Advertisement
E-Paper

অবশেষে! রিঙ্কুর ব্যাটে সপ্তম ম্যাচে জয় কেকেআরের, তবু ১৫৫ তুলতেই কালঘাম ছুটল রাহানেদের, ক্যাচ ফেলে ডুবল রাজস্থান

একটি-দু’টি নয়, প্রথম জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হল দীর্ঘ সাতটি ম্যাচ। এ বারের আইপিএলে অবশেষে জিতল কেকেআর। হারের মুখ থেকে রিঙ্কু সিংহ এবং অনুকূল রায়ের জুটিতে রাজস্থান রয়্যালসকে ৪ উইকেটে হারাল তারা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:২০
cricket

কেকেআরকে জেতালেন রিঙ্কু সিংহ। ছবি: পিটিআই।

একটি-দু’টি নয়, প্রথম জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হল দীর্ঘ সাতটি ম্যাচ। এ বারের আইপিএলে অবশেষে জিতল কেকেআর। হারের মুখ থেকে রিঙ্কু সিংহ এবং অনুকূল রায়ের জুটিতে ইডেন গার্ডেন্সে রাজস্থান রয়্যালসকে ৪ উইকেটে হারাল তারা। প্রথমে ব্যাট করে রাজস্থান তুলেছিল ১৫৫/৯। জবাবে দু’বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জেতে কেকেআর। অর্ধশতরান করে দলকে জেতালেন রিঙ্কু। তবে এ দিন কেকেআর যা খেলেছে, তাতে ইতিবাচক কথা বলার জায়গা বিশেষ নেই। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং— তিনটি বিভাগ এ দিনও হতাশ করেছে। রিঙ্কু শেষ বেলায় উদ্ধার না করলে এই ম্যাচেও নিশ্চিত হার অপেক্ষা করছিল।

বাঁচালেন রিঙ্কু, খলনায়ক বার্গার

শুরু থেকেই বেশ ধরে খেলছিলেন রিঙ্কু। খুচরো রানের বেশি নিতে পারছিলেন না। মাঝে এক বার মরিয়া হয়ে চালাতে গেলেন রবীন্দ্র জাডেজার বলে। শর্ট থার্ডম্যানে থাকা নান্দ্রে বার্গার সহজতম ক্যাচটি ফস্কালেন। এই ধৈর্যই শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখল রিঙ্কুকে। এ বারের আইপিএলে একটি ম্যাচেও বলার মতো খেলতে পারেননি তিনি। এ দিনও দলের বিপদের সময় তাঁকে নামানো হয়েছে সাতে। সেখান থেকেও দলকে জিতিয়ে দিলেন তিনি। অর্ধশতরান করলেন। ৩৪ বলে ৫৩ রানের ইনিংসে রয়েছে ৫টি চার এবং ২টি ছয়। কেকেআরের জয় অপূর্ণ থেকে যাবে অনুকূলের অবদানের কথা না বললে। রিঙ্কুর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ১৬ বলে ২৯ রানের ইনিংস না খেললে কেকেআরের পক্ষে ম্যাচ জেতা কার্যত অসম্ভব ছিল।

Advertisement

ইডেনে বৈভব-ঝড়

হায়দরাবাদ, পঞ্জাব, লখনউ। ইডেনে আগে যে তিনটি ম্যাচ খেলেছিল কেকেআর, কোনও বারই ৬৭ হাজারের স্টেডিয়ামে ৩০-৩৫ হাজারের বেশি দর্শক হয়নি। কিন্তু রবিবার প্রথম টিকিট নিয়ে আকুতি দেখা গিয়েছিল সমর্থকদের। তার একটাই কারণ, ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। আগের ম্যাচে শূন্য করলেও ইডেনকে যে বৈভব হতাশ করবে না, এমনটাই আশা ছিল অনেকের। তাঁদের হতাশ করেনি বৈভব। গত বছর ইডেনে সে রান করতে পারেননি। এ বার অল্পের জন্য অর্ধশতরান হাতছাড়া করলেও যে টুকু আনন্দ দেওয়ার তা দিয়েছে বৈভব। ২৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংসে রয়েছে ৬টি চার এবং ২টি ছয়। নিজের দ্বিতীয় বলেই কার্তিক ত্যাগীকে চার মেরে শুরু করেছিল সে। এর পর বৈভব অরোরাকে তিনটি চার মেরে। সুনীল নারাইনকে পর্যন্ত পাঠিয়েছে গ্যালারিতে। ক্যামেরন গ্রিনকেও রেয়াত করেনি। শেষ পর্যন্ত হার মেনেছে বরুণ চক্রবর্তীর কাছে।

