Advertisement
E-Paper

পাকিস্তানের ছোটদের বড় বুদ্ধির পরিচয়, বিশ্বকাপে ৪৫ রান করতে নিল ১২.২ ওভার, ইচ্ছা করে ধীর গতিতে রান তাড়া করে জয়!

হারারেতে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ১৪ ওভারে ৮৪ রান তুলে ফেলে। বাকি ৪৫ রান করতে পাকিস্তানের ছোটদের দল আরও ১২.২ ওভার নেয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৫
Zimbabwe cricketer congratulates Pakistan batter at ICC U19 WC

জেতার পর জিম্বাবোয়ের ক্রিকেটারের সঙ্গে করমর্দন পাক ব্যাটারের। ছবি: সংগৃহীত।

ক্রিকেট মাঠে দুর্দান্ত পরিকল্পনা এবং বুদ্ধির পরিচয় দিল পাকিস্তানের ছোটদের ক্রিকেট দল। অনূর্ধ্ব১৯ বিশ্বকাপে ধীর গতিতে পাকিস্তানের রান তাড়া করা নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। কিন্তু পরে বোঝা গেল, নিজেদের সুবিধের জন্য অনেক ভেবে-চিন্তে পাকিস্তান এটা করেছে।

হারারেতে পাকিস্তানের খেলা ছিল জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ১৪ ওভারে ৮৪ রান তুলে ফেলে। বাকি ৩৬ ওভারে দরকার ছিল ৪৫ রান। অর্থাৎ, জেতার জন্য তখন তাদের ওভারপ্রতি ২ রানেরও কম প্রয়োজন ছিল। সেই ৪৫ রান করতে পাকিস্তানের ছোটদের দল আরও ১২.২ ওভার নেয়।

ওই ১২ ওভারে দুই পাক ব্যাটার সমীর মিনহাস এবং আহমেদ হোসেন উইকেটে ছিলেন। ২৬.২ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছন তাঁরা। পাকিস্তান ৮ উইকেটে জেতে। ওই দুই ব্যাটার ৮৯ বলের একটি সময়ে কোনও বাউন্ডারিই মারেননি।

কেন পাকিস্তান এরকম করল?

পাকিস্তান যদি ২৫.২ ওভারের আগে জিতে যেত, তা হলে জিম্বাবোয়ের বদলে স্কটল্যান্ড পাকিস্তানের সঙ্গে সুপার সিক্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করত। রান তাড়া করার গতি কমিয়ে পাকিস্তান নিশ্চিত করে যাতে নেট রান রেটে জিম্বাবোয়ে এগিয়ে থেকে পরের রাউন্ডে যায় এবং স্কটল্যান্ড টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়।

পাকিস্তান কেন জিম্বাবোয়েকে চেয়েছিল?

অনূর্ধ্ব১৯ বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট এবং নেট রান রেট সুপার সিক্সে যোগ হবে। তবে, শুধুমাত্র সেই দলগুলির বিপক্ষে পাওয়া পয়েন্ট এবং নেট রান রেট যোগ হবে, যারা নিজেরাও সুপার সিক্সে উঠবে। ছিটকে যাওয়া দলগুলির বিপক্ষে পাওয়া পয়েন্ট এবং নেট রান রেট সুপার সিক্সে যোগ হবে না।

স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তান ৪১ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে জিতেছিল। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ১৪২ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটে জেতে পাকিস্তান। ফলে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তুলনায় অনেক বড় ব্যবধানে জিতেছে পাকিস্তান। তাই স্কটল্যান্ডের বদলে জিম্বাবোয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ায় পাকিস্তান অনেক ভাল নেট রান রেট সঙ্গে নিতে পেরেছে। পাকিস্তান ঠিক এটাই চেয়েছিল। তাই হিসাব করে ২৫.২ ওভারের পর জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছোয় তারা।

আরও একটি বিষয় ছিল। গ্রুপ সি-তে শীর্ষে থাকা ইংল্যান্ড ২৫২ রানের বিশাল ব্যবধানে স্কটল্যান্ডকে হারিয়েছিল। ফলে স্কটল্যান্ড সুপার সিক্সে গেলে নেট রান রেটের বড় সুবিধা পেত ইংল্যান্ড। স্কটল্যান্ডকে ছিটকে দিয়ে সেই রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান।

প্রতিক্রিয়া

জিম্বাবোয়ের প্রাক্তন অধিনায়ক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার পাকিস্তানের এই কৌশলকে সমর্থন করেছেন। ইএসপিএনক্রিকইনফো-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এটিকে একটি চতুর কিন্তু যুক্তিযুক্ত কৌশল হিসাবে অভিহিত করেন। ফ্লাওয়ারের যুক্তি, একবার পাকিস্তানের জয় যখন নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, তখন ভবিষ্যতের জন্য বাড়তি সুবিধা আদায় করে নিতে তারা যা করেছে, তা সঠিক।

শাস্তি হতে পারে?

আইসিসির কোড অফ কন্ডাক্ট অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত ভাবে খেলার গতি পরিবর্তন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে. কিন্তু কোনটা ইচ্ছাকৃত, কোনটা নয়, তা প্রমাণ করা কঠিন। ফলে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব১৯ দলের শাস্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এর আগে

দৃষ্টান্ত

আগেও এরকম ঘটেছে। তবে সেটা বড়দের ক্রিকেট। ১৯৯৯ সালের এক দিনের বিশ্বকাপে স্টিভ ওয়ের অধিনায়কত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া রান তাড়া করার সময় একই কৌশল নিয়েছিল।

Pakistan Cricket
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy