Advertisement
E-Paper

শাকিবকে নিয়ে বোর্ডের ৮ ঘণ্টার বৈঠক! খুনের মামলায় জড়ানো ক্রিকেটার কেন আবার বাংলাদেশ ক্রিকেটে আলোচনায়?

বাংলাদেশ ক্রিকেটে হারিয়ে গিয়েছিলেন শাকিব আল হাসান। আর কোনও দিন তিনি দেশের হয়ে খেলতে পারবেন কি না সেই সংশয় ছিল। হঠাৎই আবার আলোচনা শুরু শাকিবকে নিয়ে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:১২
cricket

শাকিব আল হাসান। —ফাইল চিত্র।

বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই কারণেই কি শাকিব আল হাসানকে ঢাল করা হয়েছে? বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন শাকিব। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। খুনের মামলাও রয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়কের বিরুদ্ধে। জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানাও। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎই আবার আলোচনা শুরু হয়েছে শাকিবকে নিয়ে।

কী ভাবে আবার আলোচনায়

‘প্রথম আলো’ জানিয়েছে, এর নেপথ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ৮ ঘণ্টার একটি বৈঠক। বিশ্বকাপ থেকে তাদের বাদ দেওয়ার পর একটি বৈঠক করে বিসিবি। সেখানেই শাকিবকে আবার খেলানোর দাবি তোলেন এক কর্তা। তাঁকে সমর্থন করেন আরও দু’জন। সাধারণত, কোনও বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হবে তা আগে থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়। সে দিনের বৈঠকে শাকিবের কথা আগে থেকে কাউকে জানানো হয়নি।

৮ ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিসিবি কর্তা আমজাদ হোসেন দাবি করেন, সকলে মিলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, শাকিবকে দলে নেওয়া যাবে। তবে সেটা তাঁর ফর্ম ও ফিটনেস ঠিক থাকলে তবেই। পাশাপাশি আরও একটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। যেখানে খেলা হবে, সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে শাকিবকে।

দেওয়া শর্তের তাৎপর্য

এই শর্তই আসল আলোচনার বিষয়। হাসিনা সরকারের সময় আওয়ামী লীগের সাংসদ ছিলেন শাকিব। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দেশের বাইরে তিনি। বর্তমানে আমেরিকায় সপরিবার থাকেন। শাকিবের বিরুদ্ধে খুনের মামলা-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। আর্থিক দুর্নীতির মামলাও হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার অর্থ, দেশে ফিরলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কি বাংলাদেশে ফিরে খেলার কথা ভাববেন তিনি?

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের মাটিতে টেস্টে শেষ বার বাংলাদেশের হয়ে খেলেছিলেন শাকিব। তিনি জানিয়েছিলেন, অক্টোবরে দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন। কিন্তু তা হয়নি। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে দেশের যুব ও ক্রীড়া দফতরের প্রাক্তন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, শাকিবকে দেশে ফিরতে না দিয়ে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শাকিব যাতে আর বাংলাদেশের হয়ে খেলতে না পারেন, সেই নির্দেশও তিনি বোর্ডকে দিয়েছেন বলে জানান।

বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান বদলেছে?

তবে আসিফ এখন আর পদে নেই। নতুন উপদেষ্টা হয়েছেন আসিফ নজরুল। তার পরে কি সরকারের অবস্থান বদলেছে? বিসিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশের মাটিতে খেলতে শাকিবের যে যে বাধা রয়েছে, তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব সভাপতি আমিনুলকে দেওয়া হয়েছে। বিসিবির সূত্র জানিয়েছে, সরকারের কাছে সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরেই শাকিবকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নেপথ্যে বিশ্বকাপে না খেলা?

প্রশ্ন উঠছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়টি আড়াল করতেই কি শাকিবকে টেনে আনা হচ্ছে? ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন। তার পর সরকার পরিবর্তন হলে কি শাকিবের বিরুদ্ধে হওয়ার মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে? শাকিবের যদি গ্রেফতার হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তা হলে তিনি কোনওমতেই বাংলাদেশে খেলতে যাবেন না। বিসিবির কয়েক জন কর্তা ‘প্রথম আলো’-কে জানিয়েছেন, শাকিব যে আইনি জটিলতায় রয়েছেন, তা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে সরকার এই বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি।

পোস্টার বয়-ই ভরসা

শাকিবকে টেনে আনার আরও একটি কারণ রয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা তিনি। বিশ্বকাপে না খেলার পর আবার দেশের ক্রিকেটকে জাগিয়ে তুলতে ‘পোস্টার বয়’-এর উপরেই ভরসা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আগামী বছর এক দিনের বিশ্বকাপ রয়েছে। সেখানে শাকিবকে খেলানোর চেষ্টা করতে পারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তার জন্য ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে এক দিনের আইসিসি ক্রমতালিকায় সেরা ১০ দলের মধ্যে তাদের থাকতে হবে। শাকিব সে ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারেন। সেই কারণেই শাকিবকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে সরকারি ভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা শাকিব কেউ কিছু বলেননি। সবটাই রয়েছে জল্পনার স্তরে।

Shakib Al Hasan Bangladesh Cricket Board
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy