পোলাও-বিরিয়ানি ভালবাসেন? তা হলে এই রেসিপি মেনে তা আরও মুখরোচক করে তুলুন

সুমা বন্দ্যোপাধ্যায়
পোলাও-বিরিয়ানি ভালবাসেন? তা হলে এই রেসিপি মেনে তা আরও মুখরোচক করে তুলুন

নিত্য দিন সাদা ভাত কি আর মুখে রোচে! কখনও পোলাও কখনও বিরিয়ানি হলে দারুণ জমে যায়। আর তা যদি আসে ওপার বাঙলার ওস্তাদ রন্ধনশিল্পির হেঁশেল থেকে তা হলে তো কথাই নেই! এ রকমই কিছু রান্নার রেসিপি শেখাচ্ছেন ঢাকার সেলিব্রিটি রেসিপি ডেভলপার আফরোজা নাজনিন সুমি। 

পোলাও জাতীয় অসামান্য রেসিপির উদ্ভব পারস্যদেশে বলে অনেকেই দাবি জানান। কিন্তু ইতিহাস অন্য কথা বলছে। জানা গিয়েছে, যিশুখ্রিস্টের জন্মের ৩৩০ বছর আগে সমরখন্দে প্রথম পোলাও নামে এক স্বাদু ভাত রান্না করা হয়েছিল।

তার পর পারস্য থেকে আরব হয়ে উজবেকিস্তান, আফগানিস্তান-সহ বিভিন্ন দেশের মানুষ সুস্বাদু পোলাওয়ের স্বাদে মোহিত হন। ক্রমশ পোলাও ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের খাদ্যরসিক মহলে।

বাংলাদেশের তামাম বড় রেস্তরাঁগুলির অসাধারণ পোলাও-বিরিয়ানির সম্ভার থেকে যদি শিখে নেওয়া যায় এমন দুই পদ, যা সহজেই বাড়িতেও বানিয়ে নেওয়া যায়, তা হলে কেমন হয়? রইল একটি পোলাও ও একটি বিরিয়ানির রেসিপি।

আরও পড়ুন: রোজ অ্যাসিডিটি বা বদহজমের সমস্যা? ওষুধ ছাড়াই সুস্থ থাকুন এই সব উপায়ে

ঝাল পোলাও

উপকরণ

মাংসের জন্য: মুরগি ১টা,

হলুদ গুঁড়া আধ চা-চামচ, 

লঙ্কা গুঁড়া ১ চা-চামচ,

কাঁচালঙ্কা  চেরা: ১০টি

পিঁয়াজ কুচি: ২ টেবিল চামচ,

পিঁয়াজ বাটা: ১ চা-চামচ

 তেজপাতা: ১টা

 আদা বাটা:১ চা-চামচ,

রসুন বাটা: আধ চা-চামচ

 জিরা বাটা: ১ চা-চামচ

লবণ: স্বাদ মতো

তেল: পরিমাণ মতো।

মাংস রান্নার প্রণালি: গরম তেলে তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে পিঁয়াজ কুচি ভেজে তাতে বাকি সব মশলা দিয়ে নেড়ে কষিয়ে মুরগিটা দিন। কষানো হলে কাঁচা লঙ্কা ও জল দিয়ে ঢেকে রাখুন। মাখা মাখা হলে নামিয়ে নিন।

পোলাওয়ের জন্য

পোলাওয়ের চাল ৫০০ গ্রাম

রসুন কোয়া ৬টা

 কাঁচা মরিচ ফোড়ন ৬টা

পিঁয়াজ কুচি ২ টেবিল চামচ

 আস্ত গরমমশলা (তেজপাতা, এলাচি, দারুচিনি): পরিমাণ মতো

আদা বাটা: ১ চা-চামচ

 তেল ও ঘি: পরিমাণ মতো

লবণ: স্বাদ মতো

বেরেস্তা: ২ টেবিল চামচ ।

ঝাল পোলাও রান্নার প্রণালি:

চাল ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। এরপর একটি পাত্রে তেল ও ঘি দিয়ে গরম করে পেঁয়াজ ভেজে তাতে গরমমশলা, রসুন কোয়া, আদা বাটা দিয়ে নেড়ে চাল,কাঁচা লঙ্কা ও লবণ দিয়ে নেড়ে ভেজে নিন। এ বার জল দিয়ে ঢেকে দিন। পোলাও প্রায় হয়ে এলে রান্না করা মুরগি কাঁচা মরিচ এবং আরও খানিকটা ঘি দিয়ে ঢেকে দমে দিন৭-৮ মিনিটের জন্য। এর পর নামিয়ে বেরেস্তা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

আরও পড়ুন: এই ভাবে বানান মশলাদার জংলি মটন

আখনি বিরিয়ানি

উপকরণ ১

চিনিগুঁড়ো চাল: ২ কেজি

মাংস: ৪ কেজি

 পিঁয়াজ কুচি: ২ কেজি

 রসুন বাটা: ২০০ গ্রাম

 আদা বাটা: ২০০ গ্রাম

 সাদা সরিষা: ৫০ গ্রাম

 চিনাবাদাম: ৫০ গ্রাম

নারকেল কুচি: ২০০ গ্রাম

 লঙ্কা গুঁড়ো: স্বাদ মতো

 হলুদ গুঁড়ো: ২ টেবিল চামচ

 গরম মশলা: পরিমাণ মতো

 টম্যাটো: ১ কেজি

 কাঁচলঙ্কা: ১০-১২টা

তেল: ১ কাপ

ঘি: ১ কাপ

 জিরা গুঁড়ো: ১ টেবিল চামচ

ধনে গুঁড়ো: ১ টেবিল চামচ

 টকদই: ২ কাপ

লবণ ও গরম জল: পরিমাণ মতো।

উপকরণ ২

মুখ চেরা এলাচি: ১০টি

দারুচিনি (২ ইঞ্চি): ৪ টুকরো

লবঙ্গ: ১০টি

জায়ফল: ১টি

জয়ত্রী: ২ টেবিল চামচ

শাহি জিরা: ২ চা চামচ

কেওড়া: ২ টেবিল চামচ

গোলাপজল: ২ টেবিল চামচ।

প্রণালি: চাল ও মাংস ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিতে হবে। গরম জল ছাড়া মাংসে ১ নং উপকরণের মশলা, তেল ও ঘি মেখে আঁচে বসাতে হবে। মাঝারি আঁচে মাংস রান্না করতে হবে। মাঝেমধ্যে নেড়ে দিতে হবে। সেদ্ধ হলে চাল মাংসে ঢেলে দিয়ে পাঁচ মিনিট কষাতে হবে। এ বার পরিমাণ মতো গরম জল দিতে হবে।

উপকরণ ২–এর মশলা তাওয়ায় ভেজে গুঁড়ো করে নিতে হবে। চাল ও মাংসের জল শুকিয়ে এলে গুঁড়ো মশলা দিয়ে দমে বসাতে হবে। চাল ফুটে উঠলে কেওড়া ও গোলাপ জল দিতে হবে। কিছু ক্ষণ দমে দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। বড় পাত্রে আখনি বিরিয়ানি নিয়ে বেরেস্তা ছড়িয়ে পরিবেশন করতে হবে।