এক দিকে টেস্ট দ্বৈরথের জন্য তৈরি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। আবার আর এক দিকে রাঁচীর প্রত্যন্ত গ্রামের কিশোরীদের সঙ্গে ফুটবলে মেতে উঠতে দেখা যাচ্ছে অন্য এক অস্ট্রেলিয়াকে।
কোথাও কঠোর পেশাদারি মুখ, কোথাও মানবিক।
রাঁচী থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে ওরমাঝি। ভারতীয় ক্রিকেটারেরা যখন নেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত, তখন সেখানে হাজির কয়েক জন বিশেষ অতিথি— গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, স্টিভ ও’কিফ, ম্যাট রেনশ। যাঁদের দেখা গেল ফুটবল নিয়ে মাঠে নেমে পড়তে। যেখানে প্রতিপক্ষ ছিল কয়েকজন গ্রামের কিশোরী।
একেবারে নিভৃতে, মিডিয়ার অনুপস্থিতিতে তাঁরা শুধু খেললেনই না, শুনলেন এই সব গ্রামের কিশোরীদের কথাও। কী ভাবে ফুটবল খেলার মাধ্যমে নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, কী ভাবে মেয়ে পাচারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন তাঁরা, শুনলেন সে সব কাহিনিও।
আরও পড়ুন: শান্তি-বৈঠকে গরহাজির স্মিথ, অশান্তির নিষ্পত্তি হল না
ওরমাঝির যুবা নামে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রামের মেয়েদের ফুটবল শেখায়। এই সংগঠনের এক কর্তা বলেন, ‘‘ঝাড়খণ্ডের এই প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েরা ফুটবল খেলার মাধ্যমে নিজেদের মনোবল বাড়ায়। শুধু ফুটবল খেলাই শেখাই না, এদের আমরা ইংরেজিতে কথা বলাও শেখাই।’’
জানা গিয়েছে, ফুটবল খেলার পরে পুনম, রাখীরা ইংরেজিতে বক্তব্যও রাখেন ক্রিকেটারদের সামনে। পুনম বলেন, ‘‘আমি বড় হয়ে পুলিশ হতে চাই। যে সব লোক মেয়ে পাচারের সঙ্গে যুক্ত, তাদের মেরে ঠান্ডা করতে চাই।’’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, পুনমদের কথা শুনে ও’কিফরা রীতিমতো হাততালি দিয়ে ওঠেন।
পুনমরা বিদেশি অতিথিদের শোনালেন তাঁদের গ্রামে কী ভাবে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে তফাত করা হয়, তার অভিজ্ঞতার কথাও। যেমন এক কিশোরী বলেন, ‘‘বাড়িতে আগে আমার জন্মদিন পালন হতো না। পালন হতো ভাইয়ের জন্মদিন। এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যোগ দিয়ে ফুটবল খেলার মাধ্যমে আমি প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পেয়েছি। বাড়িতে এখন ভাইয়ের সঙ্গে আমার জন্মদিনও পালন হয়।’’