বিতর্কের মাঝে মুখ খুললেন মেরি কম। এর আগে একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছুড়েছেন। প্রাক্তন স্বামী কারুন অনলেরকে বেকার বলেছেন। সেই মন্তব্য অনেকেই ভাল ভাবে নেননি। এ বার ভিডিয়োবার্তায় ক্ষমা চাইলেন ছ’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বক্সার। জানিয়েছেন, কাউকে আঘাত করতে চাননি তিনি।
ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়োবার্তায় মেরি বলেন, “কাউকে আঘাত করার, সমাজে ভাঙন ধরানোর বা নেতিবাচক বার্তা দেওয়ার কোনও ইচ্ছা আমার ছিল না। কাউকে আঘাত করতে চাইনি। শুরু থেকে আমার বিবাহিত জীবনে সমস্যা ছিল না। প্রথমের দিকে সব কিছুই ঠিক ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়ল। ফলে আমরা একে অপরের জীবন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
প্রাক্তন স্বামী কোনও রোজগার না করে গলিতে ফুটবল খেলে বেড়াতেন বলে অভিযোগ করেছিলেন মেরি। সেই বিষয়টি ফুটবলপ্রেমীরা ভাল ভাবে নেননি। সেই বিষয়েও সাফাই গেয়েছেন তিনি। মেরি জানিয়েছেন, ফুটবল, যুব সম্প্রদায় বা ক্রীড়াবিদদের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, “আমার কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অনেকেই রয়েছেন যাঁরা জীবনে অনেক লড়াই করে উঠে এসেছেন। সাফল্য পেয়েছেন। ফুটবলে সুনীল ছেত্রী, ভাইচুং ভুটিয়ার মতো তারকা দেশকে কত সম্মান এনে দিয়েছেন। যদি আমার কথায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, আমি ক্ষমা চাইছি।”
আরও পড়ুন:
১৮ বছর বিবাহিত জীবন কাটানোর পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে বিচ্ছেদ হয় মেরি ও অনলেরের। গত মাসে একটি সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন স্বামীকে ‘বেকার’ বলেন মেরি। তিনি বলেন, ‘‘সফল কেরিয়ার তো দূরের কথা, অনলের গলিতে গলিতে ফুটবল খেলে বেড়াত। কোনও দিন এক টাকাও উপার্জন করেনি। কোনও ত্যাগ, অবদান নেই। দিনরাত শুধু ঘুমোত। আমি অনেক টাকা রোজগার করেছি। বিশ্বাস করে ওর হাতে তুলে দিয়েছিলাম। সংসারের আর্থিক ব্যাপারে প্রথমে মাথা ঘামাতাম না। তখন পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু যখন মাথা ঘামাতে শুরু করলাম, তখন বুঝতে পারি, ভিতরে ভিতরে কী চলছে। ওর প্রচুর দেনা। আমার সম্পত্তি বন্ধক রেখে ধার করত। সেই দেনা শোধ করতে পারেনি। ফলে আমার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়ে গিয়েছে।”
এর পরেই অনলেরের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনেছেন মেরির বিরুদ্ধে। বলেছেন, সন্তানদের মুখ চেয়ে আইনি লড়াইয়ে যেতে চান না। কিন্তু সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মানবেন না। অনলের বলেছেন, “২০১৩ সাল থেকে এক জুনিয়র বক্সারের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছিল মেরি। সেই নিয়ে আমার সঙ্গে তুমুল ঝগড়া হয়।’’ এখানেই শেষ নয়, মেরির দ্বিতীয় পরকীয়ার কথা জানিয়ে অনলের বলেছেন, ‘‘২০১৭ থেকে নিজের বক্সিং অ্যাকাডেমিতে নিযুক্ত এক কর্মীর সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়েছিল। ওদের হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাটের প্রমাণ রয়েছে আমার কাছে। কিন্তু আমি চুপ করে থেকেছি।” তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে প্রমাণ দেখানোর দাবি করেছেন অনলের।