পারলেন না শিবম দুবে। পারলেন না অসাধ্যসাধন করতে। যত ক্ষণ তিনি ক্রিজ়ে ছিলেন, তত ক্ষণ ভারতের জয়ের আশা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে শিবম রান আউট হওয়ার পরেই ভারতের জয়ের আশা শেষ হয়ে গেল। বিশাখাপত্তনমে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে ৫০ রানে হারল ভারত। এই ম্যাচের পর বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম একাদশ থেকে আরও দূরে সরে গেলেন সঞ্জু স্যামসন। আরও একটি সুযোগ নষ্ট করলেন তিনি। হয়তো সিরিজ়ে আরও একটি সুযোগ পাবেন তিনি। তার পরেও বিশ্বকাপের দলে তাঁর খেলার সম্ভাবনা কম।
নিউ জ়িল্যান্ডকে কি বড্ড হালকা ভাবে নিয়েছিল ভারত? অন্তত প্রথম তিন ম্যাচে সিরিজ় জয়ের পর ভারতের দল নির্বাচন দেখে তাই মনে হল। এক জন কম ব্যাটার খেলালেন গৌতম গম্ভীরেরা। শ্রেয়স আয়ার থাকার পরেও তাঁকে নেওয়া হল না। ফর্মে থাকা ঈশান কিশন চোটে খেলতে না পারায় নেওয়া হল অর্শদীপ সিংহকে। বোলিং গভীরতা বাড়িয়েও বিশেষ লাভ হল না। রিঙ্কু সিংহ ও শিবম ছাড়া এই ম্যাচে ব্যর্থ ভারতের ব্যাটিংও। নিউ জ়িল্যান্ডকে চুনকাম করে হারানোর সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারলেন না সূর্যকুমার যাদবেরা।
টস জিতে আরও একটি ম্যাচে বল করার সিদ্ধান্ত নেন সূর্য। নিউ জ়িল্যান্ড জানত, ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে অন্তত ২০০ রান করতে হবে। শুরুটাও সেই ভাবে করে তারা। প্রথম বল থেকে হাত খোলেন টিম সেইফার্ট। এ বারের আইপিএল নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে নিয়েছে। সেইফার্টের ব্যাটিং হাসি ফোটাবে নাইট কর্তাদের মুখে।
ডেভন কনওয়ে শুরুতে কিছুটা ধীরে খেললেও সেইফার্টের ব্যাটে দ্রুত গতিতে রান উঠছিল। হর্ষিত রানা আরও একটি ম্যাচে প্রচুর রান দিলেন। ভারতীয় দলে তিনি বেশ কিছু দিন ধরে খেলছেন। টি-টোয়েন্টিতে অভিজ্ঞতাও কম নয়। তার পরেও প্রতি ম্যাচে তাঁর রান দেওয়ার প্রবণতা থামছে না।
স্পিনারেরা বল করতে আসার পর হাত খোলা শুরু করেন কনওয়েও। পাওয়ার প্লে-তে ৭১ রান করে নিউ জ়িল্যান্ড। আগের ম্যাচে ভাল বল করলেও এই ম্যাচে রান দিলেন রবি বিশ্নোই। তাঁর বলের গতি ছিল বেশি। বার বার ধারাভাষ্যকারেরা বলছিলেন, বলের গতি কমাতে। সেটা না করায় সমস্যা হল।
ভারতকে খেলায় ফেরান কুলদীপ যাদব। তিনি বলের গতি কম রেখে নিউ জ়িল্যান্ডের ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলেন। ৪৪ রানের মাথায় আউট হন কনওয়ে। রান পাননি রাচিন রবীন্দ্র। ৩৬ বলে ৬২ রান করেন সেইফার্ট। তাঁকে আউট করেন অর্শদীপ। ২৪ রানের মাথায় ফিলিপ্সের উইকেট নেন সেই কুলদীপ। এই ম্যাচে ফিল্ডিংয়ে নজর কাড়লেন রিঙ্কু। তিনটি ভাল ক্যাচ ধরলেন তিনি।
একটা সময় মনে হচ্ছিল, নিউ জ়িল্যান্ড ২৩০-২৪০ রান করবে। কিন্তু পর পর উইকেট পড়ায় রান তোলার গতি কমে যায়। শেষ দিকে ড্যারিল মিচেল ১৮ বলে ৩৯ রান করে নিউ জ়িল্যান্ডের রান ২০০ পার করেন। ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২১৫ রান করে নিউ জ়িল্যান্ড।
ভারতীয় বোলারদের মধ্যে অর্শদীপ ও কুলদীপ ২ করে উইকেট নেন। ১ করে উইকেট নেন জসপ্রীত বুমরাহ ও বিশ্নোই। হর্ষিত ৪ ওভারে ৫৪ রান দেন। একটিও উইকেট পাননি তিনি।
আরও পড়ুন:
২১৬ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই অভিষেক শর্মার উইকেট হারায় ভারত। ম্যাট হেনরির বলে ছক্কা মারতে গিয়ে শূন্য রানে ফেরেন অভিষেক। আগের ম্যাচেও এই ঘটনা ঘটেছিল। আউট হয়েছিলেন সঞ্জু। কিন্তু তার পর ঈশান এসে রান তোলার গতি বাড়িয়েছিলেন। এই ম্যাচে ছিলেন না ঈশান। সূর্যও বেশি ক্ষণ থাকেননি। ৮ বলে ৮ রান করে জেকব ডাফির দুরন্ত ক্যাচে ফেরেন তিনি।
অভিষেক ও সূর্য রান না পাওয়ায় সুযোগ ছিল সঞ্জুর। কিন্তু তাঁর ব্যাটিং দেখে বোঝা গেল, আত্মবিশ্বাস তলানিতে। প্রতিটি বলের আগে হয় সামনে এগোচ্ছিলেন, নয় পিছনে সরছিলেন। বোঝা যাচ্ছিল, আগে থেকেই কী শট মারবেন তা ঠিক করে ফেলেছেন। এ ভাবে রান করা মুশকিল। বল দেখে খেলার চেষ্টা করলেন না। মিচেল স্যান্টনারের বলের লাইন মিস্ করে ১৫ বলে ২৪ রান করে আউট হলেন তিনি।
চার নম্বরে নেমে রিঙ্কু ভাল খেলছিলেন। কিন্তু জরুরি রান রেট বাড়ছিল। ২ রানে আউট হন হার্দিক। বাধ্য হয়ে মারতে গিয়ে ৩৯ রানের মাথায় রিঙ্কু আউট হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, বড় ব্যবধানে হারবে ভারত। কারণ, এই ম্যাচে সাত নম্বরে ছিলেন হর্ষিত। ফলে ব্যাটিং বেশি বাকি ছিল না ভারতের।
সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণ শুরু শিবমের। উইকেট পড়লেও হাত খোলা থামালেন না তিনি। কিউয়ি স্পিনার ইশ সোধির এক ওভারে ২৯ রান নিলেন তিনি। মাত্র ১৫ বলে করলেন অর্ধশতরান। ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে এটি তৃতীয় দ্রুততম অর্ধশতরান। হঠাৎ করেই ভারতের রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন তিনি। জয়ের আশা দেখতে শুরু করেন ভারতীয় সমর্থকেরা।
শেষ ছ’ওভারে ভারতের জিততে দরকার ছিল ৮২ রান। শিবম জানতেন, তাঁকেই যা করার করতে হবে। বড় শট চালিয়ে যেতে থাকেন তিনি। যত ক্ষণ তিনি ক্রিজ়ে ছিলেন, তত ক্ষণ ভারতের জয়ের আশা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে শিবম রান আউট হওয়ার পরেই ভারতের জয়ের আশা শেষ হয়ে গেল। হর্ষিতের শট হেনরির হাতে লেগে স্টাম্প ভেঙে দিল। ২৩ বলে ৬৫ রান করে আউট হলেন তিনি। তিনটি চার ও সাতটি ছক্কা মারলেন শিবম। কিন্তু হতাশ হয়েই ফিরতে হল তাঁকে। তার পর আর বেশি ক্ষণ টিকতে পারেনি ভারত। ১৮.৩ ওভারে ১৬৫ রানে অল আউট হয়ে গেল পুরো দল।