেন না: যাঁরা আগেই কঙ্কাল হয়ে গেছেন। যাঁরা ল্যাব্রাডর পোষেন না।

* জুরাসিকাসন

ডাইনিং টেবিলের সাত পা দূরে হাত দুটো বুকের কাছে ছোট্ট করে গুটিয়ে দাঁড়ান। টেবিলে, থালায় রাখুন কাঁচা সবজি, কাঁচা মাংস। এ বার আলজিভ কাঁপিয়ে বিকট গর্জন করে, থালাটার দিকে পাঁইপাঁই তেড়ে এসে, বিরাট হাঁ করে এক গ্রাসে যা পারেন মুখে নিয়ে চিবোন। যত ক্ষণ না থালা ফাঁকা হয়, করে যান।

উপকার: রান্নার পাট উঠিয়ে দিন, কাঁচা খাওয়া অভ্যাস হয়ে গেছে। পাড়ার লোক গর্জন শুনে ধারেকাছে ঘেঁষবে না, কাঁচা চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাসের কথা জানলে আরওই না। পা আর মুখের পেশি তো তরতরে হবেই, এই ডায়েটে এনার্জিও পাবেন প্রাগৈতিহাসিক।

খেয়াল রাখার: প্রেমিকা, অনূর্ধ্ব আড়াই বছরের বাচ্চা ও মিডিয়ায় থাকা বন্ধুর সামনে ব্যায়ামটি করবেন না। প্রথম জন ভেগে যেতে, দ্বিতীয় জন পটল তুলতে ও তৃতীয় জন টিভি চ্যানেলে খবর দিতে পারে। তা ছাড়া, নেমন্তন্ন-বাড়ি গিয়ে এ ভাবে খাওয়ার দরকার নেই।

কারা করবেন না: যে গোঁড়া হিন্দুরা মনে করেন ‘ডাইনোসর’ বলে কিছু নেই, ‘ডাইন’ ও ‘অসুর’ মিলিয়ে ওই মনস্টার হিন্দুদেরই সৃষ্টি, স্পিলবার্গ চুরি করেছেন।

* রিয়েলিটি আসন

বাড়িতে তিন জন বিচারক মোতায়েন করুন। এঁরা আপনার সমস্ত কাজের তক্ষুনি-মূল্যায়ন করবেন। সকালে উঠে কেমন দাঁত মাজলেন, তিন জন আলাদা আলাদা নম্বর দেবেন। খবরের কাগজ কী স্পিডে পড়ছেন, নম্বর। প্যান্ট কেমন ইস্তিরি হয়েছে, নম্বর। প্রতিটি নম্বর শোনার পরেই, দশ-এ পাঁচের ওপরে হলেই, লাফিয়ে উঠে হাত শূন্যে ঝাঁকান ও হাঁটু গেড়ে বসে মাথা মাটিতে ঠুকুন যত ক্ষণ না কপাল আলু। পাঁচের কম হলে, চোখে নখ খুঁচিয়ে জল বার করুন, সঙ্গে ল্যাজে ঘা-খাওয়া গোখরোর মতো ফোঁসফোঁস।

উপকার: ভাল নম্বর পেলে বাড়বে কনফিডেন্স, হাত ও পায়ের পেশি, হাঁটুর জোর। আর্চ করে প্রণাম করায় পিঠ ও কোমরও সাবলীল হবে। নম্বর কম পেলে, মেকি কান্না চোখকে রাখবে ভিজে, তাতে মণিও ভাল থাকে। ফোঁস ফোঁস শ্বাস তো কপালভাতির বাবা।

খেয়াল রাখার: জাজ অ্যাপয়েন্ট করুন এমন লোক দেখে, যাঁদের কোনও কাজ নেই। কারণ, নিজের কাজ থাকলে কেউ অন্যের ধ্যাড়ানো দেখতে সময় ব্যয় করে না। আর, যৌনতার সময় তিন জন জাজ উপস্থিত থাকলে জটিলতা বাড়তে পারে।

কারা করবেন না: যাঁরা এক থেকে দশ জানেন না, তাই নম্বর কম না বেশি বুঝতে পারেন না।

* সোয়াইপাসন

সোয়াইপ করার আসন। বুড়ো আঙুলটা কলা দেখানোর মতো হাওয়ায় তাক করুন। তার পর ক্রমাগত ডাঁয়ে-বাঁয়ে নাড়াতে থাকুন। অন্তত ত্রিশ হাজার বার করুন।

