জো রুট-হ্যারি ব্রুক জুটির পর কিছুটা লড়লেন শুধু জেমি স্মিথ আর উইল জ্যাকস। অ্যাশেজ় সিরিজ়ের পঞ্চম টেস্টে ৫৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর রুট-ব্রুকের লড়াইও তেমন তাতাতে পারল না ইংল্যান্ডের বাকি ক্রিকেটারদের। বেন স্টোকসদের প্রথম ইনিংস শেষ হল ৩৮৪ রানে। জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের রান ২ উইকেটে ১৬৬। সিডনিতে ইংল্যান্ড এগিয়ে রয়েছে ২১৮ রানে।
সোমবার রুট-ব্রুক জুটি ভাঙেন স্কট বোল্যান্ড। তাঁর বলে ব্যক্তিগত ৮৪ রানে আউট হন ব্রুক। তবে ২২ গজের অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন রুট। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়কের ব্যাট থেকে এল ১৬০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। ১৫টি চার মেরেছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে ৪১তম শতরান করে রুট স্পর্শ করলেন রিকি পন্টিংয়ের কীর্তি। ব্রুকের সঙ্গে তাঁর ১৬৯ রানের জুটিই ইংল্যান্ডকে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দেন। রুট এক প্রান্ত আগলে রাখলেও সতীর্থদের কাছ থেকে তেমন সাহায্য পেলেন না। অধিনায়ক স্টোকস (০) ব্যর্থ। কিছুটা সঙ্গ দিলেন স্মিথ। ৭৬ বলে ৪৬ রান করলেন ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। জ্যাকস করলেন ২৭। তিনি আউট হওয়ার পর রুটকে সঙ্গ দেওয়ার মতো আর কেউ ছিলেন না। ব্রাইডন কার্সও (১) দাঁড়াতে পারলেন না। সঙ্গীর অভাবে দলকে আর টানতে পারলেন না রুট। মাইকেল নেসেরের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সফলতম বোলার নেসেরই। ৬০ রানে ৪ উইকেট নিলেন তিনি। ৮৫ রানে ২ উইকেট বোল্যান্ডের। ৯৩ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। ১৪ রানে ১ উইকেট মার্নাস লাবুশেনের। ক্যামেরন গ্রিনের ১ উইকেট ৮৫ রান খরচ করে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়াও। ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে (২১) দ্রুত ফিরিয়ে দেন স্টোকস। তবে স্মিভ স্মিথের দলের সমস্যা হয়নি। ট্রেভিস হেডের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে পরিস্থিতি সামলে দেন লাবুশেন। তাঁদের জুটিতে ওঠে ৯৫ রান। লাবুশেন ৪৮ রানে স্টোকসের বলে আউট বলেও দিনের শেষে অপরাজিত রয়েছেন হেড। আগ্রাসী মেজাজে খেলছেন অস্ট্রেলীয় ব্যাটার। ১৫টি চারের সাহায্যে ৮৭ বলে ৯১ রান করে অপরাজিত রয়েছেন হেড। ২২ গজে তাঁর সঙ্গী নেসের (১)।
আরও পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে স্টোকস এবং লাবুশেনের কথা কাটাকাটিকে ঘিরে। দু’জনেই পরস্পরের উদ্দেশে কিছু কথা বলেন। আম্পায়ারদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। ৩০ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন স্টোকস। ব্যাট হাতে না পারলেও বল হাতে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তাঁর সতীর্থ বোলারেরা অবশ্য প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের তেমন সমস্যায় ফেলতে পারলেন না।