একটা হার দলের আত্মবিশ্বাস কতটা দুমড়ে দিতে পারে? ভারতীয় দলকে দেখলে চিত্রটা পরিষ্কার হবে। গ্রুপ পর্বে হোঁচট খেলেও অনেকেই পাত্তা দেননি। কিন্তু সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার গোটা দলকে নাড়িয়ে দিয়েছে। রান রেটও ধাক্কা খেয়েছে। ফলে বৃহস্পতিবার জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে নামার আগে টপ অর্ডারের ফর্ম, বোলারদের নিষ্ক্রিয়তার পাশাপাশি কী ভাবে রান রেট বাড়ানো যায়, সে দিকেও নজর থাকবে ভারতীয় দলের।
জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে যে করে হোক রান রেট বাড়াতে হবে ভারতকে (-৩.৮০)। তার জন্য বড় ব্যবধানে হারাতে হবে বিপক্ষকে। প্রশ্ন হল, সেই কাজটা করবেন কারা? কারণ ভারতের ব্যাটিংয়ের অবস্থা এমনিতেই শোচনীয়। ঈশান কিশন না হয় একটি ম্যাচে ভাল খেলতে পারেননি। কিন্তু অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মা, সূর্যকুমার যাদবেরা জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধেও জ্বলে উঠতে না পারলে তা হলে আর কবে জ্বলে উঠবেন? ভারতকে এখন শুধু বাকি দু’টি ম্যাচে জিতলেই হবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যান্য দলের দিকেও।
বৃহস্পতিবার ভারত খেলতে নামার আগেই অহমদাবাদে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারত মনেপ্রাণে চাইবে সেই ম্যাচ প্রোটিয়ারা জিতুক। অন্য দিকে, জ়িম্বাবোয়ে গলা ফাটাবে ক্যারিবিয়ানদের হয়ে। কে ভেবেছিল বিশ্বকাপ ধরে রাখার লড়াইয়ে নামা ভারতকে শেষ পর্যন্ত তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলের দিকে? একটি হারে পরিস্থিতি এখন তেমনই দাঁড়িয়েছে। সহজ গ্রুপে শীর্ষে শেষ করা গেলেও, সুপার এইট সম্পূর্ণ অন্য লড়াই। নেহাত জ়িম্বাবোয়ে অঘটন ঘটিয়েছে। না হলে বৃহস্পতিবার ভারতকে নামতে হত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, যারা চিরকালের শত্রু।
অভিষেক চার ম্যাচে ১৫ রান করলেও বাদ পড়ার সম্ভাবনা কম। রানে ফিরতে গৌতম গম্ভীর এবং সীতাংশু কোটাকদের পরামর্শ নেওয়া ছাড়াও, তিনি দেখতে পারেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হ্যারি ব্রুকের ইনিংস। অভিষেকের মতোই ব্রুক স্পিন খেলতে একেবারেই স্বচ্ছন্দ নন। তবে মঙ্গলবার রাতে পাল্লেকেলেতে আগ্রাসনের সঙ্গে রক্ষণ মিশিয়ে যে ভাবে পাকিস্তানের হাত থেকে একাই ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন তিনি, তা শিক্ষণীয়। অফস্পিনার সামনে এলেই অভিষেকের যে গুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা, তা কাটানোর টোটকা দিতে পারে ব্রুকের ওই ইনিংস।
চিন্তা থাকছে তিলককে নিয়েও। ধরে খেলতে গিয়ে তাঁর স্ট্রাইক রেট এতটাই কমে যাচ্ছে যে পরের দিকের ব্যাটারদের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, তিলকের জায়গায় সঞ্জু স্যামসনকে খেলানো হতে পারে, যাতে টপ অর্ডারে অন্তত ডান হাতিদের সংখ্যা বাড়ানো যায়। দলে আসার কথা অক্ষর পটেলেরও। আগের ম্যাচে তাঁকে বাদ দিয়ে যে ভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন গম্ভীরেরা, তাতে একই ভুল আর তাঁরা করবেন বলে মনে হয় না। তবে দল নির্বাচন বরাবরই একটা বিতর্কিত বিষয়। তাই যত ক্ষণ না টসের পর সূর্যকুমার প্রথম একাদশের নাম ঘোষণা করছেন, তত ক্ষণ নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই।
আরও পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অঘটন ঘটানো জ়িম্বাবোয়ে চাইবে ভারতকেও হারিয়ে প্রতিযোগিতায় হ্যাটট্রিক করতে। যদি না-ও পারে, তা হলেও মাথা উঁচু করে বিদায় নেবে তারা। চিন্তা বেশি ভারতেরই। কারণ ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ ধরে রাখার বিপুল চাপ নিয়ে নামতে হবে। এখন দেখার, সব সমস্যার সমাধান করে ভারত আবার জয়ের রাস্তায় ফিরে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে কি না।