অস্ট্রেলিয়াকে চুনকাম করে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে জিতে উঠে খবরটা পেয়েছেন তিনি। জানতে পেরেছেন, দেশের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না পাকিস্তান। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুললেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজ় শেষে সাংবাদিক বৈঠকে সলমনকে প্রশ্ন করা হয়, পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কী ভাবছেন তিনি? জবাবে সলমন বলেন, “আমরা বিশ্বকাপে খেলতে যাব। কিন্তু আমাদের হাতে কিছু নেই। সত্যি বলতে, আমাদের এই বিষয়ে কিচ্ছু করার নেই। আমাদের সরকার ও আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান যা বলবে আমাদের সেটাই করতে হবে। আমরা সেটাই করব।”
সলমন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যদি শেষ পর্যন্ত শাহবাজ় শরিফ সরকার নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে না খেলতে বলে, তা হলে তাঁরা সেটাই করবেন। খেলবেন না।
আরও পড়ুন:
রবিবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মাঝেই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে পাকিস্তান সরকার। এক্স মাধ্যমে তারা জানায়, “পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না পাকিস্তান।” বিশ্বকাপে গ্রুপ এ-তে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে আমেরিকা, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া। অর্থাৎ, বাকি তিন দেশের বিরুদ্ধে খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না পাকিস্তান।
বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর পাকিস্তানও প্রতিযোগিতা বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তবে তার মধ্যে এ-ও জানা গিয়েছিল, পুরো প্রতিযোগিতা নয়, শুধুমাত্র ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না তারা। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের উপর ছেড়েছিল সে দেশের ক্রিকেট বোর্ড। শেষ পর্যন্ত শাহবাজ় শরিফ সরকার সিদ্ধান্ত নিল, ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না তারা। অর্থাৎ, বিশ্বকাপে যে ম্যাচের উপর ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর ছিল, সেটাই হচ্ছে না।
গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে খেলতে যেতে চায়নি। ভারতের দাবি মেনে তাদের সব ম্যাচ সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে হয়েছিল। তখনই আইসিসি জানিয়ে দিয়েছিল, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভারতে খেলবে না পাকিস্তান। সেই মতো তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় ছিল। অর্থাৎ, ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে শ্রীলঙ্কায় যেতে হত। সেটাও হচ্ছে না।
পাকিস্তান যদি পুরো বিশ্বকাপ না খেলত তা হলে আরও কড়া শাস্তি হতে পারত। নির্বাসনের খাঁড়া ঝুলছিল। সেই কারণেই হয়তো শুধু ভারত ম্যাচ বয়কটের পথে গেল তারা। তবে এর পরেও শাস্তি হতে পারে পাকিস্তানের। ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে তাদের পয়েন্ট কাটা যেতে পারে। পাশাপাশি অন্য শাস্তিও পেতে হতে পারে। এখন দেখার, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জয় শাহের আইসিসি কী জানায়।