নয়ডার পাঁচ কামরার ফ্ল্যাট বাঁচাতে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। ৫৮০০ বর্গফুটের ওই ফ্ল্যাটটি ২০০৯ সালে ২০ লক্ষ টাকায় পান তিনি। তখন ফ্ল্যাটটির বাজার মূল্য ছিল ১.২৫ কোটি টাকা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিযুক্ত অডিটরদের রিপোর্টে এই তথ্য সামনে আসার পরই ধোনি মনে করছেন তাঁর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হতে পারে। তা আটকাতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ধোনি।

মহেন্দ্র সিংহ ধোনি ২০০৯ সালে নয়ডার সেক্টর ৪৫-এ পেন্টহাউস কেনেন আম্রপালী গ্রুপের কাছ থেকে। সেই ৫ বিএইচকে ফ্ল্যাটের সঙ্গে রয়েছে ফ্যামিলি লাউঞ্জও। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিয়োজিত ফরেন্সিক অডিটর রবি ভাটিয়া ও পবন কুমার অগ্রবালরা দেখেন, ধোনি-সহ ৬৫৫ জন আম্রপালী গ্রুপের কাছ থেকে ফ্ল্যাট পেয়েছেন একদম কম দামে। তখনই তাঁরা ধোনির কাছে জানতে চান, আম্রপালী গ্রুপের সঙ্গে তাঁর কীরকম আর্থিক লেনদেন হয়েছে।

ধোনি অডিটরদের জানান, তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্য আম্রপালী গ্রুপের কাছ থেকে কোনও ফান্ড নেননি। ধোনি বলেন, তিনি আম্রপালী গ্রুপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন। সেই বাবদ আম্রপালী গ্রুপের কাছে কয়েক কোটি টাকা পেতেন, যে টাকা আম্রপালী গ্রুপ তাঁকে দিতে পারেনি। এই ফ্ল্যাটের দাম সেই পারিশ্রমিকের বদলে দেখা উচিত।

আরও পড়ুন : জল নষ্টের অভিযোগ ওড়ালেন ধোনির বাবা

আরও পড়ুন : ভক্ত অসুস্থ শুনেই চিকিত্সা করিয়েছিলেন ধোনি!

অডিটররা সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া রিপোর্টে জানিয়েছেন, বহু ফ্ল্যাট জলের দরে, এমনকি ১ টাকা বর্গফুটের দামেও বিক্রি হয়েছে। আম্রপালীর বহু গৃহ প্রকল্পে হিসাব বহির্ভূত অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে। যদিও আম্রপালী গ্রুপ কাগজে কলমে দেখিয়েছে বহু ব্যক্তিকে সস্তায় ফ্ল্যাট বিক্রি করা হয়েছে। অথচ আম্রপালী গ্রুপ ১৫৯ কোটি কালো টাকা তুলেছে নগদে।

সুপ্রিম কোর্ট ইঙ্গিত দিয়েছে, এই সব ফ্ল্যাটের বিক্রির বৈধতা বাতিল করে নিলামে তোলা হবে। সেখান থেকে যে টাকা উঠবে, তা ব্যবহার হবে আম্রপালীর বাকি প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ করতে। এর পরেই ধোনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন যাতে তাঁর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন বাতিল না করা হয়।