উপকার: বুড়ো আঙুলের কমর্ক্ষমতা চার গুণ হয়ে যাবে। ফলে স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের যাবতীয় কাজে দিগ্বিজয় করবেন। যত শপিং অ্যাপ ও পোর্টাল আছে তার গুদাম একলা খালি করে দেবেন। অনলাইনের সেলে সবার আগে সেরা ফোন হাতিয়ে নিতে পারবেন।

খেয়াল রাখার: এক বছর টানা সোয়াইপাসন করার পর বুড়ো আঙুল স্বাভাবিকের থেকে একটু বড় হয়ে যায়। কয়েক বছর পর অন্যান্য আঙুলদের ছাড়িয়ে তালগাছের মতো লম্বা হতে থাকে। তা নিয়ে লজ্জিত হবেন না, সগৌরবে ‘ফ্লন্ট’ করুন।

কারা করবেন না: যাঁরা নিজেদের এত ইয়াং ভাবেন, কোনও আঙুলকেই ‘বুড়ো’ মেনে নেন না।

* পিকু আসন

কমোডে বসুন, সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে উঠে পড়ুন ও ‘কেন হচ্ছে না’ নালিশ করে সকলকে মুখ-খারাপ করুন। ফের বসুন, তক্ষুনি লাফিয়ে উঠে, নতুন নতুন লোককে নতুন নতুন গালাগালি দিন। চালিয়ে যান, যত ক্ষণ না বাড়ির লোক অতিষ্ঠ হয়ে দরজা ভাঙার জোগাড় করছে।

উপকার: অত বার ওঠবোস করলে হাঁটুর ব্যথা গায়েব, কাফ মাস্‌লও শক্ত। নতুন গালাগালি খুঁজতে ভোকাবুলারি তন্দুরস্ত।

খেয়াল রাখার: কমোডে বসলেই রিফ্লেক্স অ্যাকশনে যদি করে ফেলেন, তা হলে ছেড়ে দিন।

কারা করবেন না: যাদের ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি নেই।

* দ্বিমিনিটাসন

এক বাটি ম্যাগি নিন। দু’ঠোঁট গোল ও সরু করে, সুড়ুৎ করে ম্যাগি মুখের মধ্যে টেনে নিন। সাবধান, গিলে ফেলবেন না। দশ সেকেন্ড মুখে রেখে, ফের অ্যান্টি-সুড়ুৎ করে ম্যাগি প্লেটে ফেলুন। দু’মিনিট চালিয়ে যান।

উপকার: ম্যাগির প্যাকেট কেনা আছে কিন্তু সিসে গিলে ফেলার ভয়ে খেতে পারছেন না, সেগুলো কাজে লেগে গেল। আর, ওষ্ঠকাঠিন্য কেটে গিয়ে, চুমুর পটুতা তিরিশ গুণ বাড়বে, চুমু-টাইমও।

খেয়াল রাখার: বারান্দায় করবেন না, ম্যাগি খাচ্ছেন দেখলে অ্যাটেম্পটেড সুইসাইডের দায়ে সরকারি লোক ধরতে পারে।

কারা করবেন না: ঠোঁটকাটা।

* ছড়াসন

ঘরে পাঁইপাঁই পাক খেতে খেতে, বা উত্তরবঙ্গের রিসর্ট-সার্কিট হাউসের বাগানে হনহন করে হাঁটতে হাঁটতে, মুখে মুখে ছড়া তৈরি করুন। আবছা ও দুর্বোধ্য হলে ক্ষতি নেই, আসল কথা হল, চুলবুলে চটপটা হতে হবে। সিম্পল অন্ত্যমিল থাকবে— মানুষ/ফানুস, ঠ্যাং/ড্যাডাং ড্যাং, ঢেউ/ঘেউ।

উপকার: একমাত্র আসন, যা শুধু নিজেকে নয়, অন্যকেও রিল্যাক্স করায়। আপনার ছড়া শুনে সত্তর কোটি লোক ফ্যাকফেকিয়ে হাসবে।

খেয়াল রাখার: বিরোধীদের খোরাক হতে পারেন। ‘চক্রান্ত’, ‘সাজানো/ছোট্ট ঘটনা’, ‘প্রি-রেকর্ডেড’ বলে উড়িয়ে দিন। ফের ছড়াসনে বসুন।

কারা করবেন না: যাঁরা এত আপসেট, কিছুতেই আসনে সেট হচ্ছেন না। যাঁরা ছড়া বানালেই ছড়ান।

Modern yoga suggestion skeleton pavlov jurassic park
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy