গ্রিনল্যান্ড-বিতর্কে সোমবার রাশিয়াকে টেনে এনেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ কার্যত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুরে সুর মিলিয়ে চাপে ফেলল ইউরোপকে! রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভেরফ বললেন, গ্রিনল্যান্ড প্রকৃতিগত ভাবে ডেনমার্কের অংশ নয়।’’ পাশাপাশি ট্রাম্পের অভিযোগ নস্যাৎ করে তাঁর মন্তব্য, “গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে রাশিয়ার কোনও আগ্রহ নেই। ওয়াশিংটনও জানে এই দ্বীপ অধিগ্রহণ করার কোনও পরিকল্পনা মস্কোর নেই।’’
সোমবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, গ্রিনল্যান্ডে রুশ আগ্রাসনের ঝুঁকি নিয়ে ২০ বছর ধরে ডেনমার্ককে সাবধান করে যাচ্ছে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটো। তার পরেও ডেনমার্ক এই বিষয়ে কিছুই করতে পারেনি। ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পরেই মঙ্গলবার প্রতিক্রিয়া এল রুশ বিদেশমন্ত্রীর তরফে। লাভারভের দাবি, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার আর এক দেশ নরওয়ে কিংবা আমেরিকারও গ্রিনল্যান্ডের উপর কোনও অধিকার। তাঁর কথায়, ‘‘পুরো বিষয়টিই ঔপনিবেশিকতাবাদী চিন্তাধারা।’’
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৫৬ হাজার জনসংখ্যার ‘বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ’ প্রায় ৩০০ বছর ধরে কোপেনহাগেন (ডেনমার্কের রাজধানী)-এর নিয়ন্ত্রণে। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি পরিচালনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত দায়িত্ব দ্বীপটির স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ পালন করেন। আর বিদেশ এবং প্রতিরক্ষানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি নেয় ডেনমার্ক সরকার। দ্বিতীয় দফায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে ট্রাম্প গত ১১ মাসে একাধিক বার গ্রিনল্যান্ড দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্য দিকে, গত বছর মার্চ মাসেই পুতিন জানিয়েছিলেন, উত্তর মেরু অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে ট্রাম্পের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, উত্তর মেরুতে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির অন্যতম উদাহরণ গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা। সেই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘‘গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমেরিকার পরিকল্পনা যথেষ্ট গুরুতর। এই পরিকল্পনার নেপথ্যে গভীর ইতিহাস রয়েছে। ওরা যে উত্তর মেরু অঞ্চলে নিজেদের রাজনৈতিক, ভূরাজনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক আগ্রহ অনুযায়ী বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করবে, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডের সমস্যা দু’টি পৃথক দেশের মধ্যেকার বিষয়। এটা আমেরিকা আর ডেনমার্কের ব্যাপার। আমাদের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।’’