স্পিনারে অনীহা

রবিবার ইডেনের পিচ দেখে পরিষ্কার বোঝাই যাচ্ছিল স্পিনারেরা সাহায্য পেতে চলেছেন। কেকেআরের হাতে বিকল্প কম ছিল না। রাচিন রবীন্দ্রকে এই ম্যাচেও খেলানো হয়নি। কিন্তু হাতে তো স্পিনার হিসাবে অনুকূল ছিলেন। কেকেআরের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে বলই করালেন না অনুকূলকে দিয়ে। যে পিচে বরুণ চার ওভারে মাত্র ১৪ রান দিলেন, নারাইন ৪ ওভারে ২৬ দিলেন, সেই পিচে অনুকূল আসবেন না? অগ্রাধিকার পাবেন রমনদীপ সিংহ, গ্রিনেরা? ক্রিকেট বিশেষজ্ঞেরা বলছিলেন, অনুকূল তো বটেই, এমনকি রিঙ্কুর স্পিন বোলিংও এই পিচে কাজে আসত। রাহানের সিদ্ধান্ত কতটা ভুল ছিল তা প্রমাণ করে দেয় রাজস্থান। সাত ওভারের মধ্যেই তারা তিন স্পিনারকে নিয়ে এসেছে। যশরাজ পুঞ্জার মতো অনভিজ্ঞ স্পিনারকেও নামিয়ে দিয়েছে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে। স্পিনারেরা সাহায্য পাচ্ছেন দেখে রিয়ান পর্যন্ত বল করতে এলেন। প্রথম ক্রিকেট খেলতে নামা কেউও অনায়াসে এই পিচে স্পিনারদের গুরুত্ব বুঝতে পারবে। পারেন না শুধু রাহানে।

রাহানের অদ্ভুত সিদ্ধান্ত

অধিনায়ক হিসাবে রাহানে এমন সব সিদ্ধান্ত নেন যার ব্যাখ্যা খুঁজতে বসলে সারা দিন মাথা চুলকোতে হবে। তাতেও উত্তর পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। এ দিন যেমন স্পিনারেরা ধারাবাহিক সাফল্য পাচ্ছেন দেখেও অনুকূলকে দিয়ে বল করালেন না। ঘরোয়া ক্রিকেটে অনুকূলের দল ঝাড়খন্ড সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি জিতেছে। তিনি নিজে ১৮টি উইকেট পেয়েছেন। তাঁকে আস্তিনের তলায় লুকিয়ে রাখা হল। বল করানো হল রমনদীপকে দিয়ে, যিনি একের পর এক ওয়াইড দিয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুললেন। তিনি তো ঘরোয়া ক্রিকেটেও বল করেন না। দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাক, তবু বৈভব অরোরাকে দিয়ে চার ওভার করাবেনই রাহানে। বৈভব ১০০ রান হজম করলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরবেন না। এ দিন তবু টসে হারার কারণে ভুলভাল সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হয়নি।

পাওয়ার প্লে-তে তিন উইকেটের পতন

পাওয়ার প্লে শেষ হবে, অথচ কেকেআরের তিনটি উইকেট পড়বে না এমনটা হতে পারে না। আগের ম্যাচগুলিতে যা দেখা গিয়েছে তা দেখা গেল এ দিনও। প্রথম বলেই আউট টিম সেইফার্ট। দু’ম্যাচে তিনি যা দেখালেন তাতে বোঝা গিয়েছে তিনি ফিন অ্যালেনের চেয়েও খারাপ। ফলে কেকেআর এ বার কাকে দিয়ে ওপেন করাবে তা নিয়ে ভাবতে হতে পারে। এক দিকে রয়েছেন রাহানে, যিনি আগের দিন প্রথম বলে আউট হওয়ার পর এ দিন দ্বিতীয় বলে আউট হলেন। যে ভাবে নান্দ্রে বার্গারের বল চালালেন তা শিক্ষানবিশও কেউ খেললে তাঁকে দু’ম্যাচ বসিয়ে দেওয়া হত। তবু কেকেআর নারাইনকে দিয়ে ওপেন করাবেন না। আগের ম্যাচে তবু ২৪ রান করেছিলেন চালিয়ে খেলে। যে দিন নারাইন খেলবেন সে দিন তাঁকে আটকানো যাবে না। রাহানের চেয়ে অন্তত ভাল।

ব্যাটারদের হারাকিরি

১৫৬ রান যেখানে দরকার, সেখানে তাড়াহুড়ো করার কোনও মানেই হয় না। প্রথম বলে সেইফার্ট না হয় বলের লেংথ বুঝতে না পেরে আউট হয়েছেন। কিন্তু রাহানে? অফস্টাম্পের এত বাইরের বলে কে ও ভাবে চালাতে যায়! গ্রিন ক্রিজ় ছেড়ে এতটাই বেরিয়ে খেলছিলেন যে, রবি বিশ্নোইয়ের লেগ স্টাম্পের বাইরে করা বলের নাগালই পেলেন না। সেই বল ধরতে ধ্রুব জুরেলকে ঝাঁপাতে হলেও দূর থেকে ছুড়ে উইকেট ভেঙে দিলেন। রবীন্দ্র জাডেজার বল এমনিতেই সোজা ব্যাটে খেলতে পারছিলেন না। অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ‘রিভার্স সুইপ’-এর মতো সাহসী শট খেলতে গেলেন! একটিও ম্যাচ না জেতা দলের ব্যাটারেরা যে এ ভাবে শট খেলতে পারেন তা কেকেআরের ব্যাটিং না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। রিঙ্কুর ব্যাটিং ছাড়া এই ম্যাচ থেকে ব্যাটিং নিয়ে বলার মতো কোনও প্রাপ্তি নেই।

সংক্ষেপে
  • ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়ে গেল প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হল না উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
  • আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে বোর্ড।
  • আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার।
KKR Rajasthan Royals Rinku Singh Vaibhav Sooryavanshi Ajinkya Rahane
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy