Advertisement
E-Paper

যে স্টেডিয়ামে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যু, সেই চিন্নাস্বামীতেই আরও ২০ হাজার দর্শকাসন বৃদ্ধির পরিকল্পনা!

১৯৭০ সালে তৈরি হওয়া এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে কয়েক বার সংস্কারের কাজ হয়েছে। সেগুলি সবই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ। পরিকল্পনা করে স্টেডিয়ামের সম্পূর্ণ সংস্কার হবে প্রথম বার।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২৫
picture of cricket

এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম। ছবি: এক্স।

বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা পাল্লা দিতে চাইছে অহমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের সঙ্গে। মুম্বই, কলকাতার মতো কলেবরে বাড়তে চলেছে বেঙ্গালুরুর স্টেডিয়ামও। গত বছর পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যুর পরও এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের দর্শকাসন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নবি মুম্বইয়ে এক লাখ দর্শকাসনের নতুন স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়েরাও ইডেন গার্ডেন্সের সংস্কার করে দর্শকাসন বাড়িয়ে ৮৫ হাজার করার পরিকল্পনা করেছেন। পিছিয়ে থাকতে চাইছেন না কর্নাটকের ক্রিকেট কর্তারাও। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্নাটক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (কেএসসিএ)। এ নিয়ে কর্নাটকের উপ মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেএসসিএ সভাপতি বেঙ্কটেশ প্রসাদ।

আধুনিক করে গড়ে তোলা হবে আইপিএলে বিরাট কোহলিদের ঘরের মাঠ। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে এখন দর্শক আসন রয়েছে ৩৪ হাজার। আরও ২০ হাজার আসন বৃদ্ধি করা হবে। দর্শক স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধিতে নানা পরিকল্পনা করেছে প্রসাদের কমিটি। দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামে ঢোকার এবং বাইরে যাওয়ার পথ আরও প্রশস্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত বছর আইপিএলের পর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিজয় উৎসবে দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখেই সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ওই ঘটনায় ৫০ জন আহতও হয়েছিলেন।

Advertisement

কত দিনের মধ্যে স্টেডিয়াম সংস্কারের কাজ শেষ হবে, বলেননি প্রসাদ। কেএসসিএ সভাপতি বলেছেন, ‘‘আমরা সংস্কারের কাজ শেষ করার ব্যাপারে কোনও সময়সীমা নির্দিষ্ট করিনি। কারণ এটা বেশ দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা দরপত্র আহ্বান করব। বিভিন্ন কাজের অনুমোদন নিতে হবে। তার জন্য সময়ে সময়ে বেশ কিছু বৈঠক করতে হবে। সব মিলিয়ে একটা বড় সময় লাগবে। তবে আমরা স্টেডিয়ামের প্রয়োজনীয় সব পরিবর্তন করতে বদ্ধপরিকর। আশা করব, আমার কার্যকালের মধ্যেই স্টেডিয়াম নতুন ভাবে তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে।’’

ভারতীয় দলের প্রাক্তন জোরে বোলার জানিয়েছেন, চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম সংস্কারের পরিকল্পনা হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ দিন ধরে তাঁদের ভাবনায় বিষয়টি ছিল। ব্যস্ত সূচির কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘‘সকালে অফিসে এসে হঠাৎ মনে হল স্টেডিয়াম সংস্কার করতে হবে, ব্যাপারটা এমন নয়। গত ১০ বছর ধরে আমি এটা নিয়ে ভাবছি। ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস ম্যানেজমেন্সট নিয়ে এমবিএ করার সময় থেকেই ভাবছি। সে সময় পড়ার প্রয়োজনে স্টেডিয়ামে আসতাম। তখনই মনে হয়, দর্শকেরা ক্রিকেটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণও বলতে পারেন। অথচ তাঁদেরই কথা বলার কোনও জায়গা নেই। দর্শকদের জন্যই তো ক্রিকেট আজ এই জায়গায় পৌঁছেছে। তাই আমরা এই স্টেডিয়ামে তাঁদের সেরা অভিজ্ঞতা দিতে চাই।’’

১৯৭০ সালে তৈরি হওয়া চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বেশ কয়েক বার সংস্কারের কাজ হয়েছে। সেগুলি সবই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ। পরিকল্পনা করে স্টেডিয়ামের সংস্কার হবে প্রথম বার। মূলত স্টেডিয়ামের সার্বিক মানোন্নয়নই লক্ষ্য প্রসাদের। তিনি বলেছেন, ‘‘স্টেডিয়ামটা বেশ পুরনো। সময়ের সঙ্গে মানিয়ে চলার জন্য কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। আমরা আগামী ৫০ বছরের কথা মাথায় রেখে নতুন ভাবে গড়ে তুলতে চাই।খেলোয়াড়, অফিসিয়াল, ধারাভাষ্যকার, দর্শক, সংবাদমাধ্যম— সকলের সুযোগ সুবিধা এবং স্বাচ্ছন্দ্য সময়োপযোগী করে তুলতে চাই আমরা। বেঙ্গালুরু ভারতীয় ক্রিকেটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জায়গাটা ধরে রাখা আমাদের দায়িত্ব।’’

আরসিবির অনুষ্ঠানে পদপিষ্টের ঘটনায় এ বারে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আইপিএলের ম্যাচ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরির হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কর্নাটক সরকারের গড়া বিশেষজ্ঞ কমিটি ছাড়পত্র দেওয়ায় কোহলিরা চিন্নাস্বামীতে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

Venkatesh Prasad RCB
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy