কোপা আমেরিকায় তেইশ জনের আর্জেন্টিনা দলে প্রত্যাশিত ভাবে রয়েছেন লিয়োনেল মেসি। বুয়েনস আইরেসে দল ঘোষণা করলেন কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। তেইশ জনের দলে আছেন ম্যাঞ্চেস্টার সিটির তারকা সের্খিয়ো আগুয়েরো এবং প্যারিস সাঁ জারমাঁ-র আঙ্খেল দি মারিয়াও। তবে চেলসি ও জুভেন্তাসের স্ট্রাইকার গঞ্জালো ইগুয়াইনকে নেওয়া হয়নি। বাদ পড়ছেন ইন্টার মিলানের ফরোয়ার্ড মাউরো ইকার্দিও। তবে ইকার্দির বাদ পড়ার কারণ আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে চুক্তি সংক্রান্ত মতানৈক্য।

দল ঘোষণা করে স্কালোনি বলেছেন, ‘‘জাতীয় দলের পক্ষে অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় আমরা সেরা ফুটবলারদেরই পাচ্ছি।’’ এ বারের কোপা আমেরিকা হবে ব্রাজিলে। শুরু ১৪ জুন। আর্জেন্টিনা ‘বি’ গ্রুপে আছে। তাদের গ্রুপে রয়েছে কলম্বিয়া, প্যারাগুয়ে ও ‘অতিথি’ দেশ কাতার। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক এবং বর্তমান এশীয় চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কাতারকে এ বারের প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। 

রাশিয়া বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার দীর্ঘদিন পরে (প্রায় আট মাস) গত মার্চে মেসি প্রথম জাতীয় দলের জার্সিতে ম্যাচ খেলেন। কোপা আমেরিকা চলার সময়ই তিনি বত্রিশ বছরে পা দেবেন। মেসির মতো দি মারিয়াও গত মার্চেই জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেন। ভেনেজ়ুয়েলা ও মরক্কোর বিরুদ্ধে ফিফা ফ্রেন্ডলিও খেলেন। তবে আগুয়েরোকে দলে নেওয়া হল রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে ৩-৪ হেরে বিদায় নেওয়ার পরে প্রথম বার। ইকার্দির বাদ পড়া প্রসঙ্গে আর্জেন্টিনা কোচ বলেছেন, ‘‘সবাইকে খুশি করা সম্ভব নয়। ওকে দলে রাখা যাবে কি না তা নিয়ে আমার মনে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংশয় ছিল।’’ কোপা আমেরিকায় কি মেসিকেই দেখা যাবে অধিনায়ক হিসেবে? স্কোলানি বলেছেন, ‘‘তা এখনই ঠিক করার দরকার আছে বলে মনে করছি না। তবে এটা সকলেই জানেন, মেসির মতো ফুটবলার দলে থাকলে তিনিই স্বাভাবিক ভাবে নেতৃত্ব দেবেন। শিবিরে সকলে যোগ দেওয়ার পরে সমস্ত কিছু নিয়ে আলোচনা হবে। তার মধ্যে নেতৃত্বের বিষয়ও থাকবে।’’ 

১৯৯৩ সালের পর আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা-সহ কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা জেতেনি। আর শেষ পাঁচটি কোপা আমেরিকায় চার বারই তারা ফাইনালে হেরে যায়।      

এ দিকে, এ বার ব্যালন ডি’ওর ট্রফির দৌড়ে আর্জেন্টিনীয় তারকাকেই এগিয়ে রেখেছেন বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের অন্যতম তারকা কিলিয়ান এমবাপে। প্যারিস সাঁ জাঁরমা তারকা বলেছেন, ‘‘ব্যালন ডি’ওর-এর দৌড়ে মেসিই এগিয়ে রয়েছেন। এ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার ব্যর্থতা দিয়ে ওর মূল্যায়ন হতে পারে না। ফুটবলের সমস্ত জায়গাতেই লিয়ো এক নম্বরে।’’ সেখানেই না থেমে তিনি আরও বলেছেন, ‘‘এই মরসুমের সার্বিক পারফরম্যান্স দিয়ে যদি বিচার করতে হয়, তা হলে বলতেই হবে মেসিই সেরা। তা নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে বলে আমি মনে করি না।’’ ব্যালন ডি’ওর দৌড়ে মেসির সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন এমবাপেও। তিনি বলেছেন, ‘‘কোনও উদ্বেগ নেই।’’