ভারতকে চাপে ফেলার নতুন কৌশল নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর পাকিস্তানও বয়কটের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। তার মধ্যেই জানা গিয়েছে, গোটা বিশ্বকাপ নয়, শুধু ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করার পরিকল্পনা নিয়েছেন মহসিন নকভিরা।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘জিয়ো নিউজ়’ এই খবর দিয়েছে। প্রতিবেদনে লেখা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন নকভি। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীকে এই প্রস্তাব দিতে পারেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান। শাহবাজ় রাজি হলে আইসিসিকে নিজেদের দাবি জানাবে পাকিস্তান।
বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর নকভি প্রথমে জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানও প্রতিযোগিতা থেকে নাম তুলে নিতে পারে। শনিবার তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বকাপে খেলব কি না, সেই সিদ্ধান্ত দেশের সরকার নেবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এখন দেশের বাইরে। উনি ফিরলে আমরা ওঁর পরামর্শ নেব। সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। যদি উনি খেলতে নিষেধ করেন, তা হলে আমরা খেলব না। সে ক্ষেত্রে আইসিসিকে আরও একটি দলকে অনুরোধ জানাতে হবে।”
পাকিস্তানই একমাত্র দেশ, যারা আইসিসির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশকে সমর্থন করেছিল। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের ভারতে খেলতে না আসার দাবি সমর্থন করেছিলেন নকভি। এমনকি, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়’ বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। যদিও আইসিসি সেই দাবিকে পাত্তা দেয়নি। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভারতে খেলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার কোনও ঝুঁকি নেই। তাই বাংলাদেশের দাবি মানা হয়নি।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তান জানে, বিশ্বকাপ বয়কট করলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে তাদের। পাকিস্তান ক্রিকেটকে নির্বাসিত করতে পারে আইসিসি। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরবর্তীতে পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজ় খেলতে রাজি না-ও হতে পারে বেশির ভাগ বড় দেশ। ভবিষ্যতে পাকিস্তানে কোনও আইসিসি প্রতিযোগিতা আয়োজনেও সমস্যা হতে পারে।
সেই কারণেই শুধুমাত্র ভারতের ম্যাচ বয়কট করার কথা ভাবছে তারা। যদি পাকিস্তান ভারত ছাড়া বাকি সব দেশের বিরুদ্ধে খেলে, তা হলে গ্রুপ পর্বে সেই ম্যাচ থেকে ২ পয়েন্ট পাবে ভারত। কিন্তু তাতেও পাকিস্তানের খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই। গ্রুপের বাকি তিন দেশ নামিবিয়া, আমেরিকা ও নেদারল্যান্ডস। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমেরিকার কাছে হারলেও ধারেভারে অনেকটাই এগিয়ে পাকিস্তান। ফলে বাকি তিন ম্যাচ জিতলেও নক আউটে উঠবে তারা। সেই কারণেই এই কৌশল নিতে পারে পাকিস্তান।