Advertisement
E-Paper

কন্ডোম বা অস্ত্রোপচার নয়! লাগবে না কোনও হরমোনও, পুরুষদের জন্য ‘গর্ভনিরোধক’ তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা!

পুরুষদের জন্য সাময়িক কোনও গর্ভনিরোধক আবিষ্কারের চেষ্টা এই প্রথম নয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা, পৌরুষত্বে স্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যায়। এ বার তা বদলাচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৩

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ বা ইঞ্জেকশন কেবল মহিলাদের জন্যেই রয়েছে। পুরুষের জন্য কন্ডোম বা অস্ত্রোপচার ছাড়া জন্ম নিয়ন্ত্রণের আর কোনও উপায় এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। এ বার সেই ধারাতেই বদল আসতে চলেছে। পুরুষদের জন্য ‘গর্ভনিরোধক’ তৈরি করে ফেলেছেন বিজ্ঞানীরা। প্রক্রিয়া আবিষ্কৃত। এখন কেবল তার প্রয়োগের অপেক্ষা!

পুরুষদের জন্য সাময়িক কোনও গর্ভনিরোধক আবিষ্কারের চেষ্টা এই প্রথম নয়। দীর্ঘ দিন ধরেই তা নিয়ে আলোচনা, পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা, পৌরুষত্বে স্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই এই ধরনের উপায় পাওয়া গেলেও তা কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়নি এখনও। নিউ ইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সেই অঙ্কের জটই খুলতে পেরেছেন। জানিয়েছেন, তাঁরা পুরুষদের জন্য একটি নিরাপদ, সাময়িক, হরমোনবিহীন এবং ১০০ শতাংশ কার্যকরী জন্ম নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেছেন। তাতে কোনও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে না কিংবা সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতায় স্থায়ী কোনও ক্ষতিও হবে না। দীর্ঘ ছ’বছর ধরে ইঁদুরের উপর এই প্রক্রিয়া পরীক্ষা করে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। তার পর এসেছে সাফল্য।

পুরুষদেহে জননকোষ বা শুক্রাণু উৎপন্ন হয় মায়োসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে বাধা দিলে শুক্রাণুর উৎপাদন সাময়িক ভাবে ব্যাহত হয়। আলাদা করে পুরুষদেহে তার জন্য কোনও ক্ষতি হয় না। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণার ফল প্রকাশ করেছেন ‘প্রসিডিংস্ অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস’ পত্রিকায়। সেখানে বলা হয়েছে, মায়োসিসে বাধা দিতে পরীক্ষাগারে ব্যবহার করা হয়েছিল জেকিউ১ নামের একটি যৌগ। মূলত ক্যানসার এবং প্রদাহজনিত রোগের গবেষণায় এই যৌগ কাজে লাগত এত দিন। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই যৌগ মায়োসিসের ‘প্রফেজ় ১’ নামক পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তাতে সাময়িক ভাবে বন্ধ হতে পারে শুক্রাণুর উৎপাদন। কর্নেল রিপ্রোডাক্টিভ সায়েন্সেস সেন্টারের পরিচালক তথা জিনবিদ্যার অধ্যাপক পলা কোহেনের কথায়, ‘‘অণ্ডকোষে গর্ভনিরোধক স্থাপন যে শুক্রাণু উৎপাদন রোধের একটি কার্যকরী উপায় হতে পারে, আমরাই তা প্রথম দেখালাম। এতে কোনও স্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রয়োজনে স্বাভাবিক মায়োসিস প্রক্রিয়া এবং শুক্রাণুর সম্পূর্ণ কার্যকারিতা ফিরে পাওয়া সম্ভব। এই প্রক্রিয়ায় গর্ভনিরোধক ব্যবহার করার পর কোনও পুরুষ চাইলে সফল ভাবে সন্তান উৎপাদন করতে পারবেন। সন্তানের স্বাস্থ্যও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকবে।’’

Advertisement

পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণের উপায় কন্ডোম ছাড়া এখন কেবল ‘ভ্যাসেকটমি’। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় অস্ত্রোপচারে অনেকেই দ্বিধা করেন। হরমোনভিত্তিক কোনও পদ্ধতি আবিষ্কারেও বাধা রয়েছে। তাতে নারীদের স্বাস্থ্যে ঝুঁকি থেকে যায়। আবার, কন্ডোমও গর্ভনিরোধক হিসাবে ১০০ শতাংশ নিরাপদ নয়। ফলে পুরুষদের হরমোনবিহীন, সাময়িক কোনও গর্ভনিরোধক আবিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা ছিল। সেই চাহিদাই এত দিনে মিটতে চলেছে বলে মত কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের। তাঁরা জানিয়েছেন, পুরুষদেহে শুক্রাণু বিকাশের অন্য অনেক পর্যায় রয়েছে। তা সত্ত্বেও গর্ভনিরোধকের জন্য মায়োসিসকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কারণ, এতে শুক্রাণু উৎপান সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ফের স্বাভাবিক পর্যায়ে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। সামগ্রিক প্রজনন স্বাস্থ্যও এতে সুরক্ষিত থাকবে। কোহেন বলেন, ‘‘আমরা স্পার্মাটোগোনিয়াল স্টেম সেলগুলিকে প্রভাবিত করতে চাইনি। কারণ, সেগুলিকে মেরে ফেললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলবেন।’’ তা ছাড়া, শুক্রাণু স্পার্মিওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করলে কিছু কার্যকর শুক্রাণু থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সে ক্ষেত্রে তা বাইরে বেরিয়ে এসে ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করার সম্ভাবনাও থেকে যায় বলে জানিয়েছেন কোহেন।

গবেষণাগারে পুরুষ ইঁদুরদের উপর জেকিউ১ যৌগটি তিন সপ্তাহ ধরে প্রয়োগ করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই সময়ে শুক্রাণু উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মায়োসিসের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলিও ব্যাহত হয়েছিল। প্রক্রিয়া বন্ধ করলে পরবর্তী ছ’সপ্তাহের মধ্যে ইঁদুরগুলি ফের স্বাভাবিক শুক্রাণু উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। এই ইঁদুরগুলিকে প্রজননেও ব্যবহার করা হয়েছিল। দেখা গিয়েছে, তাদের বংশবৃদ্ধির ক্ষমতায় কোনও প্রভাব পড়েনি। যদিও ইঁদুর এবং মানুষের শরীরে গর্ভনিরোধক প্রয়োগে তফাৎ আছে, মানছেন কোহেনরা। তাঁদের মতে, মানুষের ক্ষেত্রে এই গর্ভনিরোধক প্রতি তিন মাস অন্তর ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

Birth Control Male Reproductive System Sperm
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy