Advertisement
E-Paper

সকলে জেতে, শুধু কেকেআর হারে আর হারে! রাহানেদের ব্যাটিংয়ে কোনও ভাবনা নেই, আছে শুধু একরাশ বিরক্তি

আরও একটি ম্যাচ হারল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এ বার চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে হারতে হল তাদের। এখনও পর্যন্ত আইপিএলে জয়ের মুখ দেখলেন না অজিঙ্ক রাহানেরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৩০
cricket

অজিঙ্ক রাহানে। ছবি: পিটিআই।

জিততে ভুলে গিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে কেকেআরের খেলা দেখার চেয়ে বিরক্তিকর আর কিছু নেই। কোনও ম্যাচে ব্যাটারেরা রান করছেন, তো বোলারেরা দেদার রান বিলোচ্ছেন। আবার কোনও ম্যাচে বোলিং ভাল হচ্ছে, তো ব্যাটিং ভেঙে পড়ছে। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে তো ব্যাটিং-বোলিং কোনওটাই চলেনি। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। আরও এক ম্যাচ হেরেছেন অজিঙ্ক রাহানেরা। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটি। এখনও জয়ের মুখ দেখেনি শাহরুখ খানের দল।

এই ম্যাচের আগে পর্যন্ত লড়াই চলছিল কেকেআর ও চেন্নাইয়ের মধ্যে। কোন দল পয়েন্ট তালিকার শেষে শেষ করবে তার প্রতিযোগিতা চলছিল। এই ম্যাচের পর বলে দেওয়া যায়, এ বার লিগ তালিকায় সকলের নীচে থাকার লড়াইয়ে সব দলকে ছাপিয়ে গিয়েছে কেকেআর। মঙ্গলবার প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান করে চেন্নাই। জবাবে কেকেআরের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ৭ উইকেটে ১৬০ রানে। ৩২ রানে হারে কলকাতা।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শুরুটা অবশ্য খারাপ করেনি কেকেআর। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আরও এক বার ব্যর্থ রুতুরাজ গায়কোয়াড়়। ৭ রান করে অনুকূল রায়ের বলে আউট হয়ে যান চেন্নাইয়ের অধিনায়ক। কিন্তু আগের ম্যাচের দুই সফল ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন ও আয়ুষ মাত্রে এই ম্যাচেও ফর্মে ছিলেন। সঞ্জুর থেকেও বেশি আক্রমণাত্মক দেখাচ্ছিল আয়ুষকে। কেকেআরের দুই পেসার বৈভব অরোরা ও ক্যামেরন গ্রিনকে নিশানা করেন তাঁরা।

Advertisement

পাওয়ার প্লে কাজে লাগিয়ে রান করছিলেন সঞ্জু ও আয়ুষ। এই ম্যাচে গ্রিনের হাতে নতুন বল তুলে দেন রাহানে। তা কাজে লাগেনি। দু’ওভারে ৩০ রান দেন গ্রিন। পাওয়ার প্লে-র শেষ বলে আয়ুষকে আউট করেন বৈভব। ১৭ বলে ৩৮ রান করেন তিনি। পাওয়ার প্লে-তে ২ উইকেট হারালেও ৭২ রান করে চেন্নাই।

পাওয়ার প্লে শেষ হয়ে গেলেও চেন্নাইয়ের রান তোলার গতি কমেনি। সঞ্জুর সঙ্গে জুটি বাঁধেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। ১০ ওভারে ১০০ পার হয় চেন্নাইয়ের। আরও একটি অর্ধশতরানের দিকে এগোচ্ছিলেন সঞ্জু। তাঁকে ফেরান কার্তি ত্যাগী। দ্বাদশ ওভারে বল করতে এসে ৪৮ রানের মাথায় সঞ্জুকে বোল্ড করেন তিনি। কার্তিকের ঘণ্টায় ১৪৮ কিলোমিটার গতির বল ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি সঞ্জু।

মাঝের ওভারে রান তোলার গতি কিছুটা কমে চেন্নাইয়ের। সৌজন্যে কেকেআরের স্পিনারেরা। সুনীল নারাইন, বরুণ চক্রবর্তী ও অনুকূল রায়ের বলে হাত খোলা সহজ হচ্ছিল না। ব্রেভিস ও সরফরাজ় খান খুব চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই সময় রাহানের এক অদ্ভুত সিদ্ধান্তে চেন্নাই আবার রানে ফেরে। যেখানে স্পিনারেরা ভাল বল করছেন, সেখানে আবার পেসার বৈভবের হাতে বল তুলে দেন তিনি। সেই ওভারে ২০ রান দেন বৈভব। গত মরসুম থেকে রাহানের অধিনায়কত্বের সমালোচনা হচ্ছে। তিনি এই ম্যাচেও ভুল করলেন।

সরফরাজ়কে আউট করলেন নারাইন। ২৩ রান করলেন ভারতীয় ব্যাটার। ২৯ বলে ৪১ রান করা ব্রেভিসকে ফেরালেন কার্তিক। শেষ দিকে শিবম দুবে ও জেমি ওভারটন হাত খুলে খেলতে পারেননি। ফলে একটা সময় যেখানে মনে হচ্ছিল, চেন্নাই ২২০ রান করবে, সেখানে ৫ উইকেটে ১৯২ রানে শেষ হল তাদের ইনিংস।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নিজের ভুল থেকে শিখলেন না রাহানে। বৈভবকে দিয়ে আরও এক ওভার করান। ফলে বরুণ ও অনুকূলের এক ওভার করে থেকে গেল। বৈভব চার ওভারে ৫৫ রান দিলেন। তাঁর দু’ওবার বরুণ ও অনুকূল করলে হয়তো চেন্নাই আরও ১০-১৫ রান কম করত।

এই মরসুমে প্রথম বার কেকেআরের ব্যাটিংয়ে চমক দেখা গেল। ফিন অ্যালেনের সঙ্গে রাহানের বদলে ওপেন করতে নামলেন নারাইন। তাতে অবশ্য ছবিটা বদলাল না। দ্বিতীয় ওভারেই ১ রানের মাথায় অংশুল কম্বোজের বলে আউট হলেন অ্যালেন। আইপিএলে এখনও রানে ফিরতে পারলেন না তিনি। নারাইন প্রতি বলে ব্যাট চালাচ্ছিলেন। লাগলে ছক্কা। না লাগলে শূন্য। বেশির ভাগ বলই লাগল না। তাঁর একটি সহজ ক্যাচ ছাড়লেন রুতুরাজ। তার পরেও ১৭ বলে ২৪ রান করে খলিল আহমেদের বলে আউট হলেন তিনি।

তিন নম্বরে নেমে টেস্ট খেলছিলেন রাহানে। দেখে মনেই হচ্ছিল না, ম্যাচ জেতার কোনও ইচ্ছা আছে। পাওয়ার প্লে-তে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৬ রান করে কেকেআর। চেন্নাই পাওয়ার প্লে-তে এর দ্বিগুণ রান করেছিল। সেখানেই পিছিয়ে পড়ে তারা। রঘুবংশী বড় শট খেলার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ১৯৩ রান তাড়া করতে হলে সকলকে হাত খুলতে হবে। সেটাই হল না।

কেকেআরের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে উঠছেন রাহানে। দলের অধিনায়ক হওয়ায় তাঁকে বাইরে রাখা যাচ্ছে না। বোলিং পরিবর্তন থেকে ফিল্ডিং সাজানো, সব ক্ষেত্রে ভুল করছেন। শুরুতে ব্যাটটা করছিলেন। যত দিন যাচ্ছে, সেটাও করতে পারছেন না। অধিনায়ক এই ফর্মে থাকলে দল তো ভুগবেই। সেটাই হল এই ম্যাচে। কোনও পরিকল্পনাই দেখা গেল না ব্যাটিংয়ে। ১৯৩ রান তাড়া করতে নেমে কী ভাবে ব্যাট তরা উচিত, সেটা বোধহয় জানেনই না রাহানেরা।

বড় শট মারতে গিয়ে ১৯ বলে ২৭ রান করে আকিল হুসেনের বলে আউট হন রঘুবংশী। চেন্নাইয়ের পেসারেরা ঠিক সেটাই করলেন, যেটা করেননি কেকেআরের পেসারেরা। বলের গতির হেরফের করলেন। টি-টোয়েন্টিতে বলের গতির হেরফের না করলে ব্যাটারদের যে আটকানো কঠিন সেটা বৈভবেরা আর কবে বুঝবেন।

২৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে গ্রিনকে কিনে হাত কামড়াচ্ছে কেকেআর। না পারছেন রান করতে। না পারছেন বল। কেকেআরকে পর পর দু’বলে ধাক্কা দেন নুর আহমেদ। প্রথমে রাহানে ও তার পর গ্রিনকে আউট করেন তিনি। রাহানে ২২ বলে ২৮ ও গ্রিন প্রথম বলেই শূন্য রানে ফেরেন। নুরের পরের ওভারে আউট হন রিঙ্কু। ১২ বলে ৬ রান করেন তিনি। কেকেআরের হয়ে ভাল খেলেই জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন রিঙ্কু। কিন্তু গত দুই মরসুমে তাঁর যা ফর্ম তাতে তাঁর টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যৎ অন্ধকারে। এর পর ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়া কঠিন।

খেলা যত গড়াচ্ছিল, প্রয়োজনীয় রানরেট তত বাড়ছিল। কেকেআর যে এই ম্যাচ জিততে পারবে না, তা স্পষ্ট ছিল। কিন্তু তারা পুরো ২০ ওভার খেলতে পারবে কি না, তা নিয়ে তর্ক চলছিল। রিঙ্কুর মতেই এই দলে রমনদীপের কী ভূমিকা, তা কেউ জানে না। বল করেন না। ব্যাট করতে পারেন না। শুধু ফিল্ডিং করার জন্য দু’জন ক্রিকেটার আইপিএলের আর কোনও দলে খেলেন না।

দেখে মনে হচ্ছিল, কোনও রকমে ২০ ওভার খেলার চেষ্টায় রয়েছে কেকেআর। তার মাঝে যতটা রান তুলে নেওয়া যায়। পাওয়েল কয়েকটি বড় শট মারেন। রমনদীপেরও কয়েকটি শট বাউন্ডারিতে যায়। তাতে হারের ব্যবধান কিছুটা কমে। তার চেয়ে বেশি কিছু হয়নি। হারের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়ে কেকেআর।

এখান থেকে ফেরার কি রাস্তা রয়েছে কেকেআরের? দলে টিম সেইফার্ট, রাচিন রবীন্দ্র, ব্লেসিং মুজ়ারাবানিরা বসে রয়েছেন। তাঁদের খেলিয়ে দেখা যেতে পারে। এর থেকে খারাপ তো কিছু হবে না। গ্রিন, রিঙ্কু, রমনদীপদের ম্যাচের পর ম্যাচ খেলিয়ে গেলে চলবে না। ঝুঁকি নিতে হবে। সেটা আর কবে নেবে নাইট ম্যানেজমেন্ট? আইপিএলের গ্রুপ লিগের প্রায় অর্ধেক তো হয়েই গেল। কোচ অভিষেক নায়ারকে নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। শেন ওয়াটসন, টিম সাউদি, ডোয়েন ব্র্যাভো, আন্দ্রে রাসেলদের কোচিং দলে রেখেই বা হচ্ছেটা কী? একের পর এক ম্যাচে হেরেই চলেছে তিন বারের চ্যাম্পিয়নেরা।

KKR CSK
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy