২২০ রান করেও জিততে পারল না কলকাতা নাইট রাইডার্স। ওয়াংখেড়েতে আরও এক বার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে হারল তারা। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিন দিকেই দাপট দেখাল মুম্বই। কেকেআরের এই হারের নেপথ্যে পাঁচ কারণ খুঁজল আনন্দবাজার ডট কম।
১) ডেথ ওভারে খারাপ ব্যাটিং
কেকেআর শুরুটা ভাল করেছিল। আট ওভারের মধ্যে দলের রান ১০০ পার হয়ে গিয়েছিল। যে ভাবে রান হচ্ছিল, তাতে ২০ ওভারে অন্তত ২৪০ থেকে ২৫০ রান করা উচিত ছিল তাদের। কিন্তু তা হল না। ডেথ ওভারে জসপ্রীত বুমরাহের সামনে হাত খুলতে সমস্যায় পড়লেন কেকেআরের ব্যাটারেরা। সেই কারণে অন্তত ২০-২৫ রান কম হল। নইলে খেলার ফল অন্য রকম হতে পারত।
২) অধিনায়কের খারাপ পরিকল্পনা
বল করার সময় অধিনায়কের পরিকল্পনা অবাক করল। প্রথমে অজিঙ্ক রাহানে ও তার পর সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিংহ, দু’জনেই ভুল করলেন। রোহিতকে আইপিএলে আট বার আউট করেছেন সুনীল নারাইন। সেই নারাইনকে যত ক্ষণে আনা হল, তত ক্ষণে হাত জমে গিয়েছে রোহিতের। শুরুতে নারাইনকে আনলে হয়তো রোহিত সমস্যায় পড়তেন। এমনকি, নারাইনের স্পেল শেষ করা হল না। কার্তিক ত্যাগী, বরুণ অরোরাদের দিয়ে টানা বল করানো হল। রিঙ্কুকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, কী করবেন বুঝতেই পারছেন না। ডাগআউটে হতভম্ব হয়ে বসে ছিলেন রাহানে। পরিকল্পনার অভাবে হারতে হল কেকেআরকে।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
৩) খারাপ বোলিং বরুণদের
কেকেআরের বোলিং নিয়ে ছেলেখেলা করলেন মুম্বইয়ের ব্যাটারেরা। প্রথম ইনিংসে শার্দূল ঠাকুর বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, এই পিচে গতির হেরফের করতে হবে। কিন্তু সেটা কত বার করলেন কেকেআর পেসারেরা? তাঁরা যত গতি বাড়ালেন, তত দূরে ছক্কা মারলেন রোহিত, রিকেলটনেরা। বরুণের রহস্য যে উন্মোচিত হয়ে গিয়েছে, তা এই ম্যাচেও বোঝা গেল। তাঁকে নিশানা করলেন রোহিত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই বোঝা গিয়েছিল, বরুণকে খেলতে সমস্যা হচ্ছে না। এই ম্যাচেও গায়ের জোরে বল করে গেলেন তিনি। মাঝ পিচে বল ফেললেন। ভয়ে ভয়ে বল করলেন। তাঁর কাজ মাঝের ওভারে উইকেট তোলা। সেই তিনিই যদি কিছু করতে না পারেন, তা হলে দল কী ভাবে জিতবে। হলও তাই।
আরও পড়ুন:
৪) ২৫ কোটির গ্রিনের ‘ফ্লপ’ শো
২৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকার ক্যামেরন গ্রিন ১০ বলে ১৮ রান করলেন। ব্যস, ওই টুকুই। গোটা ম্যাচে আর কিচ্ছু করলেন না তিনি। তাঁকে অলরাউন্ডার হিসাবে নিয়েছিল কেকেআর। ব্যাট হাতে বেশি ক্ষণ ক্রিজ়ে থাকতে পারলেন না। যখন বাকিরা রান দিচ্ছেন, তখনও বল করলেন না। তাঁকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কোনও নির্দেশ দিয়েছে কি না জানা নেই। অন্তত দু’ওভার তো বল করতে পারতেন। তাঁকে মাঠে খুঁজেই পাওয়া গেল না। সবচেয়ে দামি ক্রিকেটারের এই অবস্থা হলে তো এমনটাই হবে।
৫) ক্যাচ ফস্কানোর খেসারত
কথায় বলে, ক্যাচ ম্যাচ জেতায়। সেখানেও গড়বড় করে ফেলল কেকেআর। দুই ওপেনারের ক্যাচ পড়ল। তার মধ্যে রিকেলটনের সহজ ক্যাচ ছাড়েন বৈভব অরোরা। তখন রিকেলটন ৪০-এর ঘরে ছিলেন। সেই তিনিই ৮১ রান করে খেলা শেষ করে দিলেন। শুরুতে রোহিত ও রিকেলটনের ক্যাচ ধরতে পারলে খেলার ফল আলাদা হতে পারত। খারাপ ফিল্ডিংয়ের খেসারত দিতে হল কেকেআরকে।