১৫ রানে ৪ উইকেট! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের নায়ক জসপ্রীত বুমরাহ। ঘরের মাঠে দেশকে বিশ্বজয় করে তৃপ্ত বিশ্বের অন্যতম সেরা জোরে বোলার। যে গুজরাতের মাটিতে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিলেন, সেই গুজরাতের মাটিতে বিশ্বকাপ ফাইনালের সেরা ক্রিকেটার। ক্রিকেটজীবনের একটা বৃত্ত পূর্ণ করলেন বুমরাহ। একটি আক্ষেপও মিটেছে তাঁর।
ফাইনালের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার নিয়ে বুমরাহ জানালেন, এই জয় তাঁর কাছে আলাদা। এই জয় তাঁর হৃদয়ের কাছাকাছি থাকবে। তিনি বললেন, ‘‘এর আগেও ঘরের মাঠে একটা বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিলাম। সে বার জিততে পারিনি। কিন্তু আজ জিতলাম। জানতাম উইকেট পাটা। তাই আমার সব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।’’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে নিজের বোলিংয়ে কিছু পরিবর্তন করেছেন বুমরাহ। তা নিয়ে বলেছেন, ‘‘প্রতিযোগিতা শুরুর আগে ভাল বল করছিলাম। তবে বাড়তি অনেক বেশি কিছু চেষ্টা করছিলাম। বিশ্বকাপে বাড়তি কিছু চেষ্টা করিনি। নিজের বলগুলোই করার চেষ্টা করেছি। নিজের দক্ষতার উপর ভরসা রাখার চেষ্টা করেছি। এগুলোই দারুণ কাজে দিয়েছে।’’
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সেরা বোলিং করে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনালের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি কেমন? বুমরাহ বললেন, ‘‘এর থেকে ভাল কী হতে পারে? ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল। সেই ফাইনালের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেলাম। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই সাফল্য পেয়েছি। এখানে প্রচুর ক্রিকেট খেলেছি। অন্য দলগুলোর খেলাও দেখেছি। প্রায় সকলেই গতি বাড়িয়ে বল করার চেষ্টা করেছে। মনে হয়েছে গতি বাড়িয়ে বল করলে, ব্যাটারের শট খেলতে সুবিধা হচ্ছে। অন্য রকম ভাবার চেষ্টা করেছি। ভেবেছি, ব্যাটারেরা কী করতে পারে। কী পরিকল্পনা থাকতে পারে ওদের। সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাতে নানা মতামত পাওয়া যায়। কথা বলা প্রয়োজন মনে হলে, আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করি। তাতে ভাল ফল পাওয়া যায়।’’
বুমরাহ জানিয়েছেন, তাঁরা কখনও চাপ নেন না। মাথা ঠান্ডা রেখে ভাবার চেষ্টা করেন। বুমরাহ বলেছেন, ‘‘আমরা আতঙ্কের মধ্যে থাকি না। কী ভাবে দলকে সাহায্য করা যায়, সেটাই ভাবি। শেষ পর্যন্ত আমরা জিতেছি। এক থেকে ভাল কিছু হতে পারে না।’’
আরও পড়ুন:
এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন বুমরাহ। তিনি এবং বরুণ চত্রবর্তী দু’জনেই ১৪টি উইকেট নিয়েছেন। বুমরাহ অবশ্য একটি ম্যাচ কম খেলেছেন। উইকেট পিছু রানও খরচ করেছেন অনেক কম।