গত ১৪ বছরে মরসুমে অন্তত এক বার তাঁরা কোনও না কোনও প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু এমনটা দেখা যায়নি! রাফায়েল নাদাল বনাম নোভাক জোকোভিচের লড়াইয়ে এই প্রথম স্প্যানিশ তারকা ৬-০ কোনও সেট জিতলেন সার্বিয়ার চ্যাম্পিয়নের বিরুদ্ধে। ইটালি ওপেনের ফাইনালে। টেনিসের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘বিগল’ (পোলান্ডে প্রথম তৈরি হওয়া এক ধরনের পাউরুটি। যা আকৃতিতে অনেকটা আংটি বা শূন্যের মতো)। শুরুর ছন্দ ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত নাদাল মরসুমের প্রথম ক্লে কোর্ট ট্রফি জিতলেন ৬-০, ৪-৬, ৬-১।

প্রথম সেটে দুরমুশ হওয়ার পরে দ্বিতীয় সেটে অবশ্য জোকোভিচ প্রবল ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। নাদালকে সার্ভিস ভাঙতে দেননি। উল্টে নাদালের সার্ভিস ভেঙে ৬-৪ ঘুরে দাঁড়ান তিনি। ফাইনালে ঠিক যে রকম লড়াইয়ের আশায় ছিলেন টেনিসপ্রেমীরা আর কী! ফলে শুরুটা দুরন্ত করেও টুর্নামেন্টে প্রথম সেট হারান নাদাল। ম্যাচ গড়ায় তৃতীয় সেটে। এ বার শুরুতেই জোকোভিচের সার্ভিস ফের ভাঙেন নাদাল। হতাশায় কোর্টে আছড়ে র‌্যাকেট ভাঙেন জোকোভিচ। সেখান থেকে আর ম্যাচ জিততে সমস্যা হয়নি নাদালের।

রোমে বিশ্বের এক বনাম দুই নম্বরের মধ্যে ফাইনালের আগে সবচেয়ে বেশি চর্চায় ছিল নাদালের ছন্দ। ২০০৪ থেকে ক্লে-কোর্ট মরসুম শুরু করার পরে অন্তত একটি ট্রফির জন্য এত দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়নি কোনও মরসুমে নাদালকে। মন্টে কার্লো, বার্সেলোনা এবং মাদ্রিদ ওপেন তিনটি ক্লে-কোর্ট প্রতিযোগিতাতেই সেমিফাইনালে বিদায় নিয়েছেন এ বার স্প্যানিশ তারকা। অন্য দিকে, মাদ্রিদ ওপেনের পরে টানা দুটি খেতাব জয়ের দৌড়ে ছিলেন জোকোভিচ। তাই বলাবলি শুরু হয়ে গিয়েছিল, যতই ‘ক্লে কোর্টের সম্রাট’-এর বিরুদ্ধে নামতে হোক না কেন, ফাইনালে পাল্লা ভারি নোভাকের দিকেই। 

হতাশ: তৃতীয় সেটে নিজের সার্ভিস ধরে রাখতে না পেরে কোর্টে আছড়ে র‌্যাকেট ভাঙছেন জোকোভিচ। এএফপি

মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানও তাই বলছিল। দু’জনে এই ম্যাচের আগে লড়াই করেছেন পরস্পরের বিরুদ্ধে ৫৩ বার। যার মধ্যে জোকোভিচ এগিয়ে ছিলেন ২৮টি জয় নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে নাদালকে স্ট্রেট সেটে হারিয়ে দেওয়ার পরে এই প্রথম টেনিস বিশ্বের দুই মহাতারকা ফের সম্মুখসমরে নেমেছিলেন। নাদাল শেষ বার জোকোভিচকে এর আগে হারিয়েছিলেন গত বার এই ইটালি ওপেনেই সেমিফাইনালে। তার পরে উইম্বলডনে তিনি হেরেছিলেন নোভাকের বিরুদ্ধে। অবশ্য ইটালি ওপেনে এই ম্যাচের আগে পর্যন্ত পরিসংখ্যানের দিক থেকে এগিয়ে ছিলেন নাদালই। আট বারের লড়াইয়ে ৪-৩ এগিয়ে থেকে।

প্রশ্ন ছিল ১১ বারের রোলঁ গ্যারোজ জয়ীর ফিটনেস নিয়েও। কিন্তু সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৩৪টি মাস্টার্স ১০০০ খেতাব জিতে অনন্য নজির গড়ে ফেলেন নাদাল। সঙ্গে সর্বধিক নবম ইটালি ওপেন ট্রফিও। গত বছর কানাডা ওপেনের পরে নাদালের প্রথম সাফল্য।  উচ্ছ্বসিত নাদাল বলেন, ‘‘একটা খেতাব জেতা গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমার কাছে সব চেয়ে বেশি জরুরি হল লড়াই করার মতো জায়গায় উঠে আসা। ফিট অনুভব করা।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘নোভাক বা রজারের বিরুদ্ধে এই ধরনের ম্যাচ এখন ঐতিহ্য হয়ে উঠেছে। নোভাক খুব ভাল খেলছে।  জানি যে পর্যায়ে নিজের খেলাটা আমি নিয়ে যেতে চাইছি, সেখানে পৌঁছতে পারলে আমিও জিততে পারব। অবশ্য হারতেও পারি।  তবে সাধারণত আমার সুযোগ বেশি থাকে জেতার। বিশেষ করে ক্লে কোর্টে। তাই খুব খুশি জিতে। এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে চাই।’’

গত দু’দিনে শেষ আট ও সেমিফাইনালে যথাক্রমে খুয়ান মার্তিন দেল পোত্রো ও দিয়েগো সোয়ার্ৎজম্যানের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা কোর্টে থাকার পরে জোকোভিচের সমস্যা ছিল ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠা। তবে ফাইনালে হারার পরে কোনও ওজুহাত দিতে চাননি তিনি। ‘‘আমি ক্লান্তির অজুহাত দেব না। রাফা আজ দুরন্ত খেলছে। ওকে হারানো আজ সত্যিই খুব কঠিন ছিল। তৃতীয় সেটে যে খেলাটা নিয়ে যেতে পেরেছি তাতেই খুশি,’’ বলেন জোকোভিচ।