সব দলের মতো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও আইপিএলের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। অথচ গত বারের চ্যাম্পিয়নদের শিবিরে অনুপস্থিত যশ দয়াল। বেঙ্গালুরুকে প্রথম বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করার অন্যতম নায়কের অনুপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত ক্রিকেটারকে কি ছেঁটে ফেলেছে বিরাট কোহলির দল?
যশের বিরুদ্ধে একাধিক যৌন হেনস্থার অভিযোগ রয়েছে। দেশের দু’টি রাজ্যের পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। একটি ক্ষেত্রে অভিযোগকারিণী আবার নাবালিকা। বেঙ্গালুরুর শিবিরে সব ক্রিকেটার যোগ দিলেও গত মরসুমে ১৩ উইকেট নেওয়া উত্তরপ্রদেশের জোরে বোলার অনুপস্থিত। শুধু তা-ই নয়, দলের বাসে যশ ছাড়া বাকি সব ক্রিকেটারের ছবি রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। দলের ভাবমূর্তির স্বার্থে গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ক্রিকেটারকে কি ছেড়ে দিয়েছেন আরসিবি কর্তৃপক্ষ?
যশকে গত নিলামের আগে ধরে রেখেছিল আরসিবি। তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে দলের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। একটি যৌন হেনস্থার মামলায় গত জানুয়ারি মাসে রাজস্থান হাই কোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঁচ বছর ধরে ধর্ষণ, মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের মামলায় নিম্ন আদালতে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর গ্রেফতারি এড়াতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন যশ। এক নাবালিকাকেও ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এই বিতর্কের মধ্যেই গত ৪ ফেব্রুয়ারি যশ বিয়ে করেছেন নেটপ্রভাবী শ্বেতা পুন্ডিরকে। বিয়ের অনুষ্ঠানে শুধু দু’পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়েরা আমন্ত্রিত ছিলেন। সমাজমাধ্যমে অবশ্য বিয়ের কথা ঘোষণা করেননি তাঁরা। শুধু বিয়ের কয়েক দিন পর দু’জনের একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন শ্বেতা। যশের অনুশীলনের ভিডিয়োও পোস্ট করেছিলেন। দিল্লির বাসিন্দা শ্বেতাকে সমাজমাধ্যমে অনুসরণ করেন ছ’লাখের কাছাকাছি মানুষ। প্রাক্তন ক্রিকেটারদের লিগে উপস্থাপিকা হিসাবেও দেখা যায় তাঁকে।
যশের গতিবিধি সম্পর্কে জানেন না উত্তরপ্রদেশের ক্রিকেট কর্তারাও। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এক কর্তা বলেছেন, ‘‘যশের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো খুবই গুরুতর। তাই আমরা ওকে এখন দলে বিবেচনা করছি না। গত সেপ্টেম্বরে শেষ বার আমরা ওর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু যোগাযোগ হয়নি। যশ ফোন নম্বরও পাল্টে ফেলেছে। ওর ছোটবেলার কোচও কিছু জানেন না। যশের সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই।’’
আরও পড়ুন:
আরসিবি কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি শিবিরে যশের অনুপস্থিতি নিয়ে কোনও মন্তব্য না করায় ক্রিকেটপ্রেমীরাও কিছুটা সংশয়ে রয়েছেন। একাংশ অবশ্য মনে করছেন, গত বছর আইপিএল জয়ের পর থেকে একের পর এক বিতর্কে জর্জরিত আরসিবি কর্তৃপক্ষ যশের সঙ্গে নিঃশব্দে দূরত্ব তৈরি করেছে।