স্মৃতি মান্ধানা এবং জেমাইমা রদ্রিগেজের ব্যাটিং দাপটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে এক দিনের সিরিজ জিতল ভারতীয় মহিলা দল। অ্যান্টিগায় তৃতীয় এক দিনের ম্যাচে ছয় উইকেটে জিতে ২-১ ফলে সিরিজ ছিনিয়ে নিল মিতালি রাজের দল। 

তৃতীয় তথা সিরিজের শেষ ম্যাচে স্যর ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে ১৯৫ রান তাড়া করার লক্ষ্য ছিল ভারতের সামনে। স্মৃতি (৭৪) এবং জেমাইমা (৬৯) শুরুতেই শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দেন দলকে। দু’জনে ওপেনিং জুটিতে তোলেন ১৪১ রান। দুই ওপেনারের দাপটেই ৪৭ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে যায় ভারত। 

কিন্তু ওপেনারদের পাশাপাশি বলতে হবে ঝুলন গোস্বামীর কথাও। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শেষের দিকে বল হাতে ভাঙেন ঝুলন। প্রথমে ব্যাট করে ১৮০-৫ থেকে ১৯৪ রানে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ঝুলন ওই সময় তুলে নেন দু’টি উইকেট। ৪৯তম ওভারে একটি রান আউটও করেন। ভারতকে যে খুব বেশি রান তাড়া করতে হয়নি, তার জন্য স্লগ ওভারে বড় অবদান ছিল ঝুলনের। মূল্যবান রান আউট করার পাশাপাশি ৩০ রানে দুই উইকেট নেন তিনি। লেগস্পিনার পুনম যাদবও নেন দুই উইকেট। 

প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ভাল হয়নি। ষষ্ঠ ওভারেই মিডিয়াম পেসার শিখা পাণ্ডে তুলে নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার নাতাশা ম্যাকলিয়েনকে। আট ম্যাচ নির্বাসিত থাকার পরে ফেরা হেইলে ম্যাথিউজ এবং শেরমাইন ক্যাম্পবেল মিলে ২৫ রান যোগ করে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও রাজেশ্বরী গায়কোয়াড় জুটি ভেঙে ভারতকে ম্যাচে ফেরান। রান আউট হয়ে যান ম্যাথিউজ। ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক এবং মহিলা ক্রিকেটের অন্যতম তারকা স্টেফানি টেলর প্রথম এক দিনের ম্যাচে ৯৪ অপরাজিত করে হারিয়ে দিয়েছিলেন ভারতকে। এ দিনও তিনিই সর্বোচ্চ রান (৭৯) করেন দলের পক্ষে। 

রান তাড়া করতে নেমে সতর্ক ভঙ্গিতেই শুরু করেন স্মৃতি এবং জেমাইমা। পঞ্চম ওভার নাগাদ তাঁরা প্রথম আগ্রাসী হতে শুরু করেন। আঠারো ওভারে গিয়ে ফ্লেচারকে দু’টি ছক্কাও মারেন স্মৃতি। তিনিই বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন এ দিন। ৬৩ বলে ৭৪ করেন স্মৃতি। ইনিংসে ৯টি চার, ৩টি ছক্কা। জেমাইমার ৬৯ আসে ৯২ বলে। তাঁরা আউট হয়ে গেলে পুনম রাউত (২৪) এবং মিতালি (২০) এগিয়ে নিয়ে যান ভারতকে। যদিও দু’জনেই আউট হয়ে যান জয়ের কাছাকাছি এসে এবং কিছুক্ষণের জন্য হলেও প্রথম এক দিনের ম্যাচে ১ রানে হারার স্মৃতি ফিরে এসেছিল। হরমনপ্রীত কৌর এবং দীপ্তি শর্মা অবশ্য ক্যারিবিয়ান দ্বীপপূঞ্জে ইতিহাসের লগ্ন হাতছাড়া হতে দেননি।