কবে শুরু করবেন প্রোদুনোভা ভল্ট? দেশের যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই তাঁকে এই প্রশ্ন করেছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। রিয়ো অলিম্পিক্সের পর  অস্ত্রোপচার করিয়ে দীর্ঘদিন ছিলেন ইভেন্টের বাইরে। 

রিহ্যাব করে সুস্থ হলেও দীপা কর্মকার এখনও শরীরে সেই জোর ফিরে পাননি যাতে নিজের প্রিয় ভল্ট শুরু করতে পারেন। কিন্তু নতুন ভল্টকে সঙ্গী করেই সফল প্রত্যাবর্তন ঘটালেন তিনি। জার্মানিতে আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক্সের বিশ্বকাপে ভল্ট বিভাগে জিতে নিলেন ব্রোঞ্জ। 

প্রোদুনোভার বদলে পদক জিততে ‘হ্যান্ড স্প্রিং সমারসল্ট ৩৬০’ বেছে নিয়েছিলেন দীপা। জাকার্তা এশিয়ান গেমসে প্রথম ওই নতুন ভল্ট দিতে গিয়ে চোট পান জিমন্যাস্টিক্সে ভারতের জনপ্রিয়তম তারকা। ছিটকে যান প্রতিযোগিতা থেকেই। কিন্তু মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ালেন দীপা। জার্মানির কাটবুসে শনিবার রাতে ব্রোঞ্জ জেতার পর  ফোনে দীপা বলে দিলেন, ‘‘পদক পাব ভাবিইনি। ষোলো জনের মধ্যে ছয় নম্বর হয়ে উঠেছিলাম ফাইনাল রাউন্ডে। আমার সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম সেরা জিমন্যাস্ট উরুগুয়ের ওকসানা এবং যুক্তরাস্ট্রের জেডে ক্যারেরা নেমেছিল। তাদের সঙ্গে লড়ে পদক পেয়ে দারুণ লাগছে। আমি খুশি। অত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল।’’

আরও পড়ুন: টোকিয়োর স্বপ্ন দেখা শুরু করে দিলাম আমরা

বিশ্বের ৫৬টি দেশ অংশ নিয়েছিল জার্মানিতে হওয়া এই বিশ্বকাপে। দু’বছর পরে টোকিয়ো অলিম্পিক্সের নামার যোগ্যতা পেতে নেমেছিলেন দীপার মতো অনেক প্রতিযোগী। এ বার অলিম্পিক্সে নামার যোগ্যতা পাওয়ার নিয়ম বদলেছে। বিশ্বজুড়ে যে আটটি বিশ্বকাপ হবে অলিম্পিক্সের যোগ্যতা পেতে হলে তার মধ্যে অন্তত তিনটিতে পদক পেতেই  হবে। ফলে  এ দিন ব্রোঞ্জ জিতলেও টোকিয়োর টিকিট পেতে দীপার এখনও অনেক লড়াই বাকি। জাপানের টিকিট পেতে হলে এরপর দোহা, বাকু, আজারবাইজান, অস্ট্রেলিয়ায় যে বিশ্বকাপগুলো হবে তার মধ্যে অন্তত আরও দুটিতে ত্রিপুরার মেয়েকে সফল হতে হবে। দীপা অবশ্য সেটা নিয়ে এখন ভাবতে নারাজ তিনি। বললেন, ‘‘টোকিয়ো যাওয়ার জন্য পরের বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে নামতে পারি। সুযোগ আছে। ওখানে সফল হলেই অলিম্পিক্সে নামার সুযোগ হয়তো পাব। তবে এ বার যে নিয়ম হয়েছে সেটা খুবই কঠিন। আমি সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’’

আরও পড়ুন: শেষ মুহূর্তে বাদ মিতালি, দাবি ব্যক্তিগত কোচের

জার্মানিতে এখন তাপমাত্রা মাইনাস তিন ডিগ্রি। সেখানে এ দিন বিম ইভেন্টে নেমে খুব খারাপ ফল করেন দীপা। বলছিলেন, ‘‘ওটা আমার সেরা ইভেন্ট নয়। তাই ততটা জোরও দিইনি। অপেক্ষা করছিলাম ভল্ট ফাইনালের জন্য।’’ দীপা নিজের লক্ষ্যে সফল। ‘হ্যান্ড স্প্রিং ফ্রন্ট সমারসল্ট ৩৬০’ দেওয়ার পাশাপাশি এ দিন সুকাহারা ৭২০ ভল্ট দেন দীপা। স্কোর হয় ১৪, ৩১৬। 

দীপার কোচ বিশ্বেশ্বর নন্দী বললেন, ‘‘দীপাকে নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছিল। এশিয়ান গেমসের পর তা আরও বেড়েছিল। সবাই ধরে নিয়েছিল দীপা আর কিছু করতে পারবে না। পদকটা জেতায় ওর আত্মবিশ্বাস বাড়বে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ বা অলিম্পিক্সে ভাল কিছু করতে হলে প্রোদুনোভা ভল্ট শুরু করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’’

স্বপ্ন দেখতে শুরু করবে সারা ভারতও। শনিবার খেলাধুলোর মঞ্চে দুই ভারতীয় নারীর সাফল্যের হাত ধরে বিশ্বাস ফেরানোর দিন ছিল যে!