আইপিএলের জন্য ক্ষতি হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটজীবনের। অবসরের ১২ বছরেও আক্ষেপ যায়নি কেভিন পিটারসেনের। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটারের মতে, আইপিএল খেলার সিদ্ধান্ত তাঁর বড় ভুল।
২০০৯ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএলে অভিষেক হয় পিটারসেনের। পরে দিল্লি ক্যাপিটালস এবং রাইজ়িং পুণে সুপারজায়ান্টের হয়েও খেলেছেন। ২০১৬ সালে শেষ বার আইপিএল খেলেন পিটারসেন। ভারতের টি-টোয়েন্টি লিগই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটজীবনের ক্ষতি করেছে বলে মনে করেন তিনি। সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বিরাট কোহলির প্রাক্তন সতীর্থ বলেছেন, ‘‘আইপিএলের জন্য আমাকে সবচেয়ে বড় ত্যাগ করতে হয়েছে। আমি আমার কেরিয়ার নষ্ট করেছি। তাই আমি একদমই আইপিএলের পক্ষে নেই। সে জন্যই এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত সকলে আমার বিপক্ষে।’’
ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ব্যাটারের দাবি, আইপিএল না খেললে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটজীবন আরও বড় হত। পিটারসেন বলেছেন, ‘‘ইংল্যান্ডের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলার সময় আমার বয়স ছিল ৩৩। দেশের হয়ে ১০৪টি টেস্ট খেলার সুযোগ হয়েছিল। আমার অন্তত ১৫০-১৬০টি টেস্ট খেলা উচিত ছিল। টেস্টে ১২ থেকে ১৩ হাজার রান করা উচিত ছিল আমার। এগুলো আমার প্রাপ্য ছিল।’’
পিটারসেনের দাবি, তাঁর ক্রিকেটজীবনের ক্ষতি হলেও ইংল্যান্ডের এখনকার ক্রিকেটারেরা লাভবান হচ্ছেন। এ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘কিছু দিন আগে জস বাটলারের একটা সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। বাটলারও আমায় ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছিল, আমার ত্যাগের সুফল এখনকার ক্রিকেটারেরা পাচ্ছে।’’
আইপিএলের বিরুদ্ধে এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি পিটারসেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘শুরুর দিকে একটা সমস্যা হয়েছিল। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড আমার বিরুদ্ধে দ্য টেলিগ্রাফকে ব্যবহার করেছিল। ক্রিকেটজীবনের শেষ দিকে যা কাম্য ছিল না। তাই এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। এ সব নিয়ে আগে অনেক কথা হয়েছে। এখন আমি সুখে, শান্তিতে জীবন কাটাচ্ছি।’’
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের হয়ে ১০৪টি টেস্টে ৮১৮১ রান রয়েছে পিটারসেনের। ২৩টি শতরান এবং ৩৫টি অর্ধশতরান রয়েছে তাঁর। দেশের হয়ে ১৩৬টি এক দিনের ম্যাচ এবং ৩৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলেছেন তিনি। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন পিটারসেন।