জয় দিয়ে আইপিএল শুরু করল এ বারে খেতাব জয়ের অন্যতম দাবিদার পঞ্জাব কিংস। প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৬২ রান করে শুভমন গিলের গুজরাত টাইটান্স। জবাবে ১৯.১ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৫ রান শ্রেয়স আয়ারদের। ২২ বছরের কুপার কনোলির ৭২ রানের দায়িত্বশীল অপরাজিত ইনিংস হাসি ফোটাল পঞ্জাব শিবিরে।
উইকেটে জিতলেও ঘরের মাঠে শ্রেয়সেরা যতটা সহজে জয় পাবেন মনে হয়েছিল, তা হল না। জয়ের জন্য ১৬৩ রান তাড়া করতে নেমে ২ উইকেটে ১১০ থেকে ১১৮ রানে ৬ উইকেটে পড়ে যাওয়ায় কিছুটা চাপে পড়ে যায় পঞ্জাব। লক্ষ্য খুব বড় না থাকায় সমস্যা হয়নি।
পঞ্জাবের ইনিংসের শুরুটাও ভাল হয়নি। দ্রুত আউট হয়ে যান ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য (৭)। এর পর ইনিংসের হাল ধরেন প্রভসিমরন সিংহ এবং কনোলি। প্রভসিমরন করেন ২৪ বলে ৩৭। মারেন ১টি চার এবং ৪টি ছয়। তাঁকে আউট করেন রশিদ খান। কনোলি ২২ গজের এক প্রান্ত আগলে রাখলেও রান পেলেন না চার নম্বরে নামা শ্রেয়স। ২টি ছয়ের সাহায্যে ১১ বলে ১৮ রান করে আউট হলেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের বলে। তিনি আউট হওয়ার পরই চাপে পড়ে যায় পঞ্জাব। পর পর ফিরে যান নেহাল ওয়াধেরা (৩) এবং শশাঙ্ক সিংহ (৪)। চাপ আরও বাড়িয়ে দেন মার্কাস স্টোইনিস (০)। এই সময় বিপজ্জনক দেখাচ্ছিল প্রসিদ্ধকে। ১৫তম ওভারে শশাঙ্ক এবং স্টোইনিসকে পর পর আউট করে চাপে ফেলে দেন পঞ্জাবকে। তাঁকে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে নামিয়ে ছিলেন শুভমনেরা।
চাপ থেকে পঞ্জাবকে বের করেন কনোলিই। পর পর উইকেট পড়লেও মারার বল কাজে লাগিয়ে রান তুলে গিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ২২ গজে যোগ দেন মার্কো জানসেন। তিনিও আউট হয়ে গেলেন ৯ রান করে। তা-ও হাল ছাড়েননি অস্ট্রেলীয় ব্যাটার। জেভিয়ার ব্রাটলেটকে সঙ্গে নিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় এনে দেন দলকে। কনোলি শেষ পর্যন্ত ৪৪ বলে ৭২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন ৫টি চার এবং ৫টি ছয়ের সাহায্যে। ব্রাটলেট অপরাজিত থাকলেন ৫ বলে ১১ রান করে।
গুজরাতের সফলতম বোলার প্রসিদ্ধ ২৯ রানে ৩ উইকেট নিলেন। রশিদ ২৯ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন। কাগিসো রাবাডা ৩৪ রানে ১ উইকেট। অশোক শর্মার ১ উইকেট ৩১ রান। ২৭ রান দিয়ে ১ উইকেট নিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর।
এর আগে প্রত্যাশিত রান তুলতে পারেনি গুজরাত টাইটান্স। গত আইপিএলে সাই সুদর্শন এবং শুভমনের ওপেনিং জুটি গুজরাতকে বেশ কয়েকটি ম্যাচে জয় এনে দিয়েছিল। মঙ্গলবার সেই জুটি রান পেল না। টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়স। নিউ চণ্ডীগড়ের ২২ গজে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ সে ভাবে কাজে লাগাতে পারেনি গুজরাত। সুদর্শন রান পাননি। ১১ বলে ১৩ রান করে আউট হয়ে যান জানসেনের বলে। দক্ষিণ আফ্রিকার জোরে বোলারকে সামলাতে সমস্যায় পড়েছেন গুজরাতের অন্য ব্যাটারেরাও। শুভমন ২৭ বলে ৩৯ রান করলেও প্রত্যাশিত গতিতে রান তুললে পারেননি। ৬টি চার এসেছে শুভমনের ব্যাট থেকে। যুজবেন্দ্র চহালের বলে আউট হন তিনি। তিন নম্বরে নেমে রান তোলার গতি বাড়াতে পারেননি ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জস বাটলারও। কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন গ্লেন ফিলিপস। কিউয়ি ব্যাটার করেন ১৭ বলে ২৫। মারেন ১টি চার এবং ১টি ছক্কা। বিজয়কুমার বৈশাখের বলে ছয় মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন তিনি। ফিলিপস আউট হওয়ার পর বাটলারের সঙ্গে যোগ দেন ভারতীয় দলের অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন। তাতে লাভ অবশ্য হয়নি। বাটলার ৩৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হন চহালের বলে। ভরসা দিতে পারেননি ওয়াশিংটনও। করেন ১৬ বলে ১৮। ব্যর্থ শাহরুখ খানও (৪)। শেষে রাহুল তেওয়াটিয়া অপরাজিত থাকেন ১১ রানে।
আরও পড়ুন:
পঞ্জাবের সফলতম বোলার বৈশাখ ৩৪ রানে ৩ উইকেট নেন। ২৮ রানে ২ উইকেট চহালের। জানসেন ১ উইকেট নেন ২০ রান খরচ করে। শেষ ওভারে একগুচ্ছ ‘নো’, ‘ওয়াইড’ বল করে দলের লক্ষ্য বাড়িয়ে দেন অর্শদীপ সিংহ। ৪২ রান দিয়েও উইকেট পাননি তিনি।