বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে চলে গেলেন কার্লোস আলকারাজ়। গত চার বার তিনি ফাইনালে উঠতে পারেননি। পাঁচ বারের চেষ্টায় এই প্রথম রবিবার খেতাবের লড়াইয়ে নামবেন তিনি।
বাকি তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম দু’বার করে জিতলেও এর আগে কখনও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালেও উঠতে পারেননি আলকারাজ়। এ বারও সেমিফাইনালের বাধা টপকাতে তীব্র লড়াই করতে হল তাঁকে। শুক্রবার ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের লড়াইয়ে আলকারাজ় ৬-৪, ৭-৬ (৭-৫), ৬-৭ (৩-৭), ৬-৭ (৪-৭), ৭-৫ গেমে হারান তৃতীয় বাছাই জার্মানির আলেকজ়ান্ডার জ়েরেভকে। ২০২১ সালে প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলেন আলকারাজ়। সেই বছর দ্বিতীয় রাউন্ডে এবং পরের বছর তৃতীয় রাউন্ডে ছিটকে যান। ২০২৩ সালে তিনি এই প্রতিযোগিতায় খেলেননি। গত দু’বছরই কোটার্য়ার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় তাঁকে।
চোট নিয়েই যে আলকারাজ় খেলেছেন, তা তাঁর খেলা দেখে বেঝা গিয়েছে। প্রথম দু’সেট জেতার পর টাই ব্রেকারে তৃতীয় ও চতুর্থ সেট হেরে যান তিনি। পঞ্চম সেটে ম্যাচ জেতার জন্য সার্ভিস করছিলেন জ়েরেভ। সেই সার্ভিস ব্রেক করে ৫-৫ করেন আলকারাজ়। পরের গেমে নিজের সার্ভিস ধরে রেখে ৬-৫ এগিয়ে যান। দ্বাদশ গেমে জ়েরেভকে ভেঙে ম্যাচ জিতে যান।
জ়েরেভের সঙ্গে আলকারাজ়ের হাড্ডাহাড্ডা লড়াই হতে পারে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। তবে লড়াই পাঁচ সেট পর্যন্ত পৌঁছোল মূলত আলকারাজ়ের চোটের কারণে। প্রথম দু’সেটে যথেষ্ট লড়াই হলেও আলকারাজ় হেরে যেতে পারেন, এমন মনে হয়নি। তবে তৃতীয় সেট থেকে ম্যাচের রাশ নিয়ে নেন জ়েরেভ। তুল্যমূল্য বিচার করলে আলকারাজ়ের চেয়ে জ়েরেভের পারফরম্যান্স ভাল। যেমন আলরাকাজ় ১২টি ‘এস’ সার্ভিস করেছেন। জ়েরেভ ১৭টি। আলরাকাজ় পাঁচটি ডবল ফল্ট করেছেন জ়েরেভ চারটি। আলকারাজ়ের ৬৬ শতাংশ প্রথম সার্ভিস ঠিকঠাক পড়েছে। জ়েরেভের ৭২ শতাংশ। আলকারাজ় নিজের সার্ভিসে ১৩০ পয়েন্ট জিতেছেন, জ়েরেভ ১৩৭টি। তবু শেষ পর্যন্ত জ়েরেভকে হার মানতে হয়েছে স্প্যানিশ তরুণের জেদের কাছে। ০-২ থেকে ২-২ সেট করেও জিততে পারেননি জার্মান তারকা।
সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও সমতা ফেরানো সহজ নয়। জ়েরেভ পেরেছেন তাঁর হার না মনোভাবের জন্য। প্রতিটি শটে আলকারাজ়ের দক্ষতার পরীক্ষা নিয়েছেন। সহজে একটি পয়েন্টও দেননি প্রতিপক্ষকে। আলকারাজ়ের পায়ে টান ধরায় কিছুটা সুবিধা পেলেও জ়েরেভের কৃতিত্বকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। ম্যাচটাও প্রায় জিতে গিয়েছিলেন। নিজের শেষ দু’টি সার্ভিস গেমে চাপের মুখে জ়েরেভ একাধিক আনফোর্ডস এরর না করলে ম্যাচের ফল অন্য রকমই হত। তাঁর আনফোর্সড এররই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিল।
যখন মনে হচ্ছিল, তিনি চোট আর ক্লান্তির কাছে হেরে যাবেন, তখনই অবিশ্বাস্য ভাবে ঘুরে দাঁড়ান আলকারাজ়। কী করে অসাধ্যসাধন সম্ভব হল? ম্যাচ শেষে তাঁকে প্রশ্ন করেন প্রাক্তন টেনিস তারকা জিম কুরিয়র। আলকারাজ়ের জবাবে মনে হল, গোটা দুনিয়ার কাছে তাঁর প্রত্যাবর্তন অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু তাঁর নিজের কাছে নয়।
আলকারাজ় একটি শব্দই ব্যবহার করেন। বলেন, ‘‘বিশ্বাস’’। তিন বার ‘বিশ্বাস’ বলার পর তাঁর সংযোজন, ‘‘যতই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ি না কেন, নিজের উপর বিশ্বাস ছিল পারব। এই বিশ্বাসটাই আমাকে আজ জিতিয়েছে।’’
চোটও যে তাঁর বিশ্বাসের কাছে হার মেনেছে, সে কথাও বলেন আলকারাজ়। বলেন, ‘‘তৃতীয় এবং চতুর্থ সেট যখন হারলাম এবং ব্যথা শুরু হল, তখনও মনে হয়েছিল জিতব। এরকম কঠিন পরিস্থিতিতে আগেও পড়েছি। সেখান থেকে ম্যাচ বার করেছি। জানি এই পরিস্থিতিতে কী করতে হয়। জানি কী করে ফিরে আসতে হয়।’’
আরও পড়ুন:
রবিবার আলকারাজ়ের সামনে নোভাক জোকোভিচ বা জানিক সিনারের মধ্যে এক জন পড়বেন। চ্যাম্পিয়ন হলে সবচেয়ে কম বয়সে কেরিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার রেকর্ড করবেন ২২ বছরের স্প্যানিশ তারকা। কুরিয়র তাঁকে এটা মনে করিয়ে দিতে আলকারাজ় বলেন, ‘‘ধন্যবাদ এত তাড়াতাড়ি আমার উপর নতুন চাপ তৈরি করার জন্য।’’